লেবানন যুবকমান্ডের সভাপতি সৈয়দ আমীর হোসেনের উপর আ’লীগের হামলা (ভিডিও সহ)

সময়বাংলা, লেবানন : বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ও পূনর্বাসন সোসাইটির বৈদেশিক লেবানন যুবকমান্ড শাখার সভাপতি সৈয়দ আমীর হোসেন হামলার শিকার হয়েছেন।  গত মঙ্গলবার দাহিয়ার লাইলাকিতে কামাল কমিউনিটি সেন্টারে লেবানন শ্রমিক লীগ আয়োজিত মে দিবসের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার সময় হলের বাহিরে গাড়িতে উঠার সময় কয়েকজন আওয়ামী লীগ কর্মী সৈয়দ আমীরের উপর এই হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,পহেলা মে লেবানন শ্রমিক লীগের উদ্দোগে মে দিবসে সভার আয়োজন করা হয়।  আর সেই সভাতে যোগদেন সৈয়দ আমীর হোসেনের নেতৃত্বে তার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।  অনুষ্ঠান শেষে যখন সবাই চলে যাচ্ছিল, তখন স্থানীয় একদল লেবানন আওয়ামী লীগ কর্মী আতর্কিত ভাবে সৈয়দ আমীর হোসেনের উপর হামলা করে।  বিশাল এক পাথরের টুকরো দিয়ে সৈয়দ আমীরের মাথায় মারতে যায়, আর তারই সংগঠনের এক কর্মী হামিদ পাথরটি ধরে ফেললে শেষ রক্ষা হয় আমীরের কিন্তু সৈয়দ আমীর হোসেনকে বাঁচানোয় ক্ষোভ গিয়ে পড়ে হামিদের উপর।  কাঁচের বোতল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হলে সাথে সাথে মাথা ফেটে যায়। এবং তাকে প্রচন্ড ভাবে লাথি কিলঘুষি মারে এবং হামিদের পিঠেও ভাঙ্গা কাঁচের বোতল দিয়ে আঘাত করে আহত করে।  তাকে বাঁচাতে গেলে আরো কয়েক জন আহত হয়।  সে সময় শ্রমিক লীগের সভাপতি রানা ও একজন লেবানিসসহ বেশ কয়েকজন পরিস্থিতি সামলাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।  পরে গাড়ি চালক অনেক চেষ্টার পর গাড়ি নিয়ে চলে গেলে হামলাকারীরাও চলে যায়।

শ্রমিক লীগের সভাপতি রানা ভূইয়া জানান, হামলাকারী সবাই স্থানীয় প্রবাসী, এরা সবাই আওয়ামী লীগ কর্মী। আর সৈয়দ আমীর হোসেন সে নিজেও বঙ্গবন্ধু সৈনিক ও লেবানন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি।  এবং তিনি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ও পুনর্বাসন সোসাইটির অনুমোদিত বৈদেশিক লেবানন যুবকমান্ডের সভাপতি, তার উপর এই হামলা নিন্দনীয়।  যারা হামলা করেছে তারা কখনোই আওয়ামী লীগ কর্মী হতে পারেনা।  তিনি লেবানন আওয়ামী লীগের কাছে দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

সৈয়দ আমীর হোসেন বলেন, সন্ত্রাসীদের কোন দল হতে পারেনা।  হামলাকারীরা এবং তাদের হুকুমদাতারা নামধারী আওয়ামী লীগ।  তাদের দলীয় ভাবে বহিষ্কার করে সাংগঠনিক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, লেবানন নিজেদের দেশ নয়, এখানে কয়েক জন দুষ্কৃতিকারীর জন্য দেশে বদনাম হচ্ছে।  আজকে প্রকাশ্যে আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছে, কাল অন্য একজন কে মারবে। এই সমাজ এভাবে চলতে পারেনা। লেবাননে বাংলাদেশী প্রবাসীদের সুনাম রয়েছে, আর কয়েকজন সন্ত্রাসীদের জন্য অর্জতি সুনাম নষ্ঠ হতে পারেনা।

এদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

জানা যায়, এই শ্রমিক লীগ ছাড়াও লেবানন আওয়ামী লীগ আরেকটি শ্রমিক লীগ অনুমোদন করেছে।  এবং এই শ্রমিক লীগকে বিলুপ্ত ঘোষনা করেছে।  কোন কারণ দর্শানো ছাড়া শ্রমিক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা এবং নতুন শ্রমিকলীগ গঠন করা হঠকারিতা সিদ্ধান্ত বলে জানান লেবানন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কিছু নেতা।  আর তাদের মনগড়া কমিটি সৈয়দ আমীর হোসেন সহ অনেক নেতৃবৃন্দ ভালভাবে নেননি।  তাই শ্রমিক লীগের গঠিত নতুন কমিটির সভাপতি ওসমান গণীর দোকানের কর্মচারী এবং গঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ পরিকল্পিত ভাবেই এই হামলা চালান বলে জানান।

অন্যদিকে গতমাসে গঠিত নতুন শ্রমিক লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে লেবানন আওয়ামী লীগ নেতাদের বৈঠকের ছবি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ও পূনর্বাসন সোসাইটির বৈদেশিক লেবানন যুবকমান্ডে একাধীক নেতা। প্রকাশিত ছবির নেতা কর্মীরাই যে হামলা করেছে তা ভিডিও ফুটেজে প্রমান মিলেছে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যান ও পূনর্বাসন সোসাইটির বৈদেশিক লেবানন যুবকমান্ডের নেতৃবৃন্দ বলেন, সৈয়দ আমীর হোসেন একজন বঙ্গবন্ধু আদর্শে গড়া সৈনিক।  তিনি আওয়ামী লীগে দূর্নাম হয় এমন কাজে প্রতিনিয়তি প্রতিবাদ জানান।  প্রবাসীদের দুঃখ কষ্টে পাশে দাড়ান। আর একটি মহল আওয়ামী লীগের রাজনীতির ফায়দা লুটতে পারেনা বিধায় সৈয়দ আমীর হোসেনকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে।

নেতৃবৃন্দ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং হামলাকারী ও তাদের দোষরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর