৭১ভাগ কোটা চেয়ে যা বললেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান

সময়বাংলা ডেস্ক : অনেকেই আমাকে ইনবক্সে জিজ্ঞেস করছেন আমি কেন কোটা নিয়ে কিছু লিখছিনা। লিখছিনা কারণ আমি এই কোটা সংস্কারের সম্পূর্ণ বিরোধী। একজন সচেতন দেশপ্রেমীক হিসাবে আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই জিনিসের বিরোধিতা করা। কোটা পদ্ধতির সংস্কার যদি হতেই হয় তবে সেটা শুধুমাত্র একটা পদ্ধতিতে হতে হবে আর সেটা হলো মহান একাত্তরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন পূর্বক মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৭১% করতে হবে। আর খেয়াল রাখতে হবে মুক্তিযোদ্ধার নাতী নাতনী সহ বংশ পরস্পরায় অন্তত ৭১ প্রজন্ম পর্যন্ত এই সুবিধা যেন নিশ্চিত হয়। সাথে নারী কোটা ১০% এবং প্রতিবন্ধী আর আদিবাসী কোটা ৫% করে মোট ১০%। সব মিলিয়ে ৯১% কোটা আর বাকি ৯% পার্সেন্ট মেধা করা হোক। যাদের সত্যিকারের মেধা আছে তারা আশা করা যায় এই নয় পার্সেন্টের মধ্যে থেকেই নিজেদের জন্য চাকরী নিশ্চিত করতে পারবে। আর যারা পারবে না তারা তাদের মেধা নিয়ে বিদেশে গিয়ে বিশ্বের উন্নতি করে বেড়াক। কোটাহীন উন্নয়ন আমরা চাইনা। আমরা আর ছয় বছর পর উন্নয়নশীল দেশের খেতাব পেতে পারি, এইটুকু আশ্বাসেই খুশি।
.
কাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যেসব সন্ত্রাসী ছাত্র বাহিনী ভয়ংকর আন্দোলন করছে তাদের উপর পুলিশ ভাইদের শান্তিপূর্ণ লাঠিচার্জ এবং টিয়ারশেল ও রাবারবুলেট নিক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। এই শান্তিপূর্ণ আক্রমণে যেসব ছাত্র প্রতিবন্ধী কোটা পাওয়ার আশায় আহত হওয়ার নাটক করছে অবিলম্বে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি। এইসব কোটাহীন কুলাঙ্গাররা দেশকে আফগানিস্তান বানানোর পায়তারা করছে। এদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের মতন লড়ে যাওয়া পুলিশ ভাইদেরকে নতুনভাবে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট প্রদান করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করছি।
.
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি ঘাবড়াবেন না। যারা কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে বা সেই আন্দোলন সমর্থন করছে তারা সংখ্যায় কয়েক কোটি মাত্র। কোটা সংস্কারের বিরুদ্ধে আমরা হাজার হাজার জনতা আজ একজোট। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমাদের যেহেতু ভোট লাগে না সেহেতু আপনি ঐ কয়েক কোটি দিয়ে কি করবেন? ওদেরকে কঠোর হস্তে দমন করুন। বাকি আমরা কয়েক হাজার দেশপ্রেমিক জনতা এই দেশে থাকলেই চলবে। দেশ এগিয়ে যাবেই। তারজন্য কয়েকশো বছর লেগে গেলেও আমরা হাল ছাড়বো না। আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবোই।
.
পরিশেষে আন্দোলনকারী ছাত্রদের বলছি, আপনাদের যদি এতোই মেধা থাকে তো চাকরীর কি দরকার? ব্যাবসা করুন। তাও না পারলে বসে বসে বাপের হোটেলে খান। আপনাদের পরিবারের কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেনি মানে আপনারা এই দেশের জনগনই না। দেশের কোনো সুযোগ সুবিধা ভোগ করার অধিকার আপনাদের নেই। মনে রাখবেন, একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সবার অধিকারের জন্য যুদ্ধ করেনাই, শুধুমাত্র নিজেদের পরিবারের সুযোগ সুবিধা দেয়ার জন্য যুদ্ধ করেছিলো।

ধন্যবাদ।

সোহেল রহমান

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন