নিউইয়র্কে বিএনপির সভায় তুলকালাম কান্ড!

সময় বাংলা, নিউইয়র্ক :

new york bnp picপ্রতিরোধ আর সভা ভুন্ডুলের অপচেষ্টার মধ্য দিয়ে নিউ ইয়র্কে বিএনপির গণতন্ত্র হত্যা দিবস ও পৌর নির্বাচনে সরকারের ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির এ সভায় বিএনপি সরকারের সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দু’গ্রুপের মধ্যে ঘটেছে তুলকালাম কাণ্ড।

গত রোববার সন্ধায় জ্যাকসন হাইটসের একটি প্লাজার মিলনায়তনে নিউইয়র্ক সিটি বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সভা শুরুর প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অপর গ্রুপের নেতা-কর্মিরা একত্রিত হয়ে সভাস্থলে এসে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে এবং সভা ভণ্ডুলের ‘অপচেষ্টা’ চালান। উপস্থিত নেতা-কর্মিদের প্রতিরোধে মুখে তারা সমঝোতা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

নিউইয়র্ক সিটি বিএনপির সিনিয়র কার্যকরী সদস্য জাকির হাওলাদারের সভাপতিত্বে এবং সিটি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেকের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্বাস উদ্দিন দুলাল, গেস্ট অব অনার যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ-সাধারন সম্পাদক আবু সুফিয়ান, বিশেষ অতিথি সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুস সবুর, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক মো.গিয়াস উদ্দিন, সীতাকুন্ড থানার সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ, ফিরোজুল ইসলাম পাটোয়ারী, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক রহমান দুলাল, শেখ শাহজাহান, হাজী শাহ আলম ভূঁইয়া, খোরশেদ আলম মেম্বর, মাওলানা ফখরুল ইসলাম মাসুম, মোহাম্মদ হোসেন কচি, হুমায়ূন কবীর, সালেহ চৌধুরী, এ কে আজাদ, নূরুল কবীর, শাহ আলম ও শিমুল প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, ‘অতীতে কোনো সরকারই জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। জনগণের প্রতিরোধের মুখে স্বৈরাচারকে বিদায় হতে হয়েছে। এ সরকারকেও করুণ পরিণতির মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে পালাতে হবে। সেদিন আর বেশী দূরে নয়।’ প্রতিবাদ সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলনকে যুক্তরাষ্ট্রে অবাঞ্ছিত ঘোষণার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান বক্তারা।

তারা বলেন, এহছানুল হক মিলন বিএনপির ত্যাগী নেতা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে কমিটি গঠন করছেন। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তি দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সংগঠন বিএনপিকে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। বক্তারা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি থেকে ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চক্রান্তকারীরা চিহ্নিত হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। কিন্তু আগামীতে তাদের চক্রান্ত রুখতে সাংগঠনিকভাবে প্রতিহত করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে চক্রান্তকারী, চাঁদাবাজ ও ধান্ধাবাজদের কোনো জায়গা হবে না।

সভায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট ও সহ-সভাপতি গিয়াস আহমেদ গংদের সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন এবং তাদের বিএনপি থেকে বহিস্কারের জন্য কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারকদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত এবং দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘায়ূ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলনা মোশতাক হোসেন।

প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন মাইনুল হাসান মোহিদ, শাহাদাত হোসেন রাজু, এস মিয়া তৌহিদ, শেখ মো. সিদ্দিক, রহমত উল্লাহ বাবুল, মামুন রশীদ রিপন, মাসুদ আলম, ইয়াছিন আরাফাত, আহসান উল্লাহ মামুন, আব্দুর রহমান, জসিম মিয়া, মোশকাত হোসেন, ফয়সল আহমেদ মামুন, মো. আফলাতুল, মাওলানা আবুল খায়ের, আলাউদ্দিন মিলন, সাইফুল ইসলাম, মমিনুল ইসলাম সোহেল, মানিক হোসেন, হারুনূর রশীদ, জলিলুর রহমান, সাইফুল ইসলাম হারুন, নোমান সিদ্দিকী, বায়েজিদ, মাহবুবুর রহমান, তাজুল ইসলাম, হারুনূর রশীদ, মো. মহিন, আব্দুর রব, আরিফ রহমান, মাজেদুল হক, মোহাম্মদ ইউসূফ, আনোয়ার হোসেন, লিয়াকত আলী, সালেহ আহমেদ, সোহাগ হোসেন, আওরান রহমান, ইউসুফ সরকার, রায়হান সুজন, কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

এদিকে গত রোববার জ্যাকসন হাইটসের পালকি সেন্টার ও বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়তনে তারেক পরিষদ ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে সভা দুটি শুরু হলে চার অংশের ‘সম্মিলিত বিএনপি’র বাধার মুখে তা হতে পারেনি।

এ তথ্য জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ বলেন, ‘গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতারা যেখানেই মিলন সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে নেতা-কর্মীরা মিলন সমর্থকদের দুটি সভায় হাজির হয়ে মিলনের চাঁদাবাজি আর ধান্ধাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।’

গিয়াস আরো জানান, ওয়ান-ইলেভেনের দোসর এহছানুল হক মিলন অঙ্গরাজ্য কমিটি গঠনের নামে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নিলামে তুলেছেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে যারা বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন, তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাই তার এই ধান্দাবাজির বিরুদ্ধে একাত্ম হবার আহবান জানালে তার সমর্থকরা বাস্তবতা উপলব্ধি করে এবং অবস্থা বেগতিক দেখে সভা বাতিল করে আমাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আমাদের সভায় যোগ দেয়।

এর আগে পৌর নির্বাচনের ফল বাতিল, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং অবিলম্বে কেয়ারটেকার সরকার গঠন করে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ১০ জানুয়ারী রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটস এর ডাইভারসিটি প্লাজার সামনে বিক্ষোভ করে। ৩৬ সংগঠন এই বিক্ষোভে অংশ নেয়। পরে স্থানীয় কাবাব কিং রেস্টুরেন্টে এক সমাবেশে মিলিত হন।

এতে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ৩৬ সংগঠনের নেতা কাজী আযম। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক আবদুস সালাম এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি গিয়াস আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক জিল্লুর রহমান, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, অধ্যাপক দেলোয়ার, মাহমুদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ আলম, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির প্রেসিডেন্ট খালেক আকন্দ, সাধারণ সম্পাদক ভিপি আলমগীর, নিউইয়র্ক সিটি বিএনপির চেয়ারম্যান সেলিম রেজা, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক গোলাম ফারুক শাহীন, ব্রুকলিন বিএনপির সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ, সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী,যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সভাপতি এবাদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাযহারুল ইসলাম জনি, সহ সভাপতি খলকু কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক কয়েস আহমেদ, বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন রাজু, মাসুদ রানা, যুবদল নেতা হারুন চৌধুরী ও জাকির চৌধুরী প্রমুখ।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন