নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকার জন্য বিএনপিকে হানিফের ধন্যবাদ

সময় বাংলা/ঢাকা :

hanif446শেষ পর্যন্ত সব শঙ্কা কাটিয়ে নির্বাচনে থাকার জন্য দলের পক্ষ থেকে বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বুধবার বিকেলে নির্বাচন নিয়ে দলটির সংবাদ সম্মেলনে তিনি ধন্যবাদ জানান।

হানিফ বলেন, নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই বিএনপির মূল উদ্দেশ। তারা প্রথম থেকেই এ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে এবং এ নির্বাচনকে তারা ষড়যন্ত্র হিসেবে নিয়েছে।

ভোট সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ৩ হাজার ৫শ ৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৬০টি কেন্দ্রে বিচ্চিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা অতীতের যে কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তুলনায় কিছুই না।

হানিফ বলেন, এ নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ উৎসব মুখর ভাবে হয়েছে। এ জন্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, অংশগ্রহণকারী সব কয়টি রাজনৈতিক দল এবং ভোটারদেরকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ধন্যবাদ জানান তিনি।

১৫৭টি কেন্দ্রে সরকার সমর্থকরা প্রভাব বিস্তার করেছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগের জবাবে হানিফ বলেন, এসব পৌরসভাগুলোতে নিশ্চিত পরাজয় জেনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বিজয়কে বিতর্কিত করার জন্য তারা এমন অভিযোগ করছে। এটি বিভ্রান্তিকর তথ্য, যার কোনো ভিত্তিই নেই।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, বিএনপি যেসব যায়গায় পরাজিত হবে সে সব যায়গায় তাদের পুলিং এজেন্টদের সই না করার নিদের্শনা দিয়ে রেখেছে। শুধু তাই নয়, তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য তারা সাংবাদিকদের উপর হামলা করেছে।

এ নির্বাচন শেষ হয়েছে, এর ফলাফল আমরা এখনও জানি না। তবে এ নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে প্রমাণ হবে, দেশবাসী উন্নয়নের পক্ষে আছে না সন্ত্রান ও জ্বালাও পোড়াও এর পক্ষে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে গতরাত থেকে নির্বাচনের ব্যালেট পেপারে সিল মারা, ছিনতাই এর সংবাদ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব সংবাদ তথ্য নির্ভর নয়, অতিরঞ্জিত ভাবে সংবাদ মাধ্যমে এসেছে।

হানিফ বলেন, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ভোট কেন্দ্র থেকে আধা কিলোমিটার দুরে সংঘর্ষ হয়। এতে এক জন নিহত হয়। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি এটি স্থানীয় সমাজিক সমস্যার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। যার সাথে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।

এসময় তিনি বলেন, নির্বাচনে জয় পরাজয় যাই হোক আমরা মেনে নিতে প্রস্তুত আছি। তিনি সকল দলকে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এ ফলাফল মেনে নিয়ে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক, সংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসন, বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রান ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্ননাহার লাইলী কার্যনির্বাহী সদস্য এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি লিয়াকত শিকদার, মাহমুদ হাসান রিপন প্রমুখ।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন