স্মিথ-ওয়ার্নারের নিষেধাজ্ঞায় যা বললেন সাবেকরা

সময়বাংলা, খেলা: কেপ টাউন টেস্টে বল টেম্পারিংয়ের দায়ে এক বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন স্টিভেন স্মিথ ও  ডেভিড ওয়ার্নার। আগামী একবছর তারা খেলতে পারবেন না আইপিএল ও অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে। নয় মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন আরেক ক্রিকেটার ক্যামেরন ব্যানক্রফট।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) এমন সিদ্ধান্তের পর দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এই সিদ্ধান্তকে কেউ বলছেন, ‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’। কেউ বলছেন, ‘অনুচিত’। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক থেকে শুরু করে জনপ্রিয় ক্রিকেট বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে; সকলেই এ ঘটনায় জানিয়েছেন প্রতিক্রিয়া। এর জন্য তারা বেছে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারকে।

কেপ টাউন টেস্টে বল টেম্পারিং কাণ্ডে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ক্লার্ক। অনুজদের এমন কর্মকাণ্ডের পর তিনি টুইট করেছিলেন এভাবে, ‘এসব কী! আমি কেবলমাত্র ঘুম থেকে উঠেছি। কেউ আমাকে বলুক, এটা একটা দুঃস্বপ্ন।’

আরেক টুইটে তিনি লেখেন, ‘পুরো ঘটনা, দায়িত্ব, লিডারশিপ গ্রুপ নিয়ে সকল সত্য সামনে না আসা পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট গভীর বিপদে।’

হার্শা ভোগলে টুইটে লিখেছেন, ‘বল টেম্পারিং কাণ্ডে অন্য কোনো দেশ তাদের অধিনায়ক ও শীর্ষ ক্রিকেটারকে ১২ মাসের জন্য নিষিদ্ধ করতো বলে আমি বিশ্বাস করি না।’

পরবর্তী টুইটে আগামী ক্রিকেট বিশ্বকাপের কথা টেনে তিনি লেখেন, ‘১২ মাসের নিষেধাজ্ঞা খুব কঠোর সিদ্ধান্ত। আমার ভাবনা, এই নিষেধাজ্ঞা ছয় মাসের জন্য হলে ভালো হতো। যদিও তা অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের অস্থিরতার সাক্ষী দেয়। তারা দুজন ভারত সিরিজে খেলতে পারবে না এবং বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য খুব কম সময় পাবে।’

ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার জিওফ্রে বয়কট অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে টুইটারে লিখেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকদের জন্য বিষয়টি দুঃখজনক। কারণ তারা জানে ক্রিকেট খেলা কতটা কষ্টসাধ্য। প্রতারণা সবচেয়ে খারাপ জিনিস, যা তারা করেছে। তবে বল টেম্পারিংয়ে জড়িতদের শাস্তি দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।’

সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন ভাবছেন একটু অন্যভাবে। ওয়ার্নারকে খোঁচা দিয়ে তিনি টুইট করেন, ‘স্টিভ স্মিথ, আমি মনে করি সে ভালো মানুষ, যিনি কিনা খুব বড় ভুল করেছেন। শাস্তি তার প্রাপ্য, কিন্তু যা হয়েছে সেটা কঠোর। ব্যানক্রফট যাকে আমি ওভাবে চিনি না, সে বিপথে গিয়েছে। শাস্তি তারও প্রাপ্য, কিন্তু শাস্তির মাত্রাটা বেশি। কিন্তু আরেকজনকে (ডেভিড ওয়ার্নারকে ইঙ্গিত করে) নিয়ে আমি মোটেও ভাবছি না।’

অস্ট্রেলিয়ার কোচ ড্যারেন লেহম্যানের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ে কেভিন পিটারসেন লিখেছেন, ‘আমি সকালে উঠে স্মিথ-ওয়ার্নার-ব্যানক্রফটদের শাস্তির খবর পেয়েছি। হ্যাঁ, তারা জড়িত ছিল বল টেম্পারিংয়ে, এর জন্য শাস্তিও পেয়েছে। কিন্তু আমি ভয়ে আছি যে, এই ঘটনায় হয়তো আরও কেউ জড়িত ছিল।’

 

সময়বাংলা/আইজু

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন