নারী কি পন্য…?

মাসুদুর রহমান,মাসুদ/সময় বাংলা/ঢাকা :

আমি সামাজিক প্রানী আর তাই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই লিখাটি লিখছি…
নারী কি পন্য…?

dollসাদা আর কালো বাহিরে কেবল ভিতরে সবার সমান রাঙা। তাহলে সাদা কালোর কেন এত বিভেদ। সাদা কেন সুন্দর এটা জানতে কি খুব বেশী দুরে যেতে হবে। ৬০০বছর আগের কথা সাদা ইউরোপিয়ানরা আমাদেরকে বোঝাতে চেয়েছে সাদারাই শ্রেষ্ঠ। দেখাতে চেয়েছে সাদা মানেই সুন্দর। তারা আমাদের মাঝে এমন চিন্তা চেতনা ঢুকিয়ে দিয়েছে যা আমরা এখনও লালন পালন করছি।

আবার ইথিওপিয়াকে পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হিসেবে দেখানো হয় যার চিত্র না খাওয়া কালো মানুষগুলো। কিন্তু এই ইথিওপিয়া একসময় ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ। যখন গ্রীকরা বলত গডরা এসে ইথিওপিয়াদের সাথে পার্টি করত। বলতে গেলে এটা তাদের একটা বিশ্বাস ছিল। তখন কালোরা শাসন করত ক্ষমতা ছিল তাদের হাতে। আর সেসময়ে সবাই তাদের মত করে সুন্দর হতে চাইত। আবার এই ক্ষমতা যখন সাদাদের হাতে চলে যায় তখন সাদারাই শুধুমাত্র সুন্দর। আসলে কি ক্ষমতা সুন্দর? নাকি ক্ষমতাই সুন্দরের মাপকাঠি? তাহলে কি শিখব আমরা যারা ক্ষমতায় তারাই সুন্দর?

আমাদের সোসাইটিতে ছোটকাল থেকেই একটা মেয়েকে সুন্দর হতে হবে এমন একটা প্রশিক্ষনের মধ্য দিয়েই তাকে আসতে হয়। তার সৌন্দর্য বার্বিডল টাইপের হতে হবে। তার ব্যবহার্য মাথার ব্যান্ড, চুলের ফিতা, পোশাকটাও বার্বিডলের মত সুন্দর হওয়া চাই। ছোট বেলা থেকেই বার্বিডলের একটা ইমেজ মেয়েদের মনে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। যার প্রতিফল একটা মেয়েকে বড় হয়ে ফর্সা, শ্লিম, সুন্দরী সেই সাথে তাকে সেক্সি হতে হবে। তার মানে কি মেয়েদের সৌন্দর্যের সংজ্ঞা একটা বার্বিডল? আমরা, আমাদের সমাজ এই বার্বি চিন্তার বাইরে আসতে পারছিনা। বার্বির বিকল্প চিন্তা না করে বরং সেই আবেদনকে আরও বাড়াতে প্রতিবছর নতুন নতুন বার্বি আমদানি করছি। ছোট বেলার বার্বি চিন্তাটি যত বড় হচ্ছে আরও নতুন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী বর্তমানে সৌন্দর্য মাপতে তার সেক্স আবেদনটাকে তুলে আনা হচ্ছে। আর নারীরাও তাতে সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। লম্বা, সুন্দর ফিগার, ফর্সা, আকর্ষনীয় করে নিজেকে উপস্থাপন করার একটা প্রতিযোগীতা বর্তমানে সাড়া বিশ্বে। মিডিয়ার কল্যানে তার ব্যাপ্তি আরও বাড়ছে। একটা কথা নিখাদ সত্য প্রথমে দর্শন ধারী অতঃপর গুনবিচারী। তুমি শ্লিম নও মডেলিং তোমার দ্বারা হবে না। সব কিছুর র্উদ্ধে নারীর শরীর টাকে নিয়ে আসা হচ্ছে। আর এর পেছনে আছে পুঁজিবাদ।

মুনাফাকে সর্বোচ্চ করার জন্য পুঁজিবাদ একটা মেয়ের শরীরকে তিন ভাবে উপস্থাপন করে। বিজ্ঞাপন চিত্রে এটা দেখানো হয় তোমার শরীর হচ্ছে তোমার পুঁজি। আর এটা এই অর্থে যে সৌন্দর্যই হচ্ছে শক্তি। একটা মেয়ের যত গুনই থাকুক, এখানে তাকে সুন্দর হতে হবে। আর তাই ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের ব্যবহার।

দ্বিতীয় শরীর একটা স্বকাম বস্তু, যে ক্রিমটি ব্যবহার করার পরপরই সাফল্যের চুড়ায় দেখা গেল তাকে। অর্থাৎ যেটি ব্যবহার করে সে সুন্দর হল অথবা শ্লিম হল তার প্রতি মুগ্ধতায় নিজেই বিস্মিত হচ্ছে। এটাকে সোসিওলোজির ভাষায় বলা হয় আত্তরতি। নিজের সৌন্দর্যে নিজেই মুগ্ধ এটা মেয়েদের মধ্যে এত বেশী আত্মন্থ হয়েছে যে এটা না করলেই হয়ত সমাজে আপনি তিরস্কৃত হবেন। তাই হয়ত দেখা যায় একটু মোটা হলেই তাকে শিম্ল হওয়ার জন্য তাগিদ দেওয়া হয় কিংবা এত মোটা মেয়ে বিয়ে…! তাকে একটা নির্দিষ্ট বলয়ে আটকে দেওয়া হচ্ছে। আর তার জন্য বাজারে পুঁজিবাদদের নানান পণ্যের আয়োজন।

তৃতীয় পাশাপশি আরো একটা উপস্থাপনা যেটা শরীরের যৌন উত্তেজনার প্রকাশ। এটা স্বাভাবিক যৌনউত্তেজনারও বাইরে গিয়ে উপস্থাপন। পুরোটাকে ধাবিত করা হয় একটা ক্যালকুলেটিভ ফিগারের দিকে। ধারনা দেওয়া হয় হট ওম্যানের এবং পুরোটাই একটা অস্বাভাবিক যৌনতার উপস্থাপন। আর এটা করা হয় ইয়ং গ্রুপকে টার্গেট করে কনজ্যুম করার জন্য।

বিজ্ঞাপনচিত্রে নারীকে এভাবে হেয় করে প্রকাশ করার কি অর্থ নিশ্চয় আপনার বুঝতে বাকি নেই। সাধারনের মধ্য থেকে অসাধারন বেছে নিয়ে মডেলের স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ কি সেটাও বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই। বিউটি কনটেষ্ট আয়োজনের সুন্দরের যাত্রায় গুন নয় প্রথম শুরুটাই হয় তার বাহ্যিক সৌন্দর্য বিচারে মডেলের ছবি দেখে। যেখানে গুন বিচারের থাকে না কোন অপশন।

চলবে…….

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন