সিঙ্গাইর কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি মিরু গ্রেফতার,নেপথ্যে এমপি মমতাজ

সময়বাংলা ডেস্ক : মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ও উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ফারুক হোসেন মিরুকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।গত শুক্রবার (১১ মে) দিবাগত রাতে আটক করার পর ৫ পিছ ইয়াবাট্যাবলেট জব্দ দেখিয়ে শনিবার তাকে মাদক মামলায় জেলহাজতে পাঠায় থানা পুলিশ। ছাত্রলীগ নেতা মিরুর পরিবার ও তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের অভিযোগ, সে মাদকব্যবসার সাথে কখনো জড়িত নয়।সিঙ্গাইর পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এমপি মমতাজ বেগমের সাথে তার মতবিরোধ হয়। এই সৃষ্ট বিরোধের জেরে এমপির নির্দেশে মিরুকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হোসেন মিরুকে মাদক মামলায় জেলহাজতে পাঠানোয় স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে মিশ্র প্রতিকিয়া দেখা দিয়েছে। তারা এঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সিঙ্গাইর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ও উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ফারুক হোসেন মিরু দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছিল। গত শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে পৌরসভার আজিমপুর রংয়ের বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে ৫ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে ভিপি ফারুক হোসেন মিরুর পিতা আব্দুল কাদের ও তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে সিঙ্গাইর পৌরসভা ও সিঙ্গাইর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে মিরু ও স্থানীয় এমপি মমতাজ বেগমের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। গত শুক্রবার (১১ মে) সন্ধায় মিরু ও তার অনুসারীদের না জানিয়ে এমপি মমতাজ বেগমের নির্দেশে সম্পূর্ণ এখতিয়ার বর্হিভূতভাবে ছাত্রলীগের এই দুটি ইউনিটের কমিটির অনুমোদন দেয় উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক শাহীনুর রহমান শাহীন ও যুগ্ম-আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল-মামুন। বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষনিকভাবে ওই দিন রাতে ছাত্রলীগের ওই দুই ইউনিটের পাল্টা কমিটি করে ফেসবুকে পোষ্ট দেয় মিরুসহ উপজেলা ছাত্রলীগের দুই যুগ্ম-আহবায়ক জাফর তালুকদার ও জাহাঙ্গীর আলম ফাহিম। এতে স্থানীয় এমপি কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম মিরুর উপর অসন্তোষ্ট হন। এরই জেরে এমপির নির্দেশে মিরুকে বাড়ি থেকে ধরে এনে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক জাফর তালুকদার ও জাহাঙ্গীর আলম ফাহিম বলেন, পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রলীগ জেলা কমিটির নিয়ন্ত্রণে। জেলা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে এ দুই ইউনিটের কমিটি করার এখতিয়ার উপজেলা ছাত্রলীগের নেই। এমপি মমতাজ বেগমের নির্দেশে উপজেলার ছাত্রলীগের আহবায়ক শাহীনুর রহমান শাহীন ও যুগ্ম-আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল-মামুন নিজেদের পছন্দের লোক দিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পৌর ও কলেজ শাখার কমিটির অনুমোদন দেয়। বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষনিকভাবে ছাত্রলীগের জরুরী বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে ওই দুই ইউনিটের পাল্টা কমিটি করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও ফেসবুকে পোষ্ট দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষনা করার পর রাত ১১টার দিকে ফারুক হোসেন মিরুকে বাড়িতে পৌছে দিয়ে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়। এদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিরুকে তার বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় থানা পুলিশ। পরের দিন সকালে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক সায়েদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বারেক খান, ওবাইদুল হক ও শওকত হোসেন বাদলসহ অনেক নেতৃবৃন্দ থানায় গিয়ে পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেনকে মিরুকে আটকের কারণ ও তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এসময় ওসি বিষয়টি নিয়ে এমপির সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। এমপি ম্যাডাম যা বলবেন তাই হবে। এর বাইরে করার কিছু নাই বলে জানিয়ে দেন তিনি। এই দুই ছাত্রলীগ নেতা আরো জানান, দলের সিনিয়র নেতাকর্মীদের মাধ্যমে বারবার চেষ্টা করেও এমপির মন গলানো যায়নি। পরে নানা নাটকীয়তা শেষে ৫পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ দেখিয়ে মাদকদ্রুব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় মিরুকে আদালতে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা জানান, এমপি মমতাজ বেগমের হাত ধরেই ফারুক হোসেন মিরুর রাজনৈতিক উত্থান। তার আর্শিবাদে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ও সিঙ্গাইর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি হয়েছে মিরু। যদি ভূল করে থাকে বা কোন কারণে এমপি তার উপর অসন্তোষ্ট হন, সেই ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারতেন। দলের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মাদকব্যবসাসহ অনেক গুরুতর অভিযোগ থাকলেও এমপির লোক বলে তাদের কেউ কিছু বলছেনা। প্রশাসনও তাদের ব্যাপারে নীরব। ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে ফারুক হোসেন মিরুকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।এতে দেশের ঐতিহ্যবাহি ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ তথা পুরো আওয়ামীলীগের ভাবমুর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। এমপির কাছ থেকে নিজ দলের নেতাকর্মীদের প্রতি এমন আচরণ কখনো কাম্য নয়।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক হোসেন মিরুকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ায় আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে মিশ্র প্রতিকিয়া দেখা দিয়েছে। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ভিপি ফারুক হোসেন মিরুর বাবা ও তার স্বজনদের অভিযোগ সত্য নয়। মাদকের সুনিদিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। কারো নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করা হয়নি।

অপরদিকে ঘটনার দিন গ্রেফতারকৃত ফারুক হোসেন মিরুর গ্রেফতারের প্রতিবাদ ও তার মুক্তির দাবিতে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা থানার সামনে অবস্থান নেওয়া চেষ্টা করে। তখন লাঠিচার্জ করে সেখান থেকে তাদের তাড়িয়ে দেন পুলিশ।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন