আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের উদ্যোগ নিন: খালেদা জিয়া

সময় বাংলা,ঢাকা:

khaleda zia polton officeনির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দের অবসান ঘটাতে সংলাপের মাধ্যমে একটি গ্রহনযোগ্য সমাধানের আহবান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়া।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট সমম্যার সমাধান বের করি। আমাদের কারো প্রতি রাগ, ক্রোধ ও বিরোধ নেই। আপনারা যা করেছেন ভুল করেছেন। মনে মনে তা স্বীকার করে নেন।

আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ, দেশের মানুষ চায় আমরা একসঙ্গে কাজ করি। আমরাও তাই চাই। দেশের প্রয়োজনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার বিকেলে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। জনসভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর বিএনপি।

খালেদা জিয়া ১ ঘন্টা ১২ মিনিটের বক্তব্য তিনি সিটি- পৌরসভা নির্বাচনে কারচুপি, সরকারের দুর্নীতি, বিরোধী দলের উপর হামলা-মামলা, নির্যাতন, বিনিয়োগহীনতা, শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস, দু:শাসন, গুম-খুনের চিত্র তুলে ধরছেন।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জঙ্গিদের সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে। জঙ্গিরা বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা চালানোর পরও আওয়ামী লীগ তাদের গ্রেফতার করেনি।

খালেদা জিয়া বলেন, জঙ্গিবাদ আওয়ামী লীগের তৈরি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে জঙ্গিদের উত্থানের পরও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। অপরদেশে জঙ্গি হামলা করতে এদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এদেশের জঙ্গি হামলার জন্য মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ও সংসদকে অবৈধ। আজকে যারা ক্ষমতায় আছে তারা কোন বৈধ সরকার না। তারা যা করছে তাও বৈধ না। সরকারকে বলবো আপনারা সঠিক পথে আসুন। নাহলে জনগণ কখন জেগে উঠবে বলা যায়না। আর তখন আপনাদেরকে বিদায় নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনে যারা আছে তারা অথর্ব, মেরুদ-হীন। নির্বাচন কমিশন হাসিনার কাছে সাহায্য চায়। তারা নাকি অসহায়। অসহায় হলে পদত্যাগ করুক। এই নির্বাচন কমিশন দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।

পৌর নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা কেন্দ্র্র দখল করেছে, নিজেরা সীল মেরেছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা দেখাতে চেয়েছে তাদের জনপ্রিয়তা। কিন্তু আমি তাদেরকে বলবো, পুলিশ, র‌্যাব এবং ছাত্রলীগ দিয়ে জনপ্রিয়তা যাচাই না করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে যাচাই করুন।

তিনি বলেন, পৌর নির্বাচনে আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছিলাম সেনাবাহিনী মোতায়েন করার জন্য। কিন্তু সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকা সত্তে¡ও তারা মোতায়েন করেনি। আওয়ামীলীগকে জেতানোর জন্য যত ব্যবস্থা করার দরকার তারা তা করেছে।

আওয়ামী লীগ শুধু গণতন্ত্র হত্যা নয় মানুষও হত্যা করেছে অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘খুন, গুম বন্ধ করুন। এগুলো করে কেউ কোনোদিন টিকে থাকতে পারেনি। আপনারাও পারবেন না। ইতিহাসে অনেকবার এমন হয়েছে। কিন্তু তাদের অবস্থা ভয়াবহ হয়েছে।

খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি’র নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তুলে নিয়ে গুম করা হচ্ছে। এই গুম-খুন করে জনগণকে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। জুলুম নির্যাতন বন্ধ করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিন। কথায় কথায় নতুন আইন করা হয় শুধুমাত্র বিরোধী দলকে বন্দি করা রাখার জন্য। বহু চেষ্টা করেছেন। এর আগে একবার চেষ্টা করেছেন একদলীয় শাসন কায়েম করার। এখন আবার করছেন।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। ৫ জানুয়ারি ভোট কেন্দ্রে কোন ভোটার ছিলনা, যেহেতু ভোটার ছিলনা সে কারণে আইন শৃক্সখলা বাহিনীরও প্রয়োজন ছিলনা। অনেক কেন্দ্রে তাই কুকুরকে পাহারা দিতে দেখা গেছে। যেহেতু ভোটার কেন্দ্রে যায়নি সুতরাং তাদের (আওয়ামী লীগের) দাবিকৃত ভোট কুকুরই দিয়েছিল।

তিনি বলেন, এখন নির্বাচনে পারবে না বলেই নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েই কিভাবে দখল করবে সেই ব্যবস্থা করে রাখে। একইভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবে নির্বাচন দিয়ে জয়ী হতে পারবে না বলেই জোর করে দখল করে নেয়।

তিনি আরো বলেন, বিগত সিটি নির্বাচনে বিএনপি মেয়র প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা দেখে ভয় পেয়ে আওয়ামী লীগের গুন্ডারা জাল ভোট দিয়ে নিজেদের প্রার্থীদের জয়ী করে নেয়। মানুষ গুম করে, খুন করে রাজতন্ত্র কয়েম করার যে চেষ্টা আপনারা করছেন, আমার মনে হয় তা কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে না।

আওয়ামীলীগ বিএনপির জনসভাকে ভয় পায় দাবি করে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জানে বিএনপিকে জনসভার আয়োজন করার অনুমতি দিলে জনস্রোত নামবে। তাই তারা জনসভার অনুমতি দিতে চায় না। তবে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি সরকারকে বাকি গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘অনেক দিন পর সামনে আসতে পেরে আমিসহ সবাই আনন্দিত ও উৎফুল্লু।

গরকারকে উদ্দেশ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, দেশে গণতন্ত্র ইেন। গণতন্ত্র ফিরে না আসলে খুন, গুম বন্ধ হবে না। তাই অবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। যেহেতু অবৈধভাবে আপনারা ক্ষমতায় বসে আছেন তাই আপনাদেরকেই উদ্যেগ নিতে হবে।

সরকার যে কাজ করছে তা অবৈধ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় আছে লুটপাট করার জন্য, দেশের টাকা বিদেশে প্রাচার করার জন্য। তাই আজকে দরকার জনগণের সরকার।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘সরকার কথায়-কথায় আইন করে। এগুলো করে বিরোধী দলকে ফাঁদে ফেলার জন্য, আটকানোর জন্য। কিন্তু এতে আমাদের আটকানো যাবে না।

বেতন বৈষম্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সহ ২৬ ক্যাডাদের দাবি যৌক্তিক বলে দাবি করে তা মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান খালেদা জিয়া।

উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, দেশটার দিকে একটু দেখুন, সব শেষ হয়ে গেছে। দেশের দিকে তাকিয়ে কাজ করতে হবে। সকলে মিলে দেশটাকে গড়ে তুলে পৃথিবীর মানচিত্রে এমন ভাবে গড়ে তুলবো যাতে আমাদের কেউ ছোট ভাবতে না পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য গয়েশ্বরের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, লে জে (অব) মাহবুবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, আবদুল্লাহ আল নোমান, সোলিা রহমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ডা. অধ্যাপক জেড এম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, যুব দলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহনগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল বাশার, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুনির হোসেন, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মাদ নাসির, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, আব্দুল মান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব প্রমুখ।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন