হার্ডলাইনে আওয়ামী লীগ-বিএনপি

সময় বাংলা ডেস্ক: নতুন বছরের শুরুতেই রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং ক্ষমতায় ফিরে আসার লড়াইয়ে টিকে থাকতে দুই দলই হার্ডলাইনে অবস্থান নিয়েছে।

টানা ৯ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে জিতে আবারো ক্ষমতায় আসতে চায়। অপরদিকে সংসদের বাইরে থাকা প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপিও যেকোনো মূল্যে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। তবে দলটি নিরপেক্ষ ও নির্দ্বলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। ফলে রাজনীতির মাঠে উত্তাপ ছড়ানোর পর দু’দলের অনড় অবস্থান দেশের সাধারণ মানুষকে শঙ্কিতও করেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পদ্মা সেতুতে না উঠার যে পরামর্শ দিয়েছেন তার জবাব দিয়ে বলেছেন, বিএনপিই একটি জোড়াতালির দল। না বুঝেই তিনি এসব কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গণভবনে একথা বলেছেন।

এর আগে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়াও বলেছেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে কেউ বাইরে রাখতে পারবে না। নির্দ্বলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার অবস্থানেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বেগম জিয়া।

এদিকে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ গুছাতে শুরু করেছে অনেক আগে থেকেই আওয়ামী লীগ। নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও প্রার্থী নির্বাচনে ক্লিন ইমেজের তরুণ এবং গ্রহণযোগ্যদের প্রার্থী করার ইঙ্গিত আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা গত বছরই দিয়েছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, বিএনপির সামনে আরো কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। মামলার জালে বন্দি বিএনপিকে আদালত পাড়ায় দৌঁড়াতে দৌঁড়াতেই সময় পার করতে হতে পারে। কারণ বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরেশোরেই উত্তেজনার বাতাস বইতে শুরু করেছে। এখনো পর্যন্ত বিএনপি রাজনৈতিক মাঠ দখল করতে পারেনি। কারণ সাংগঠনিকভাবে দলটি অনেক আগেই পঙ্গুত্ব বরণ করে বসে আছে। নেতাকর্মীদের মাথার ওপর হাজার হাজার মামলার কারণে তারা বেরও হতে পারছেন না। ভবিষ্যতে খালেদা জিয়ার যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে যাওয়ার যে হুমকি তা কতটা সফল হবে তা সময়ই বলে দেবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল ঘোষণা দিয়েছেন, বিএনপি-জামায়াত ভোটের দাবিতে রাজনীতি করতেই পারে। কিন্তু এর নামে কোনো বিশৃঙ্খলা যদি করতে চায় তবে কঠোর হস্তে তা দমন করা হবে।

এছাড়া ৫ জানুয়ারিতে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি না দেয়ায় প্রতিবাদ কর্মসূচী ঘোষণা করেছে দলটি। তবে সেই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলেও সরকারের প্রশাসন করতে দিবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। উল্লেখ্য, শুক্রবার ৫ জানুয়ারিকে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র রক্ষা দিবস হিসাবে বিজয় র‌্যালি করবে। কিন্তু বিএনপিকে কোনো সভা-সমাশের অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে খালেদা জিয়ার বক্তব্য বিএনপির নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করলেও মামলার ভয়ে তারা ভীত। পুরোনো মামলাতে বিএনপির নেতাকর্মীদের আবার জেলে যেতে হতে পারে।

পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, পরিস্থিতি খুব বেশি সন্দোষজনক নয়। নতুন বছরের শুরুতেই হার্ডলাইনে অবস্থান নেয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তি সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন