”সৌদি আরবের সাথে মিলিয়ে রোযা রাখা ও ঈদ পালন প্রসঙ্গে” এড. মোঃ সলীমুল্লাহ খান

সময় বাংলা:আমি ইসলামিক স্কলার নই, তবে জ্ঞান অর্জনের জন্য যতটুকু জেনেছি, বুঝেছি তার আলোকে লিখবো। এ জন্যে বলছি, ইসলামী চিন্তাবিদ পরমানু বিজ্ঞানী এম শমসের আলীর আলোচনাও টিভিতে দেখলাম, উনারও এই বিষয়ে মতামত আমার নিকট সঠিক মনে হয়নি:

কোরআন কে বলা হয় থিওরী আর রাসুল (সঃ) এর সিরাত বা নবূয়তী জিন্দেগী, বলা হয় প্র্যাকটিকেল, এটা আমরা সবাই মানি। জীবন্ত কোরআন হলো আমাদের নবী করীম (সঃ) এর জীবন। তাই আমাদের কোরআন এবং হাদীস ছাড়া অন্য কোন পন্থা অবলম্বনের প্রয়োজন পরলে তারও বিধান রয়েছে ”শরীয়াত” এর বিধান, নতুন কোন পদ্ধতি নিজ থেকে চালু করার অধিকার আমাদের নেই।

গত এক দশকের বেশী হবে বিশেষ করে চাঁদপুর জেলার কয়েকটি গ্রামে প্রথম চালু হয় এই নতুন প্রথা ”সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রোযা ও ঈদ পালন করা, কোরবানী দেয়া”

কোন যুক্তিতে তারা এটা করছেন তার সঠিক কোন দলিল পেশ করতে পারেননি। যেভাবে নতুন নতুন গ্রাম প্রতি বছর যোগ দিচ্ছেন, এক সময় দেখা যাবে এতো লোক একসাথে ঈদ করে আমরা কেন আগের নিয়মে করবো, আমরাও করা শরু করতে হতে পারে। সঠিক হলে আমরা সবাই করা উচিত, রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্দেশ দিয়ে পালন করা উচিত, আর যদি সঠিক না হয় তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাহা নিষিদ্ধ করার আদেশ দেয়া অতি জরুরী। ইসলামিক ফাউন্ডেশণ এর বক্তব্য আসা উচিত তাদেরকে এমন একটি বড় বিষয়ে নির্লিপ্ততা গ্রহণ যোগ্য হতে পারেনা, দরকার রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ।

চাঁদ দেখে রোযা রাখা শুরু আবার চাঁদ দেখে বন্ধ করে ঈদ পালন করার বিধান বদল করে যারা সৌদি আরবের সাথে মিলিয়ে করার বিধান চালু করেছেন, এখন যেভাবে লাইভ ষ্টাইল শুরু হয়েছে, সৌদি আরবের জুমআর খুৎবাহ লাইভ করা হচ্ছে, এক সময় দাবী আসতে পারে নামাজও সৌদির সাথে মিল রেখে করার। কিন্তু সেটা কি কখনো বাস্তব সম্মত হবে? আমার দৃষ্টিতে হবেনা।

যেমন রোযা রাখলেন সৌদির সাথে মিল রেখে একদিন আগে থেকে কিন্তু সেহেরী ইফতার করলেন বাংলাদেশ সময়ে, তারাবীহ পরলেন। আল্লাহ সময়কে ভাগ করেছেন নামাজের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সেটা কি করে পরিবর্তন করবেন। সৌদিতে যখন সূর্যাস্ত যায় তখন আমাদের দেশে কি সূর্যাস্ত যাবে, কখনো মিল করা যাবেনা। পৃথিবীর আহ্নিক গতি, আর বার্ষিক গতিকে কি আমরা অস্বীকার করতে পারবো। রোযা নামাজের সময়সূচী নির্ধারিত করা আছে, কয়েক দিন পর পর কিন্তু বিশেষ করে ফজর, আছর এবং মাগরিবের সময়সূচী পরিবর্তন করা হয়, ইফতারের সময় পরিবর্তিত হয়। ঢাকা ইফতার ৪মিনিট পরে, কুমিল্লা ঢাকা থেকে ৪মিনিট আগে ইফতার করা হয় বা এভাবে হয়ে আসছে। প্রতিদিন আপনি আগের নিয়মে রোযা নামাজ করবেন শুধু ঈদ আর রোযা একদিন আগে সৌদির সাথে মিলিয়ে করলেন, সেটাকি যুক্তিসঙ্গত??

যদি মিলিয়ে করার চিন্তা থেকে করে থাকেন, তারপরও চিন্তার বিষয় ”মিলাতে পেরেছেন কিনা” মিলার প্রশ্নই উঠেনা। তাই এই বিষয়ে আমি ”ইসলামিক ফাউন্ডেশণ” এবং বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত আসলে তখন এসব অবৈজ্ঞানিক অনইসলামিক কাজ বন্ধ হবে বলে আশা করা যায়।

নাহলে দেখা যাবে রাতের ১০ টার সময় জোহর নামাজ, সকাল ১০টায় ফজর, এই ধরনের কর্ম শুরু করতে হবে বা শুরু হবে। তাই তড়িৎ পদক্ষেপ প্রার্থণা ও কামনা করছি।

আমি সকলের মতামত ও সমাধান চাই

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন