লেবানন আ’লীগের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস পালন

সময় বাংলা, লেবানন: রবিবার বৈরুতের লাইলাকির কামাল হোটেলের হলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লেবানন শাখার উদ্যাগে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস ২০১৭ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭মার্চের ভাষনের সিকৃতি পালন করা হয়েছে।

লেবানন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল মুন্সির সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জাকিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বৈরুত দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার।

বিশেষ  অতিথি  হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দূতাবাসের কাউন্সিলার সায়েম আহমেদ, লেবানন আওয়ামী লীগের আজীবন সদস্য আবুল বাশার প্রধান, সহ সভাপতি ও মহিলা বিষয়ক সভাপতি সুফিয়া আক্তার বেবী, প্রধান উপদেষ্টা আশফাক তালুকদার, উপদেষ্টা দুলা মিয়া, কাজল মিয়া, সহ সভাপতি মানিক সরকার, মশিউর রহমান টিটু, মোহাম্মদ আলী, সৈয়দ বাবুল, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক লোকমান হোসেন, লেবানন শ্রমিক লীগের সভাপতি রানা ভূইয়া, শ্রমিক কল্যান সংগঠনের সভাপতি ওসমান গনী।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন সহ সভাপতি রুবেল আহমেদ ও বিশেষ বক্তা ছিলেন সাধারন সম্পাদক তপন ভৌমিক, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আলমগীর ইসলাম।

বক্তরা মুক্তিযোদ্ধের সকল শহীদদের শ্রদ্ধা ভরে স্বরণ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষন ইউনেস্কোর সিকৃতি বাঙ্গালী জাতির জন্য আরেকটি বিজয়।  বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারাদিয়ে বাংলার জনগন সেদিন যেভাবে অস্ত্র হাতে নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করতে যুদ্ধ করে বাংলার জয় ছিনিয়ে এনেছিল বলেই এই বিজয় দিবস পালন করতে পারছি।  বঙ্গবন্ধুর ভাষনকে সিকৃতি দেয়ায় ইউনেস্কোকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান নেতৃবৃন্দ।

অসাধু দালাদের কঠোর সমালোচনা করে রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার বলেন, যারা জালভিসা দিয়ে মানুষকে ঠকিয়ে মিথ্যা বলে টাকা নিচ্ছেন, যারা লেবাননে শ্রমিক এনে ছেড়া দিচ্ছে, কাজ পেল কি পেলনা এমন খবর নিচ্ছেনা।   মিথ্যা বলে যারা সাধারন মানুষকে ঠকিয়েছেন, যারা লেবানিজ দিয়ে প্রবাসীদের হয়রানী করছেন, তাদের  কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি বলেন, প্রতারক যত শক্তিশালী হোক না কেন, আগেও পার পায়নি ভবিষ্যতেও পাবে না।  এদের দমাতে প্রয়োজনে সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করা হবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, একটা লোক লেবানন আসতে সরকারী খরচ আর দালালদের মুনাফা সহ ৩ হাজার আমেরিকান ডলারের বেশী লাগে না।  অথচ প্রতারকরা প্রতি ভিসা জন্য ৫হাজার থেকে ৭ হাজার ডলার পর্যন্ত নিচ্ছে।  আর অসহায় সেই লোকটি লেবানন এসে তার আসল টাকা তুলতেই ৩-৪ বছর লেগে যায়।  এবিষয়ে সকলকে সতর্ক হতে বলেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, যেখনে অন্যান্য দেশের লোকদের  লেবানন আসতে ২ থেকে আড়াই হাজার ডলারের মত লাগে সেখানে বাংলাদেশী দালাল চক্রের লোভের কারনে এত পরিমান টাকা লাগে।  রাষ্ট্রদূত সকল দালালদের হুশিয়ার করে দেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, জানা গিয়েছে লেবাননের নাকি বাংলাদেশ থেকে ইয়াবা আসছে, দেশের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে তিনি সাধারন প্রবাসীদের উদ্দেশ্য বলেন, যেখানেই এসব গাজা, ইয়াবা সেবন কারী বা পাচারকারী বাংলাদেশী দেখবে, প্রমান সহ ধরে বেঁধে রেখে দূতাবাসকে খবর দিবেন।  দূতাবাস এর ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

অনুষ্ঠানে লেবানন আওয়ামী লীগের অন্তর্ভূক্ত সকল শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও দূর দূরান্ত থেকে আগত প্রবাসীদের উপস্থিতিতে হলের কানায় কানায় পরিপূর্ন হয়ে উঠে।  সর্বশেষে স্বাধীনবাংলা শিল্পী গোষ্ঠির সৌজন্যে মনোঙ্গ সাংস্কৃতি পরিবেশন করা হয়।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন