ভোট নিয়ে তাণ্ডব, গুলি, সংঘর্ষ, কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই : নিহত ১

সময় বাংলা ডেস্ক :

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিউ মডেল কলেজ কেন্দ্রে প্রকাশ্যে সিল মারার মহোৎসব : নয়া দিগন্ত
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিউ মডেল কলেজ কেন্দ্রে প্রকাশ্যে সিল মারার মহোৎসব : নয়া দিগন্ত

কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই, সংঘর্ষ, গুলি আর জাল ভোটের মহোৎসবের মধ্য দিয়ে গতকাল দেশব্যাপী ২৩৪টি পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। সারা দেশে দুই শতাধিক কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ৫০টি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার সব কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির পক্ষ থেকে ১৫৭টি পৌরসভার এক হাজারের বেশি কেন্দ্রে আবার ভোট গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। অপর দিকে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে ১৭৬টি কেন্দ্র থেকে শাসক দলের লোকজন তাদের প্রার্থীর পক্ষের পোলিং এজেন্ট বের করে দিয়েছে।
সারা দেশের ভোটকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী দুপুর ১২টার মধ্যেই ভোটারশূন্য হয়ে যায় অনেক ভোটকেন্দ্র। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় শাসক দলের প্রার্থীদের কর্মী বাহিনীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এসব ভোটকেন্দ্র। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র দখল করে তারা শুরু করে ব্যালট পেপারে ইচ্ছামতো সিল মারা উৎসব। এর মধ্যে বেশ কিছু কেন্দ্র আগের রাতেই দখলে নেয় শাসকদলের প্রার্থীদের লোকজন। রাত ১০টার পরপরই শুরু করে ব্যালটে সিল মারার কাজ।
অনেক কেন্দ্রের মাঠে প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে ব্যালট পেপারে জাল ভোটের উৎসব করা হয়েছে। টিভি ক্যামেরার সামনেও ঘটেছে কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল মারার ঘটনা। এমনকি ক্যামেরার সামনে ধরা পড়েছে পুলিশের হাতে সিল মারা ব্যালট পেপারের বই। অনেক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টরাও যোগ দেয় শাসক দলের প্রার্থীর পক্ষে গণহারে সিল মারার কাজে। সকালে অনেক কেন্দ্রে উৎসুক ভোটাররা ভোট দিতে এলেও তাদের আর ভোট দেয়ার কোনো প্রয়োজন হয়নি। এমনকি অনেক এলাকায় বিরোধী প্রার্থীরাও ভোট দিতে পারেননি। এভাবে দুপুর ১২টার মধ্যে সারা দেশের অনেক ভোটকেন্দ্র একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শাসক দলের লোকজন নিজেদের প্রার্থীদের পক্ষে সিল মেরে ভর্তি করে ব্যালট বাক্স।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বিভাগীয় নির্বাচন মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেছেন, চট্টগ্রামের ১০ পৌরসভায় সকাল ৯টার মধ্যেই সরকারদলীয় প্রার্থীরা ভোটকেন্দ্র দখল করে ভোট ছিনতাই করেছে। ফলে ভোটের আগেই জিতে গেছে আওয়ামী লীগ। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ অভিযোগ করেন তিনি।
কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই, জাল ভোটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় শাসক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ঘটে সংঘর্ষের ঘটনা। সাতকানিয়ায় সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন একজন। এ ছাড়া আরো অনেক কেন্দ্রে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অনেকে। ব্যালট পেপার ছিনতাই, কেন্দ্র দখল ও ভাঙচুর এবং সঙ্ঘাতের কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে বেশ কিছু কেন্দ্রের। নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপির অনেক প্রার্থী।
সারা দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী অল্পসংখ্যক কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে পোলিং এজেন্ট পাওয়া গেছে। ঝুঁকি নিয়ে কেউ কেউ এলেও তাদের জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে তাদের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও তারা সেখানে ছিল অসহায় অবস্থায়।
সারা দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং শাসক দলের লোকজনের পক্ষ থেকে। কোথাও কোথাও সাংবাদিকদের মারধর এবং ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে।
ভোট জালিয়াতির উৎসবে গতকাল রচিত হয়েছে নতুন নতুন অনেক নজির। যেমন যশোর এমএম কলেজের কেন্দ্রে দুপুরের মধ্যেই শেষ হয় শতভাগ ব্যালটে সিল মারার কাজ এবং ৪টায় ভোট দেয়ার সময় শেষ হওয়ার আগেই শেষ করা হয়েছে গণনার কাজ।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভায় নিজের ভোট দিতে পারেননি বিএনপির মেয়রপ্রার্থী আবুল মনছুর। বিপরীত দিকে অনেক কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের সামনেই তার কর্মী-সমর্থকেরা মেতে ওঠেন জাল ভোটের সিল মারার উৎসবে।
আবুল মনছুর জানান, বুধবার সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে তাকে সরকারদলীয় লোকজন কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়। পরে তিনি ভোট না দিয়েই ফিরে যান।
আবুল মনছুর অভিযোগ করে বলেন, শুধু আমি না, আমার পরিবারের কেউই ভোট দিতে পারেননি। যেখানে একজন মেয়রপ্রার্থীই ভোট দিতে পারেন না, সেখানে সুষ্ঠু ভোট কিভাবে হয়?
পৌরসভা নির্বাচন আরেকটি সিটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। নির্বাচনের মাঠে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের মতে বাস্তবে গতকাল সেটিই ঘটেছে। গত ২৮ এপ্রিল ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সকাল ৮টা বাজার সাথে সাথেই শাসক দলের লোকজন দখলে নেয় প্রায় সব ভোটকেন্দ্র। এরপর বিরোধী প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট বের করে দিয়ে সাধারণ ভোটাররাও যাতে কেন্দ্রে আসতে না পারেন সে ব্যবস্থা করা হয়। সেবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ভোট জালিয়াতি আর তামাশার নির্বাচনের নজির রচিত হয় দেশে।
গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, প্রায় সাত বছর পর এ পৌরসভার ভোটারেরা বুধবার ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে ভোট দিয়েছেন। কয়েকটি বিশৃঙ্খল ঘটনা ছাড়া এ পৌরসভার ২২টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। প্রায় প্রত্যেক কেন্দ্রেই ভোটারের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। বুধবার সকালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনিছুর রহমান তুলা গবেষণা স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন এবং বিএনপি প্রার্থী শহীদুল্লাহ শহীদ মাওনা চৌরাস্তা মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।
এ দিকে শ্রীপুরে পৌর নির্বাচনে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলামকে (ব্রিজ-প্রতীক) লাঞ্ছিত করেছে প্রতিপক্ষ কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকেরা। এ ব্যাপারে প্রার্থী নজরুল ইসলাম জানান, দুপুরে জালভোট দেয়ার সংবাদে কেন্দ্রের ভেতর প্রবেশ করতে চাইলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর লোকজন তাকে মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়।
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, সাভার পৌর নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম আর বিএনপি এবং এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিতে না পারায় হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। সেই সাথে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে জালভোট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল পৌর এলাকায় বিভিন্ন স্থানে অপরিচিত বহিরাগতদের উপস্থিতি লক্ষণীয়।
সাভার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন, সাধারণ কউন্সিলর পদে ৫৫ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। পৌর এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৬৯ হাজার ৮৫৪ জন, সেই তুলনায় ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ৮০টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনী মাঠে ছিল ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রেট ও দুই প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, র‌্যাব, আনসার সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকে ছিল গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা।
জালভোট : এখানকার বেশ কয়েটি কেন্দ্রে জালভোট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৌরসভা রাজাশনের ৮নং ওয়ার্ডসহ বেশির ভাগ ওয়ার্ডের কেন্দ্রগুলোতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে জালভোট দেয়ার অভিযোগ করেছে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হাজী বদিউজ্জামানের (ভিপি বদি) স্ত্রী শিরিন আক্তার মিতু। আর রাজাশনের আল-হেরা কলেজকেন্দ্র থেকে এক যুবককে আটক করা হয়। এ সময় তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে না দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আল-হেরা কলেজের প্রিজাইডিং অফিসার মোস্তফা জামান জানান, ভোটকেন্দ্রে কয়েকজন জালভোট দিতে এলে আমরা তার নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসা করে মিল না পেলে লাইন থেকে বের করে দিই।
এজেন্টদের মারধর : বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টদের ভয়ভীতি দিয়ে বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। হাতেগোনা কয়েকটি কেন্দ্রে এক-দুইজন এজেন্ট থাকলেও বেশির ভাগ কেন্দ্রে বিএনপির কোনো এজেন্টই ছিল না। আবার প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে বিএনপি ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীদের এজেন্টদের আবেদনের কপি থাকলেও রাজাশনসহ বেশির ভাগ কেন্দ্রে তাদের বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মধ্য রাজাশন এলাকার আল-আমিন পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পক্ষের এজেন্ট ডা: আব্দুল মালেককে মারধর করে বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ভোট দিতে পারেননি : সাভার পৌর নির্বাচনের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হাজী বদিউজ্জামান (ভিপি বদি) মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে পলাতক রয়েছে। হামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে গতকাল তিনি নিজের ভোট দিতে পারেননি। তার স্ত্রী শিরিন আক্তার মিতু জানান, তিনি তার বাসার কাছে ড্যাফোডিল স্কুল কেন্দ্রে সকালে ভোট দিয়েছেন।
সদর দক্ষিণ (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার ৬ পৌরসভা নির্বাচনে গতকাল জালভোট ও ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। চৌদ্দগ্রাম, চান্দিনা, হোমনা ও দাউদকান্দি পৌরসভার বেশির ভাগ কেন্দ্র দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বরুড়া পৌরসভায় ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের দায়ে একটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল সকালে রিটার্নিং অফিসার লুৎফুন্নাহার নাজিম বরুড়ার লতিফপুর কেন্দ্রটি স্থগিত করেন।
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার হারুনুর রশিদ জানান, রাত আড়াইটার দিকে ১০-১২ জনের একটি দল এসে নৌকা প্রতীকের ১২০০ ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেন। তারা রাত ৪টা পর্যন্ত সিল মেরে ব্যালটগুলো বাক্সে ভরেন। বরুড়ার ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিন পাটোয়ারীর অভিযোগে রিটার্নিং অফিসার লুৎফুন্নাহার নাজিম ভোটগুলো বাতিল করে লতিফপুর কেন্দ্রটির ভোট গ্রহণ স্থগিত করেন।
কুমিল্লার লাকসামে ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের সময় দেশীয় অস্ত্রসহ আটজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন উপজেলার উত্তরদা ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী মজুমদার, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আটজন। তাদের মধ্যে লাকসাম রেলওয়ে স্কুল ভোটকেন্দ্র থেকে পাঁচজন ও ধামৈচা কেন্দ্র থেকে অপর তিনজনকে র‌্যাব-১১ এর একটি ভ্রাম্যমাণ দল আটক করে।
লাকসামের পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা প্রতীক ও ডালিম প্রতীক ছাড়া অন্যদের এজেন্ট বের করে দেয়া হয়েছে।
লাকসামের আল-আমিন ইনস্টিটিউট কেন্দ্রের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। লাকসামের বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহনাজ আক্তার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকেরা কয়েকটি কেন্দ্রে জালভোট দিয়েছে। তারা কেন্দ্র থেকে মারধর করে ধানের শীষের এজেন্ট বের করে দিয়েছে।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মজির আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, রেলওয়ে স্কুল, নশরতপুর, বড়তুপা, শ্রীপুর, গাজীমুড়া, পূর্ব লাকসাম, উত্তরকুল এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর দফায় দফায় হামলা করা হয়েছে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, দুপুর ১২টায় কোমারডোগা, গোপালপুর ও রেলওয়ে হাইস্কুলকেন্দ্র থেকে ভোটারদের বের করে আওয়ামী লীগ কর্মীরা এককভাবে দখল করে নেয়।
চান্দিনা পৌরসভার বেলাশ্বর কেন্দ্রে তিন কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১৫ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে।
এ দিকে চান্দিনা পৌরসভার ১৩ কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র শাহ্ মো: আলমগীর খান। শাহ মো: আলমগীর খান তার লিখিত অভিযোগে বলেন, ভোটকক্ষ থেকে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়। ভোটারদের হাত থেকে ব্যালট পেপার কেড়ে নেয়া, প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারা ও প্রার্থীকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধাসহ নানা অভিযোগ করেন।
হোমনা পৌরসভার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এসআই ইমরান ও তিনজন কনস্টেবলসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের ত্রিশাল পৌরসভা নির্বাচনে কেন্দ্র দখলের চেষ্টায় আওযামী লীগ দলীয় প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম জুয়েল সরকারের সমর্থকেরা দফায় দফায় ফাঁকা গুলি ও ককটেল ছুড়ে গোটা পৌরসভা এলাকা প্রকম্পিত করে তোলে। এ সময় আহত হয় স্থানীয় বিএনপি নেতা সুরুজ আলী, আ: কাদের ও মনির হোসেন।
জানা যায়, গতকাল দুপুর নাগাদ ত্রিশালের উপজেলা পরিষদের সামনে দফায় দফায় অস্ত্রের মহড়া দেয় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন। এ সময় তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে কমপক্ষে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেলেরও বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। স্থানীয় বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনার একপর্যায়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনতা তাদের ধাওয়া করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল ইমরান রহুল ইসলাম বলেন, সাময়িকভাবে একটু গণ্ডগোল হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।
নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার মাত্র আধঘণ্টা আগে পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের আলী আকবর ভূঁইয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেয়ার কথা বলে কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালটের মুড়িবই (কাস্টিং ভোটের হিসাব-নিকাশ) ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এর আগে দুপুরে প্রশাসন কর্তৃক ময়মনসিংহের ত্রিশালের পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম জুয়েল সরকারকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে নৌকার সমর্থকেরা। এ সময় তারা দুই দফায় প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে।
পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, সশস্ত্র মহড়া দিয়ে ভোট কেন্দ্র দখল করে ভোট ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১০টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে আবার ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করলেন এলডিপি সভাপতি ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমদ বীর বিক্রম। গতকাল দুপুরে চন্দনাইশ সদরের নিজ বাস ভবনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ভোর ৫টা থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে অবৈধভাবে নৌকার পক্ষের লোকজন ভোট ডাকাতি করা কেন্দ্র থেকে নিজেদের এজেন্ট বের করে দেয়া ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব করাসহ একাধিক কারণে তিনি ১৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০টি কেন্দ্রে ফলাফল বর্জন করে নতুনভাবে ভোট গ্রহণের দাবি জানান। এ সময় তিনি বলেন, ১৬টি ভোটকেন্দ্রের চারটি প্রশাসন বন্ধ করে দিয়েছে। অপর তিনটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্বাভাবিক হলেও ১০টি কেন্দ্রে ফলাফল বাতিল করে তিনি বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে এ পর্যন্ত নজিরবিহীন ভোট ডাকাতির ঘটনা এ দেশের মানুষ কখনো দেখেনি।
বেলাবো (নরসিংদী) সংবাদদাতা জানান, নরসিংদী জেলার তিনটি পৌরসভা নির্বাচনে জালভোট ও কেন্দ্র দখলের মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ চলছে। সকালেই কেন্দ্র দখলে নিয়ে গেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন। কোনো কেন্দ্রেই বিএনপি প্রার্থীর কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি। সকাল ৯টার আগেই বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এরপর কেন্দ্র দখল করে জালভোট দেয় আওয়ামী লীগ কর্মীরা। তিনটি পৌর নির্বাচনেই বহিরাগতদের ভোটকেন্দ্রে আসা যাওয়া এবং ভোট দিতে দেখা গেছে। বহিরাগত লোকজন কেন্দ্রের ভেতরে আসা-যাওয়া এবং জালভোট দিলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো প্রকার তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। এজেন্টদের বের করে জালভোট দেয়ার অভিযোগ এনে বেলা ১১টায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মনোহরদী পৌরসভা বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো: মাহমুদুল হক। বারবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি বাধ্য হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। তা ছাড়া নরসিংদী সদর পৌরসভায় তিনটি এবং মাধবদী পৌরসভায় একটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়।
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর নির্বাচনে ৫নং ওয়ার্ডের দড়ি চরিয়াকোনা কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষে ১০ জন আহত ও ৩০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দুইজনকে আটক করে।
জানা যায়, ভোট গ্রহণের শুরুতেই কাউন্সিলর প্রার্থী সোহরাব উদ্দিন ও নজরুল ইসলাম সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। পুলিশ মাসুদ নামে এক বিএনপি কর্মীকে আটক করে। বিকেলে আবার কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম ও সোহরাব উদ্দিন সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় কিছু ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে প্রিজাইডিং অফিসার ব্যালট পেপারগুলো বাতিল করে দেন। এ সময় পাকুন্দিয়া থেকে আগত নেতাকর্মীদের দড়ি চরিয়াকোনা কওমি মাদরাসায় রাখা ৩০টি মোটরসাইকেল নজরুল সমর্থকেরা ভাঙচুর করে। মোবাইলে সংঘর্ষের ছবি ধারণ করার কারণে নূর মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে।
জামালপুর ও সরিষাবাড়ী সংবাদদাতা জানান, জামালপুর সদর, সরিষাবাড়ী, দেওয়ানগঞ্জ ও মেলান্দহ উপজেলায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ, গুলি, টিয়ার শেল ও ভোটকেন্দ্র দখলের মধ্য দিয়ে পৌরসভা নির্বাচন শেষ হয়েছে। জামালপুর শহর ও সরিষাবাড়ী উপজেলায় বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ফাঁকা গুলিবর্ষণ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে। দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভায় বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী দলের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী এবং কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। মেলান্দহ পৌরসভায় শাহজাদপুর এলাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।
এ দিকে কেন্দ্র দখল ও ভোট কারচুপির অভিযোগে জামালপুর পৌরসভায় জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী খন্দকার হাফিজুর রহমান বাদশা ও দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী শেখ মো: নুরুন্নবী অপু নির্বাচন বর্জন করেছেন। একই অভিযোগে জামালপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী তরুণ হাসান কাজল ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী শহিদুর রহমান নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছেন। সরিষাবাড়ী পৌরসভায় পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন বিএনপির ফয়েজুল কবির তালুকদার শাহিন।
মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, জালভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে সকাল সাড়ে ৮টায় মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় শহীদ তিতুমীর একাডেমি কেন্দ্রে তিন মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী গাজী কামরুল হুদা সেলিম অভিযোগ করেন, ওই কেন্দ্রে আমাদের পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে কয়েক শ’ ছাত্রলীগ কর্মী জালভোট দিতে থাকে। আমরা কয়েকজন ভুয়া ভোটরকে আটক করে পুলিশে দিলেও পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজের ভোট দেননি। তিনি বলেন, মেয়র পদে কেউ ভোট দিতে পারছেন না বলে আমি ভোট দিতে কেন্দ্রে যাইনি। তিনি অভিযোগ করেন, নৌকার সমর্থকরা সকাল থেকেই সব ক’টি ভোটকেন্দ্রের দখল নিয়ে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়। এরপর ভোটারদের হাত থেকে মেয়র পদের ব্যালট পেপার নিয়ে তাদের সামনেই নৌকা মার্কায় সিল মারে। তবে কাউন্সিলর প্রার্থীর ব্যালট পেপার ভোটারকে সিল মারতে দেয়া হয় এবং কাউন্সিলর ভোট সুষ্ঠু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভোটাররা জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ২০ থেকে ৩০ জন যুবক কেন্দ্রের ভেতর অবস্থান নেয়। পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার নেয়ার সাথে সাথেই তারা ভোটারদের নৌকা মার্কায় সিল মারতে বলে। না মারলেই তারা মেয়র প্রার্থীর ব্যালট নিয়ে যায় এবং নৌকায় সিল মেরে বাক্সে ফেলে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে কেউ মেয়র পদে নিজের ভোট দিতে পারেননি বলে তারা জানান।
ভোলা সংবাদদাতা জানান, ভোলা জেলার ভোলা, বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান পৌরসভার ৩৬টি কেন্দ্রের বেশির ভাগেরই চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় সব কেন্দ্রেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল মারতে ভোটারদের বাধ্য করা হয়। বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান পৌরসভার চিত্র একই।
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা জানান, ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টাসহ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহ জেলার চার পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কোটচাঁদপুরে দু’টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ছিনিয়ে কাটার চেষ্টা ও শৈলকুপায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংর্ঘষে দুইজন আহত হয়েছে। নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী জিন্নাতুল হক ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
এ ছাড়া জেলার শৈলকুপার ললিত মোহন ভূঁইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এক সংঘর্ষে দুইজন আহত হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু পৌরসভার বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী জিন্নাতুল হক ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
নড়াইল সংবাদদাতা জানান, অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নড়াইলের কালিয়া পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, আওয়ামী লীগ প্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামান হীরা এবং নড়াইল পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস নির্বাচন বর্জন করেছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার থেকে দুপুরের মধ্যে প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেন।
এ দিকে, ভোটগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে পূর্বকালিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কালিয়া রিটার্নিং কর্মকর্তা শেখ আনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া অনিয়মের অভিযোগে কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সাময়িক স্থগিত ছিল। এ দিকে, কয়েকটি কেন্দ্রে নানা অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, ঈশ্বরদী পৌরসভা নির্বাচনে ভোট ছিনতাইয়ের অভিযোগ, জালভোট প্রদান, পোলিং এজেন্টদের মারধর, ভোটকেন্দ্র দখল, ধানের শীষের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ করে নির্বাচন স্থগিত চেয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মকলেছুর রহমান বাবলু। গতকাল দুপুরে পৌর বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন স্থগিতের দাবি তোলেন তিনি।
পিরোজপুর সংবাদদাতা জানান, সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্র দখল, কেন্দ্র থেকে বিএনপির সমর্থকদের মারধর করে বের করে দেয়া ও নৌকার এজেন্ট ও সমর্থকদের ব্যালট পেপারে সিল মারাসহ আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম কবিরের পক্ষে নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম ফরিদ। তিনি পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন।
লাকসাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, লাকসামে পৌর নির্বাচন শুরু হওয়ার পরপরই ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের সময় দেশীয় অস্ত্রসহ উপজেলার উত্তরদা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম রাব্বানী মজুমদার, সদর দক্ষিণ উপজেলার বাগমারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি আয়াত উল্লাহ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জাহাঙ্গীর হোসেনসহ আটজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে লাকসাম রেলওয়ে স্কুল ভোটকেন্দ্র থেকে পাঁচজন ধামৈচা কেন্দ্র অপর তিনজনকে র‌্যাব-১১-এর একটি ভ্রাম্যমাণ দল আটক করে।
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের সাত পৌরসভার দু’টিতে দুই মেয়র প্রার্থী কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছেন। এক মেয়র প্রার্থী পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন। বাজিতপুর পৌরসভার বিএনপির মেয়র প্রার্থী এহসান কুফিয়া সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্র দখল করে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মো: শওকত আকবর কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ দিকে করিমগঞ্জ পৌরসভার পাইলট হাইস্কুল কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কিছুক্ষণ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।
চাঁদপুর সংবাদদাতা জানান, সংঘর্ষ ও ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় জেলার ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও কচুয়া পৌরসভায় সংঘর্ষে অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন। পুলিশ ৩৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করলে একজন গুলিবিদ্ধ হন। মতলব পৌরসভার দক্ষিণ বাইশপুর ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাইকালে পুলিশ ১৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হন।
চাঁদপুরের চারটি পৌরসভার বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা অভিযোগ করছেন তাদের সমর্থিতদের ভোট প্রদানে বাধা দেয়া হচ্ছে। ভোটকেন্দ্র থেকে সরকার সমর্থিতরা তাদের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে ব্যালট পেপারে সিল দিচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা জানান, জেলার আখাউড়া পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়াসহ অনিয়মের অভিযোগ এনে তিন মেয়র প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। তারা হলেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হাজী মো: মন্তাজ মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান বাবুল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সোহেল ভূঁইয়া। তারা সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ব্যাপক কারচুপির বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানালেও তিনি না শোনার ভান করেন। তাই বাধ্য হয়ে নির্বাচন থেকে সরে এসেছি।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, জেলার রাউজান পৌরসভায় অন্যরকম নির্বাচন দেখেছে পৌরবাসী। সকাল থেকেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেবাশীস পালিতের সমর্থকরা কেন্দ্র দখল করে জালভোট দেয়। অধিকাংশ কেন্দ্রে সরকারি দলের লোকজন প্রবেশ করে ব্যালেট পেপার ছিনতাই করে জালভোট দেয়। বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট এবং সমর্থকদের মারধর করা হয়। পুলিশের সামনে এসব ঘটনা ঘটলেও তারা নীরব ছিল। পরে রাউজান পৌরসভা বিএনপি প্রার্থী কাজী আবদুল্লাহ আল হাছান নির্বাচন বর্জন করেন।
খুলনা ব্যুরো জানায়, জেলার চালনা ও পাইকগাছা পৌরসভায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটাররা সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন। শীতের কারণে সকালের দিকে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে। পাইকগাছায় প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং চালনায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়ে। ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর গণনা শুরু হয়।
নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, জেলার চৌমুহনী পৌরসভায় ব্যাপক গোলযোগ, গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যালটবাক্স ভাঙচুর, ব্যালট ছিনতাই, ব্যাপক কারচুপি, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, মহিলা এজেন্ট ও ভোটার আহত হওয়াসহ এ পৌরসভায় ২০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। হাতিয়া পৌরসভায় বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও তাদের সমর্থক ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা প্রদান এবং কেন্দ্র দখল ও ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা জানান, বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলে পৌর নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জেলার মধুপুর ও গোপালপুর পৌরসভা নির্বাচন বর্জন করেন বিএনপি প্রার্থীরা। গোপালপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীও কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ভূঞাপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নেতাকর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। পরে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালায় বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন। এ ছাড়া দলীয় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়েছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। অন্য দিকে সখীপুরে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ছয়টি কেন্দ্রে ভোট বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের জেলার সৈয়দপুর পৌরসভায় সংঘর্ষ ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টায় চারটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দুপুরের পর নয়াটোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর লোকজন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২৪ রাউন্ড ফাঁকা শর্টগানের গুলিবর্ষণ করে। এতে ফজলুর রহমান (৬৫) নামের একজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। এ সময় পুলিশ রাজু আহমেদ ও সবুজ নামের দুই যুবককে আটক করেছে।
কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা জানান, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও সংঘর্ষের কারণে জেলার উলিপুর পৌরসভায় ১৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে মদিনাতুল উলুম মাদরাসা কেন্দ্র ও নারকেলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র স্থগিত করেছেন প্রিজাইডিং অফিসার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। এ সময় পাঁচজন আহত হয়। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম পৌরসভার কুড়িগ্রাম সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় ও কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে জোর করে ভোট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জয়পুরহাট সংবাদদাতা জানান, জয়পুরহাট পৌরসভার চারটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণের পর এসব কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। ১ ঘণ্টা পর আবার ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এ দিকে জেলার কালাই পৌরসভা নির্বাচনে দু’টি ভোটকেন্দ্র দখল করে জালভোট দেয়া এবং ভোটারদের ভোট প্রদানে বাধা দেয়ায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাজ্জাদুর রহমান তালুকদার, বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী আনিসুর রহমান তালুকদার ও জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী প্রভাষক আমিনুল ইসলাম ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
হবিগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, হবিগঞ্জে ৭১ টিভির স্টাফ রিপোর্টার ফারহানা রহমানকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। শহরের জেলা পরিষদ কেন্দ্র দখলের দৃশ্য লাইভ টেলিকাস্ট করার সময় শারীরিকভাবে নির্যাতন করে সরকার সমর্থক যুবকরা। সাংবাদিক নির্যাতনের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করার সময় স্থানীয় সাংবাদিক মীর আব্দুল কাদিরের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় তারা। এ দিকে পিটিআই কেন্দ্রে জালভোট দেয়ার অভিযোগে ইমতিয়াজ আহমেদ শাওন নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে ছয় মাসের সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নিশাত সুলতানা। শহরের বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রও দখলের চেষ্টা করা হয়।
বান্দরবান সংবাদদাতা জানান, দুপুরের পর জেলা শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কালেক্টরেট স্কুলকেন্দ্রে জালভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ৩টার পর ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ কর্মীরা বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর ভোটার পরিচয়পত্র বিতরণকারীর অফিসঘর ভাঙচুর করে। এ সময় সেখানে বিজিবি র‌্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ কেন্দ্র থেকে এক যুবককে অটক করে।
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা জানান, ঠাকুরগাঁও পৌর নির্বাচনে ২১টি কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্রÑ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সরকারি গোবিন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজ ভোটকেন্দ্রে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী। এ ঘটনায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রের সামনে দুইজন সাংবাদিককে মারধরসহ প্রায় ছয়টি ব্যালট বই এবং বাক্স ভাঙচুর ও ছিনতাই করা হয়। কাউন্সিলর প্রার্থীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ আরিফুর রহমান ও রেজাউল করিম নামে দুই সন্ত্রাসীকে আটক করেছে। আটক দু’জনের বাড়ি সদর উপজেলার নারগুন বান্দিগড় গ্রামে।
ঝালকাঠি সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভায় বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ভোট গ্রহণ। দু’টি ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এজেন্ট-সমর্থকদের বের করে দেয়া ও ছয় সমর্থককে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। আহত আবু সাঈদ মোস্তাফা কামাল, সেলিম হাওলাদার ও এনায়েত হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আখাউড়া (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানান, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখল ও কারচুপিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির প্রার্থীসহ তিন মেয়র প্রার্থী আখাউড়া পৌর নির্বাচন বর্জন করেছেন। দুপুর ১২টায় উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির প্রার্থী হাজী মন্তাজ মিয়া নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, দেবগ্রাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র বাদে বাকি ১০টি কেন্দ্রে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি।
মাদারীপুর সংবাদদাতা জানান, জেলার কালকিনি পৌর নির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই ব্যালটে সিল দেয়া ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ নানা অভিযোগে কাষ্টগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ জোনারদন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন ও রিটার্নিং অফিসার মো: আলাউদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই দুই কেন্দ্রে ১১০০ ভোটের ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় ওই কেন্দ্র দুটিতে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
শরীয়তপুর সংবাদদাতা জানান, শরীয়তপুর সদর পৌর নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের জন্য একটি লিখিত আবেদন করেছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী। প্রকাশ্যে সিল মারার ছবি তুলতে গেলে একজন সাংবাদিককে মারধর করে তার ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়া হয়। এ দিকে জাজিরা পৌরসভার কবিরাজকান্দি কেন্দ্রে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ব্যালট পেপার ছিনতাই করা হয়েছে।
জাজিরা থানার ওসি মো: নজরুল ইসলাম বলেন, কবিরাজকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করার সময় পুলিশ একজনকে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। ভেদরগঞ্জ থানার ওসি মো: কবিরুজ্জামান বলেন, কয়েকজন লোক ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাই করতে গেলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে এবং তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা জানান, জেলার পাঁচটি পৌরসভার মধ্যে কুমারখালী ও খোকসা পৌরসভার বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। ভোটকেন্দ্রে ভোটার আসতে বাধা প্রদান, নির্বাচনে কারচুপি ও প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগ করেছেন অনেক প্রার্থী। অনেক কেন্দ্রে ব্যালেট পেপারের সঙ্কটে ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রিজাইডিং অফিসাররা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। কুমারখালী আদর্শ মহিলা কলেজ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের দুই কমিশনার প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে কয়েক দফা সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছে। এ কেন্দ্রের অব্যবহৃত একটি ব্যালেট পেপার বই পাশের পুকুর থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে।
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, সীতাকুণ্ড পৌরসভা নির্বাচনে বেলা ১১টার মধ্যেই ৯টি ওয়ার্ডের ১৩টি কেন্দ্রের সব ক’টি যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা দখল করে ধানের শীষ ও কাউন্সিলর ও পোলিং এজেন্টদের পিটিয়ে বের করে দিয়ে নৌকা ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলরদের ব্যালট পেপারে সিল মেরে ভোটবাক্স ভরতে থাকে। এ সময় প্রশাসনের লোকজন নীরব ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার সময় ধানের শীষের প্রার্থী আবুল মুনছুর পন্থিছিলা কেন্দ্রে গেলে যুবলীগ সন্ত্রাসীরা তার গাড়িতে হামলা করে এবং পিটিয়ে পা ভেঙে দেয়।
দৌলতখান (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, দৌলতখান পৌরসভা নির্বাচনে হামলা, ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা, এজেন্টদের পিটিয়ে বের করে জালভোট ও সীল মারার মাধ্যমে ১২টার আগেই ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের আসতে বাধা দিয়েছে। পুলিশের সামনেই ভোটার ও এজেন্টদের নির্যাতন করা হয়েছে। প্রশাসনের কোনো সহায়তা না পেয়ে প্রতিপক্ষরা কেন্দ্র ছেড়ে চলে যান। সংবাদকর্মীরাও ভয়ে ছবি তুলতে পারেননি।
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, কলাপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খেপুপাড়া নেছারুদ্দীন ফাজিল মাদরাসা, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মঙ্গলসুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের প্রত্যেকটি বুথ থেকে ধানের শীষ প্রতীকের পোলিং এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এই তিনটি ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্রের অনিয়ম সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছি।
হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, হাতিয়া পৌরসভা নির্বাচন সকাল থেকে ১৩ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে চললেও দুপুরের দিকে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
দুপুরের পর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র চৌমুহনী উচ্চবিদ্যালয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও জালভোট দেয়া নিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ৯ জন আহত হন। আহতরা হলেনÑ দুলাল, খোকন, দিদার, ফয়সাল, আলাউদ্দিন, রহিম, আজাদ, জসিম ও নিজাম।
চান্দিনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার ১১টি কেন্দ্রে আবার নির্বাচনের দাবি জানিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র শাহ মো: আলমগীর খান।
গতকাল দুপুরে উপজেলা রিটার্নিং অফিসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরীর কাছে এ আবেদন করেন।
শাহ মো: আলমগীর খান তার লিখিত অভিযোগে বলেন, ভোট কক্ষ থেকে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া, ভোটারদের হাত থেকে ব্যালট পেপার কেড়ে প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারা ও তাকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা নির্বাচনে অনিয়ম ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী এ বি এম জিলানী। সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে পৌর শহরে তার বাসভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।
এ বি এম জিলানী বলেন, গত দুই দিন ধরে তিনি বাসভবনে অবরুদ্ধ। তাকে ভোটকেন্দ্রে যেতে দেয়া হয়নি। ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকার লোকজন কেন্দ্রগুলো দখল করে নেয়।
বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান, রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভার বিএনপি প্রার্থী চাঁদ আলী খান ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করেছেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে জানান, গতকাল সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় ভোট কারচুপি। পৌরসভার ৩, ৮, ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তার নির্বাচনী এজেন্টদের ভোট কক্ষ থেকে মারধর করে বের করে দেয়া হয়।
পরে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পাংশা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে নির্বাচন বর্জনের একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
গাইবান্ধা সংবাদদাতা জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ওয়ার্কার্স পার্টির মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলা এবং জাপা মেয়র প্রার্থীর নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শামীম অ্যান্ড শাকিল কারিগরি কলেজ কেন্দ্রে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই কাউন্সিলর প্রার্থী শহিদুল ইসলাম (পাঞ্জাবি) ও মাসুদ রানা বাপ্পীর (উট) সমর্থদের মধ্যে জালভোট দেয়া নিয়ে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হন। আহতেরা হলেন- নজরুল ইসলাম, পারভেজ মিয়া, সাদ্দাম হোসেন, আব্দুল করিম ও মানিক মিয়া। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিছু সময় বন্ধ থাকার পর আবার ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এ সময় পুলিশ দুই রাউণ্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
অপর দিকে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য আমিনুল ইসলাম গোলাপ অভিযোগ করেছেন আব্দুল মতিন মোল্লাকে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর সমর্থকেরা লাঞ্ছিত করে জোরপূর্বক মহিলা কলেজ কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়।
এ দিকে গাইবান্ধা পৌর নির্বাচনে উত্তরপাড়া ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও ভোট বাক্স ছিনতাই করার চেষ্টা করা হলে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ভোট গ্রহণ বেলা পৌনে ২টা থেকে সোয়া ২টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টা বন্ধ রাখে। এ ছাড়া গাইবান্ধা পৌরসভার জুবলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ব্রিজ রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধলে কিছু সময়ের জন্য ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখা হয়।
কেশবপুর (যশোর) সংবাদদাতা জানান, কেশবপুরে সঙ্ঘাতকালে বিভিন্ন কেন্দ্রে আহত হয়েছেন প্রায় ৩০ জন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ধানের শীষ কর্মী মেয়র প্রার্থী আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের ভাতিজা সুইট, ছাত্রলীগের উপজেলা আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম মানিক ও যুবলীগের সাবেক উপজেলা সভাপতি শাহাদৎ হোসেন।
সকাল সাড়ে ৯টায় হাবাসপোল কওমি মাদরাসা কেন্দ্র থেকে প্রথমে এ তাণ্ডব শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে সকাল ১০টার মধ্যে ৭ নম্বর ওয়ার্ড মধ্যকূল মহিলা মাদরাসা ওয়ার্ড সাবদিয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসা কেন্দ্র, বাজিতপুর ফ্রি ব্যাপ্টিস্ট চার্চ স্কুল কেন্দ্রে, কেশবপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে, ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে কেশবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোগতী নরেন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে, ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে কেশবপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেশবপুর সাইক্লোন সেন্টার কেন্দ্রে ও কেশবপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়।
খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা জানান, জেলার মাটিরাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে মাটিরাঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সরকারদলীয় কর্মীরা ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও বিএনপি প্রার্থীর ওপর হামলা করেছে।
বিএনপি প্রার্থী বাদশা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, নৌকা প্রতীকে জোরপূর্বক সিল মারা হয়েছে। আমি দ্রুত ৫নং বুথে ঢুকতে গেলে যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের কর্মীরা আমাকে বাধা দেয়, এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মারতে থাকে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ ও পোলিং অফিসারের সামনেই ধানের শীষ প্রতীকের পোলিং এজেন্টকে বের করে দিয়ে নৌকার প্রতীকে সিল মারে এবং ব্যালট ছিনিয়ে নেয় তারা। এ ছাড়া মেয়র প্রার্থীর ৯টি ব্যালট ও কাউন্সিলর প্রার্থীর ৪৯টি ব্যালট বাতিল করা হয়েছে বলে উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও বারইয়ারহাট পৌরসভায় ১৮টি ভোটকেন্দ্র দখল ও জালভোট দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার রাত থেকে দুই পৌরসভার সব ক’টি কেন্দ্র দখলে নেয় সরকারদলীয় লোকজন। সারা রাত ককটেল বিস্ফোরণে পুরো এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মিরসরাই উপজেলার দুইটি পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানান। সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলে দুই পৌরসভার ১৮টি কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের প্রথমে কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা এবং পরে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ ওঠে। বেলা সাড়ে ১১টায় কেন্দ্র দখলসহ কয়েকটি অভিযোগ তুলে বারইয়ারহাট পৌরসভার বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মঈন উদ্দিন লিটন নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে মিরসরাই পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী এ জেড এম রফিকুল ইসলাম পারভেজও নির্বাচন স্থগিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন। দুই প্রার্থী উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান।
এ দিকে বারইয়ারহাট পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একাধিক প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে।
অপর দিকে মিরসরাই পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী কামরুল হাসান লিটনের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন তিনি। পৌরসভার সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বিবি রহিমা রুমা অভিযোগ করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাহানা আক্তারের লোকজন তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সুলতানের নেছা চৌধুরী অভিযোগ করেন ৩ ওয়ার্ডের তিনটি ভোটকেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়।
দাগনভূঞা (ফেনী) সংবাদদাতা জানান, ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কাজী সাইফুর রহমান স্বপনের ওপর হামলা, অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে ভোট বাতিল ও পুনঃতফসিলের দাবিতে বিএনপি প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন করেন। দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলি হয়।
ফেনীর দাগনভূঞা পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কাজী সাইফুর রহমান স্বপনের ওপর হামলা করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকেরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্র জানায়, অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ পেলে ভোটগ্রহণের কিছুক্ষণ পর ওই কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী কাজী সাইফুর রহমান স্বপন প্রবেশ করতে চাইলে তাকে বাধা দেয়া হয়। এ সময় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল ফোরকান বুলবুলের ছোট ভাই মুন্না ও কাউন্সিলর সাইফুলের বড় ভাই যুবলীগ নেতা রাসেলের নেতৃত্বে উচ্ছৃখল যুবকেরা হামলা করে।
ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদগঞ্জে ভোট কেন্দ্রে হাঙ্গামা, গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যালট পেপার ছিনতাই, জাল ভোট প্রদান ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। ব্যালট পেপার ছিনতাইকালে বহিরাগতদের ৫টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ব্যালট পেপার ছিনতাইকালে বহিরাগত তিনজনকে মোবাইল কোর্ট তিন মাসের সাজা প্রদান করেছে। নিজ কেন্দ্রে পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী। বিধিবহির্ভূতভাবে পৌর এলাকার বাসিন্দা ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা জানান, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলা, গোলাগুলি, গণমাধ্যম কর্মীদের লাঞ্ছিত করা ও ক্যামেরা ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে মৌলভীবাজার সদর ও বড়লেখা, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ পৌরসভার ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এসব ঘটনায় বিএনপির দুই কর্মীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। এ দিকে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে নিন্দা ও ক্ষোভ জানানো হয়েছে। জেলার কুলাউড়া পৌরসভা নির্বাচন চলাকালে পৌরসভার কুলাউড়া ইয়াকুব তাজুল মহিল কলেজ সেন্টারে একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্ট জাকির হোসেন গিয়াস (৪২) দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বুধবার বেলা সোয়া ১২টায় মারা গেছেন।
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের বাহাদিপুর কেন্দ্রে (আ.লীগ বিদ্রোহী) মেয়র প্রার্থী তারিকুল ইসলাম চঞ্চলের ওপর নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের হামলায় গুরুত্বর আহত হন। তাকে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভূঞাপুর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাহিনুল ইসলাম তরফদার বাদল, কাউন্সিলর প্রার্থী আরিফ হোসেন তরফদার রুবেলসহ পাঁচজন আহত হন। ভূঞাপুর মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের লোকজন ৪৪টি ব্যালট পেপার ছিনতাই করে। জাল ভোট ও ছিনতাই ঠেকাতে পুলিশ ৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
রাঙ্গামাটি সংবাদদাতা জানান, রাঙ্গামাটিতে তিনটি ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষে ও হামলায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ও একজন পুলিশসহ ১৪ জন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তিনজন। আহতদের সবাই রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিএনপি প্রার্থী শহরের ১০টি ভোটকেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে কেন্দ্র সেগুলোতে পুনরায় ভোট গ্রহণের জন্য রিটানিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা: গঙ্গা মানিক চাকমার পক্ষেও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সোনারগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে একটি ভোটকেন্দ্র দখল করাকে কেন্দ্র করে আ’লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে সোনারগাঁও থানার ওসিসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। ওই সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশ গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পৌরসভার সোনারগাঁও জি আর ইন্সটিটিউশন উচ্চবিদ্যালয় এ-ই কলেজ কেন্দ্রকে দখলের চেষ্টা করলে ওই ঘটনা ঘটে।
লাকসাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, লাকসামে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই, প্রকাশ্য ব্যালেটে সিল প্রদান, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া একটি কেন্দ্র থেকে র‌্যাব ১০টি পেট্রল বোমা, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের মধ্য দিয়ে পৌর নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আ’লীগের কর্মী-সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্র দখলের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। এ সময় অধিকাংশ কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে কেন্দ্র দখল করে নেয়।
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, ভোট কারচুপি, প্রভাব বিস্তার, এজেন্টদের মারধর ও কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ায় বাধ্য করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র পদে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুর রহিম নির্বাচন বর্জন এবং বিএনপি প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র নজরুল ইসলাম একই অভিযোগে বিকেল সোয়া ৩টায় নির্বাচন প্রত্যাখ্যান এবং পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান। এ ছাড়া জালভোট দেয়া নিয়ে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আটজন আহত হয়েছেন। এ সময় দু’টি বাড়ি ও একটি তাঁত কারখানা ভাঙচুর করা হয়।
গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, গুরুদাসপুর পৌর নির্বাচনে ১২টি কেন্দ্রের মধ্যে চাঁচকৈড় গারিষাপাড়া জামিয়াতুল ইসলামিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের সামনে ভোট শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা পরেই স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আমজাদ হোসেনের নারিকেল গাছ প্রতীকের পোলিং এজেন্ট শাহিন (৪৮) ও জিয়ারুল (২৮) কে মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে আ’লীগ মেয়র প্রার্থীর সমর্থকেরা। খবর পেয়ে টহলরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত শাহিনকে গুরুদাসপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেয়া হয়েছে।
ফুলপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ফুলপুর পৌরসভা নির্বাচনে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও প্রতিপক্ষের হামলায় এক কাউন্সিলর প্রার্থী আহত হয়েছেন। ফুলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে মেয়র প্রার্থীর ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অপর দিকে ফুলপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলায় ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলামসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।
হোমনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, হোমনায় দু’জন মেয়র প্রার্থী এবং দুই কমিশনার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে চার পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।
চান্দিনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার চান্দিনায় জালভোট দেয়ার অভিযোগে আব্দুল মবিন (৫২) নামে এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও নাজমুল হাসান (১৭) নামে এক তরুণকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সূত্র : নয়া দিগন্ত

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন