১৫ ঘন্টা ব্যাপী ক্যান্টনমেন্টে ইউপিডিএফ নেতাকে আটক ও নির্যাতন!

মাইকেল চাকমা জুম্ম

সময় বাংলা, বান্দরবন: ইউপিডিএফ-এর বান্দরবান জেলা সমন্বয়ক ছোটন কান্তি তংচঙ্গ্যার বিরুদ্ধে কোন মালার ওয়ারেন্ট ছিল না। সে এলাকার দাগি আসামীও নয়। তথাকথিত আইন শৃঙ্খলার অবনতি হয় এমন কাজও করেননি। সোজা কথায় তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অভিযোগ আনার মতো কিছুই ছিল না। বরং তিনি বিগত নবব ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একজন দেশের গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক। তাঁকে প্রচলিত আইন মেনে নয়, রাষ্ট্রের আইন কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, সে কেবল সামরিক ক্ষমতার জোর, অস্ত্রের জোরে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কায়দায় মধ্য রাতে তুলে নেয়া হয়। তাঁকে কারড় পাল্টানোর সুযোগটাও দেয়া হয়নি। এরপর সামরিক ক্যান্টনমেন্টে প্রায় ১৫ ঘন্টা নির্যাতন চালানোর হয়। অবশেষে দেশের প্রগতিশীল গণতন্ত্রমনা নাগরিকদের তীব্র প্রতিবাদের মূখে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

ছোটনরা দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করেন নি। প্রচলিত আইনকেও অমান্য করেন নি। শহীদ মিঠুন চাকামর স্মরণে একটি স্মরণসভা আয়োজন করতে চেয়েছিলেন মাত্র। এটা অত্যন্ত ন্যায্য এবং সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক গণতান্ত্রিক নাগরিক অধিকার। এই আয়োজন সংবিধানের কোন ধারা অথবা প্রচলিত আইনের কোন ধারা উপ-ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে সেটা ক্যান্টনমেন্টের জঙ্গলি শাসকরাই ভালো ব্যখ্যা দিতে পারবেন। এর ব্যাখ্যা আদালত পাড়ার কোন জজ উকিল ব্যরিস্টার দিতে পারবেন না। সহযোদ্ধার প্রতি এই ভালোবাসা, শ্রদ্ধা জানানো ও স্মৃতিচারণমূলক সভা আয়োজন যে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ, পার্বত্য চট্টগ্রাম যে দেশের প্রচলিত আইন দিয়ে শাসিত হয় না, জঙ্গলি আইন দিয়ে চলে, সরকার তা বিধি মোতাবেক প্রজ্ঞাপন জারি করে বলে দিলেই তো হলো!

স্মরণসভা আয়োজনের মতো এই একটি অপরাধে ইউপিডিএফ নেতা ছোটন কান্তি তংচঙ্গ্যাকে ওঁরা নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেল। সারারাত ক্যান্টনমেন্টে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালালো। পার্বত্য চট্টগ্রামে কেবল বাঙলা এবং বাঙালি থাকবে বলে হুমকি দেয়া হলো। বাঙলা তাঁর মাতৃভাষা নয় বলার কারণে মারধর করা হলো। তাই স্বাভাবিকভাবে যে কারো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে- আমাদের মহান দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী কোন দিক দিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের থেকে পৃথক হলো? এ তো স্বাধীন বাঙলার খাঁটি পাক হানাদারের বাঙালি ভার্সন!

দেশের বিদ্যমান সংবিধান কার জন্য? পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনের জন্য কি আলাদা কোন সংবিধান রয়েছে? যদি না থাকে তাহলে এ অংশটি শাসিত হচ্ছে কিসের ভিত্তিতে? কিসের ‍উপর দাঁড়িয়ে? ছোটন কান্তিকে ছেড়ে দেয়া হলো বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়ে। এর প্রধান শর্ত হলো শহীদ মিঠুন চাকমার স্মরণসভা কোনভাবে করা যাবে না। হায় জঙ্গলিতন্ত্র! এটা তো তৎকালিন পাক হানাদার বাহিনীরা করতো পূর্ব বাঙলায়। এখন তো ওঁরা নাই, তাহলে পাহাড়ে এঁরা কারা? পাক হানাদার বাহিনীর প্রেতাত্মা নয় তো?

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন