অনিয়ম, সংঘর্ষ আর সহিংসতায় শেষ হয়েছে ভোটগ্রহণ: চলছে গননা

বিশেষ প্রতিনিধি/সময় বাংলা/ঢাকা :

2015অনিয়ম, সংঘর্ষ, সহিংসতায় মৃত্যু, গোলাগুলি, ব্যাপকহারে কেন্দ্র দখল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতিত্বসহ নানা অনিয়মের মধ্যেই শেষ হলো ২৩৪ পৌরসভার নির্বাচন।

বুধবার সকাল আটটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং শেষ হয় বিকেল চারটায়। এরপর শুরু হয়েছে ভোট গণনা।

নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে সরকার আর নির্বাচন কমিশন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি।

এরফলে বিএনপির অন্তত দশ মেয়রপ্রার্থীসহ দুই ডজনের বেশি মেয়র প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। বর্জনকারীদের তালিকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত এবং বিদ্রোহী প্রার্থীরা যেমন রয়েছেন তেমনি আছেন সরকারি দলের শরীক জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও।

বিএনপি একে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সাথে তুলনা করেছে।

বিএনপি ও জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে শেষ পর্যন্ত কয়েকশ’ কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ এসেছে।

ফলে সাত বছর পর এদেশের মানুষের প্রিয় দুটি প্রতীক- নৌকা আর ধানের শীষে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেয়ার যে আশা করা হয়েছিল তা বাস্তব রূপ পায়নি। কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম বলেই মনে হয়েছে।

তবে অনেকের মতে, নির্বাচনে কেউ কেউ হয়তো আরো বেশি সহিংসতার আশঙ্কা করেছিলেন। সরকারি দলের আরো বেশি বেপরোয়া আচরণের শঙ্কাও ছিল। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে নির্বাচনটা তুলনামূলক ভালো হয়েছে বলেই এখন পর্যন্ত প্রতীয়মান হয়েছে।

নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, তাদের প্রার্থীরা ২০০ আসনে এগিয়ে রয়েছে। আর বিএনপি বলেছে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাদের প্রার্থীরা ৮০ ভাগ ভোট পাবে।

তবে সাধারণ মানুষের একটা হিসেব আছে। আজ ভোট গণনা শুরুর পর থেকে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত তাদের হিসেবের প্রতিফলন দেখতে চাইবেন তারা।

ফলে আগামী কয়েক ঘণ্টা উৎসুব চোখ টেলিভিশনের পর্দায় আর অনলাইন সংবাদপত্রে খুঁজবে নির্বাচনের ফলাফল।

বলা বাহুল্য, দেশের প্রায় ১০ কোটি ভোটারের মধ্যে ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটার মাত্র ৭১ লাখ। তবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে এটি জাতীয় নির্বাচনের আহত তৈরি করেছে।

শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়- সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন