জাতিসংঘের সামনে নির্মিত হচ্ছে একুশের ভাস্কর্য

সময় বাংলা ডেস্ক :

n j picজাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে অস্থায়ী নির্মিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ভাস্কর্য। ভাস্কর্য স্থাপনে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র অনুমতি দেয়ার পর স্থানও নির্ধারণ করা হয়ে গেছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সিটি মেয়র দপ্তরের কর্মকর্তা জেনিফার লেন্টাস জাস জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে ভাস্কর্য স্থাপনের জন্য স্থান নির্ধারণ করে দেন।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পটভূমিতে নির্মিত একটি ভাস্কর্য এই প্রথমবারের মত নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে স্থাপন করা হচ্ছে। উত্তর আমেরিকায় বাঙালির একুশ উদযাপনের দীর্ঘ ইতিহাসে এই ভাস্কর্য স্থাপন একটি যুগান্তকারী ঘটনার সৃষ্টি করছে বলে মনে করা হচ্ছে। স্থান নির্ধারণকালে উপস্থিত ছিলেন বিম্বজিত সাহা, নিনি ওয়াহেদ, ওবায়দুল্লাহ মামুন, আব্দুর রহিম বাদশা ও নাজিম আহমেদ।

বিশ্বসভায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায় যেভাবে অমর একুশকে সম্মানিত করা হয়েছে তেমনিভাবে ভাষার মাসের প্রথম দিন থেকে শেষদিন পর্যন্ত মাসব্যাপী ভাস্কর্যটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে ম্যানহাটানের ১ম এভিনিউ ও ৪৭ স্ট্রিটের কর্নারে। পেছনে জাতিসংঘের সদর দপ্তর আর বিভিন্ন দেশের সারি সারি পতাকা আর তার সামনে থাকছে একুশের এই ভাস্কর্য।

ভাস্কর্য স্থাপনের আয়োজক মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনা মঞ্চ। ভাস্কর্যটির নকশা তৈরি করেছেন অলিম্পিক গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত শিল্পী খুরশীদ সেলিম। আর ভাস্কর্যটি নির্মাণ করছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী মৃণাল হক। ২০১৫ সালের শুরুতে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মাসব্যাপী একুশের ভাস্কর্য স্থাপনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিটি অব নিউইয়র্ক পার্ক অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ডিপার্টমেন্ট চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এক চুক্তি সম্পাদনের মধ্য দিয়ে গত একমাস ধরে এই ভাস্কর্য স্থাপনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা। স্থান নির্ধারণ অনুষ্ঠান শেষে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দলটি জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে একুশের ভাস্কর্য স্থাপনের বিষয়টি অবহিত করেছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি দুপুর ৩টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করা হবে। এটি থাকবে সারা ফেব্রুয়ারি মাস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, ওয়াশিংটস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, কনসাল জেনারেল শামীম আহসান এনডিসিসহ আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিবিদ, ইউনেস্কো, জাতিসংঘ এবং ইউএনডিপির কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ওইদিন দিনব্যাপী এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাসব্যাপী এই ভাস্কর্যটি প্রদর্শনের ঘটনায় আমেরিকা অভিবাসী বাঙালিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানের টাইটেল স্পন্সর ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড এবং প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে রয়েছেন নিউইয়র্কের আবাসন ব্যবসায়ী ও সংস্কৃতিসেবী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।

নিউইয়র্কে আগামী ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে একুশের গ্রন্থমেলার ২৫ বছর পুর্তি। জ্যাকসন হাইটসের পিএস ৬৯ মিলনায়তনে একুশের নতুন গ্রন্থ নিয়ে অনুষ্ঠিত এই গ্রন্থমেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আমন্ত্রিত লেখক হিসেবে বাংলাদেশ থেকে যোগ দিচ্ছেন সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হক, আনোয়ারা সৈয়দ হকসহ বিশিষ্ট লেখকবৃন্দ। একুশ উপলক্ষে প্রকাশিত নতুন বইগুলো এই মেলায় স্থান পাবে। এছাড়া প্রকাশিত হচ্ছে একুশ উপলক্ষে বিশেষ স্মারকগ্রন্থ ‘বাঙালির চেতনা’।

উল্লেখ্য, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিনেটর হোজে পেরেল্টার প্রস্তবনায় ২০১৫ সালে নিউইয়র্ক স্টেট গভর্ণর ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। একুশের প্রথম প্রহরে শহীদদের প্রতি পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১ মিনিটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একই সময়ে নিউইয়র্ক সময় ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ১ মিনিটে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ শুরু হবে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন