শৈলকুপা থানায় ওসির ঘুষ বাণিজ্য, ঘুষ পেলে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদেরকেউ ছেড়ে দেন

জাহিদুর রহমান তারিক, সময় বাংলা, ঝিনাইদহ: গত বছরের ১৮ অক্টোবর ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মুক্তিযোদ্ধা মুক্তার আহম্মেদ মৃধার ওপর হামলার সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজটি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বাদীপক্ষকে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে ওসি তরিকুল ইসলাম বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাপ কমাতে থানার কম্পিউটার অপারেটর সজলকে বলির পাঠা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সজল বর্তমানে জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজড রয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে ওসি তরিকুল ইসলাম বর্তমান সেকেন্ড অফিসার ইকবাল হোসেনের মাধ্যমে হামলার ভিডিওচিত্রটি মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান সুমন মৃধাকে সরবরাহ করেন। নিয়মিত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদের নিকট থেকে টাকা না পেলেই তাদের আটক করে ওসি চালান দেন বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর। শৈলকুপা উপজেলার ছোট বোয়ালিয়া গ্রামের রাশেদুজ্জামান, দুলু রবিউল, তবারেক অভিযোগ করেন, সম্প্রতি জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবেশির সাথে তাদের বিরোধ হলে উভয়পক্ষকে ডেকে থানায় অভিযোগ নেন। পরে মিমাংসা করার আশ্বাস দিয়ে তাদের আত্মীয় ঝিনাইদহের দরিবিন্নী গ্রামের সোনা জোয়ার্দ্দারের মাধ্যমে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

দুধসর গ্রামের হত্যাকান্ডকে পুঁজি করে ওই গ্রামের অভিযুক্ত আসামিদের বাড়িঘর লুটের সহযোগিতা করে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওসি। তাদের অভিযোগ বাদীর পক্ষ নিয়ে গরু, ছাগল, ঘরের মালামাল, গাছপালা, ফসলাদি ফার্ণিচারসহ সর্বস্ব লুটপাটে ওসি তার অধীনস্থ এসআইদের মাধ্যমে ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। দেবি নগর গ্রামের হত্যাকান্ডে বাদীর পক্ষ নিয়ে বাড়ি ঘর ভাংচুর লুটপাটে সহযোগিতা ঘরের মালামাল, গাছপালা, ফসলাদি ফার্নিচার বিক্রি করে নিয়েছেন আস্থাভাজন এসআইদের মাধ্যমে। এছাড়া দেবিনগর গ্রাম থেকে আসামীদের বড় বড় মেহগনি গাছ কেটে তিনি তার গ্রামের বাড়িতে ফার্নিচার বানানোর জন্য সবগুলো লগ নিয়ে গেছেন। তাছাড়া কিছুদিন পুর্বে উমেদপুর ১৩নং ইউনিয়নে শামিম মোল্লা গ্রুপ বনাম বাবুল গ্রুপের মধ্যে মারামারি হলে উভয় পক্ষ থেকেই ওসি কয়েক লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেই।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কাতলাগাড়ী অবৈধভাবে বসানো গরুর বাজারের জন্য তাকে ইতিমধ্যে হাটপরিচালনা কমিটি ৩টি ছাগল দিয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। তিনি কাতলাগাড়ি বালিমহল থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের জন্য নিয়মিত টাকা আদায় করেন। উপজেলার শেখপাড়া, লাঙ্গলবাঁধ, কচুয়া, চড়িয়ালবিল হাটফাজিলপুর এলাকার মাদক কারবারিদের নিকট থেকে নিয়মিত উৎকোচ গ্রহণ করেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানিয়েছেন। ওসির দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় কাতলাগাড়ী বাজার সংলগ্ন আজিম উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী প্রায় এক মাস বাড়ি ছাড়া। তিনিও জমাজমি সংক্রান্ত অভিযোগ করেছিলেন কিন্তু টাকা না দেওয়ায় তার উপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। আজিম উদ্দীনের অভিযোগ নিয়মিত টাকা না দেওয়ায় তাকে বাড়ি ছাড়াতে হয়েছে।

সম্প্রতি মাদক সম্রাট বকুল জোর্য়াদ্দারের সাথে থানায় বসে গোপন বৈঠক করেন ওসি তরিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক তোড়পাড় সৃষ্টি হয়। ওসির দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় আবাইপুর ইউনিয়নের মীনগ্রামের নিমাইকে মামলা ছাড়াই আটক করে পুলিশ। এরপর ১০ পিস ইয়াবা ও ৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে একটি মাদক মামলা দেয়া হয়। দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আরো দুইটি মামলা দিয়ে চালান দেয়া হয় আদালতে। বর্তমানে সে জেলহাজতে আছে।

২০১৪ সালে মেহেরপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) থাকাকালে তরিকুল ইসলাম একটি চুরি মামলার বাদী মেহেরপুর শহরের ক্যাশবপাড়ার সাহেব আলীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করে। সেসময় মেহেরপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী সাহেব আলী হাজির হয়ে ওসি (তদন্ত) তরিকুল ইসলামের নামে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ এনে জবানবন্দি দেন। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট মতিয়ার রহমান বিষয়টি আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের নির্দেশ দেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে শৈলকুপা থানার ওসি তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন