বিজয় দিবস সকল বাংলাদেশীদের কোন দলের নয় বলে পর্তুগালের সংবাদ সম্মেলন

>রনি মোহাম্মদ/লিসবন,পর্তুগাল :
libson protestপর্তুগালের রাজধানী লিসবনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে পর্তুগালের বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের এবং কমিউনিটির, এমনকি সামাজিক সংগঠনের নেত্রীবৃন্দের পাশ কাটিয়ে ব্যক্তি বিশেষকে সাথে নিয়ে পালনের কারণে এখানকার বসবাস সধারন প্রবাসী বাংলাদেশী সহ কমিউনিটির সর্বস্থরে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মহান বিজয়ের ৪৫ বছর পুর্তি উপলক্ষে দুতাবাসের নেয়া কর্মসুচীতে পর্তুগালের বসবাসরত প্রবাসীদের প্রবেশ নিষেধ এমনকি কমিউনিটির  গণ্যমান্য এবং সিনিয়র ব্যক্তিদের আমন্ত্রন না জানানো ও ১৬ ই ডিসেম্বর বিজয়ের প্রথম প্রহরে স্থানীয় শহিদ মিনারে দুতাবাসের কোন প্রতিনিধির উপস্থিতি না থাকায় এ ক্ষোভের জন্ম বলে সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে পেশ করেন বাংলাদেশ কমিউনিটি অফ পর্তুগালের নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক তাহের আহমদ।
১৬ ই ডিসেম্বর রাত সাড়ে আটটায় স্থানীয় কাজা দা কবিলা হলরুমে আয়োজিত উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বিক্ষুব্ধ প্রবাসিদের উপস্থিতে এক বিরাট প্রতিবাদ সভায় রুপ নেয়। বাংলাদেশ কমিউনিটি অফ পর্তুগালের প্রধান উপদেষ্টা ও পর্তুগাল বিএনপির প্রতিষ্টাতা সভাপতি ওলিউর রহমান চৌধুরির সভাপতিত্বে এবং সেভ বাংলাদেশ পর্তুগালের সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলম ও প্রতিবাদ সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি নেতা মার্তিম মনিজ জামে মসজিদের সভাপতি ব্যবসায়ি সোলেমান মিয়া, ইসলামিক ফোরামের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, পর্তুগাল বিএনপির সিনিয়ার সহ সভাপতি নজরুল শিকদার ও সহ সভাপতি এমদাদ মিয়া, সাবেক ছাত্রনেতা ও কমিউনিটি নেতা জুবায়ের মিয়া, জনাব সাইফুল শাহিন, মোশাররাফ হুসেন, জহির আহমদ, শামসুল ইসলাম, ওমর শরিফ, সম্রাট হুসেন, দৈনিক মুক্ত বাংলা পর্তুগালের প্রতিনিধি মাহবুব সুয়েদ সহ প্রমুখ। তাছাড়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সেলিম উদ্দিন ও রনি মোহাম্মাদ, বাংলাদেশ থেকে আগত পর্তুগালে সফরত ইউপি চেয়ারম্যান আকরামুল ইসলাম,পর্তুগালের ব্যাবসায়ি সেলিম চৌধুরি, রুবেল হুসেন, আবুল ফজল ওসমান, খসরু মিয়া সহ প্রমুখ।
সভায় বক্তরা লিসবনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রবাসে প্রতিটি দূতাবাস গোটা বাংলাদেশীদের প্রতিনিধিত্ব করে। অথচ আজ পর্তুগালের বাংলাদেশী দূতাবাসের আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্টানে কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এমনকি সধারন সাধারন প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাশ কাটিয়ে কোন স্বার্থান্বেষি মহলের ইন্দনে যেভাবে হীন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে তাতে করে এখানকার কমিউনিটির দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা সম্প্রীতি আর ঐতিহ্যের মধ্যে যদি কোন ফাটলের সৃষ্টি হয় তাহলে তার দায়ভার লিসবনস্থ হাইকমিশনকে বহন করতে হবে। লিসবনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের নিয়োজিত রাষ্ট্রদুত ইমতিয়াজ আহমদকে একজন ভদ্রলোক উল্লেখ করে বক্তারা বলেন আপনার কাছ থেকে আমরা অভিভাবকত্ব আর সম-আচরন আশা করি। তিল তিল করে গড়ে উঠা এ কমিউনিটির সম্প্রীতি আর মেলবন্ধন যাতে অব্যাহত থাকে সে ব্যাপারে হাইকমিশনের দৃষ্টি আকর্ষন করা হয় এবং পাশাপাশি যারা হাইকমিশনকে দিয়ে এমন হীন কান্ড ঘটিয়েছে তাদেরও মুখোস উন্মোচন করে সামাজিকভাবে তাদেরকে বয়কটের হুশিয়ারি উচ্চারন করা হয়।
সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন