শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮০তম জন্মবার্ষিকী আজ

সময় বাংলা ডেস্ক :

bnp ziaআজ ১৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮০তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ছিলেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতীক।

১৯৩৬ সালের এমনি এক শীতার্ত দিনে তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। মাতা-পিতা তখন আদর করে নাম রাখেন কমল। দেশ, মাটি ও মানুষের জন্যে আমৃত্যু নিবেদিতপ্রাণ এই ব্যক্তিত্বের পরিচিতি সর্বজনবিদিত। দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, অসাধারণ দেশপ্রেমিক, অসম সাহসী ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রতীক হিসেবে জিয়াউর রহমান ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার জন্মদিন পালন উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ দল নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যদিও এমন একটি দিনে তার জন্মদিন পালন করা হচ্ছে যখন তার সহধর্মিনী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে নানা অপপ্রচার । তাকে রাজনীতি থেকে মাইনাসের চেষ্টা করার পাশাপশি বিএনপিকে ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র চরছে। দলটির একাধিক সিনিয়র নেতা কারাগারে।

জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে। জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার কর্মময় জীবনের ওপর সংবাদমাধ্যম বিশেষ ক্রোড়পত্র ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সূত্র মতে, মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে জিয়াউর রহমান এদেশের মানুষের কাছে প্রথম পরিচিত হলেও পরে তিনি বাংলাদেশের একজন বরেণ্য রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। খাল কাটার মধ্য দিয়ে তিনি দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করেছিলেন। তার সময়ই দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠে। জিয়াউর রহমানই দেশে গার্মেন্টস শিল্পের প্রসার ঘটান। মধ্যপ্রাচ্যসহ বহিঃরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দেন জিয়াউর রহমানই। তার আমলেই জনশক্তি রফতানির উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটে। আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনের মধ্য দিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতির সূচনা করেন।

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের নতুন দর্শন উপস্থাপন করেন জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যান। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি দেশের মানুষের কাছে প্রিয় দল হিসেবে ’৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ, ’৯১ সালের ৫ম সংসদ, ৬ষ্ঠ ও ৮ম সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে।
স্বৈরশাসকের অধীনে অনুষ্ঠিত ’৮৬ সালের তৃতীয় ও ’৮৮ সালের ৪র্থ সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে। এছাড়া সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন মহাজোটের অধীনে অনুষ্ঠিত একতরফার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ দেশের অধিকাংশ দল। এই নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে কোনো প্রতিদ্বন্ধীই ছিল না। বাকি ১৪৭ আসনের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি ছিল বলে বিভিন্ন সংগঠন দাবি করে। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটসহ অন্যান্য বিরোধী দলও এই নির্বাচন বর্জন করে। একতরফার এই নির্বাচনে সমর্থন জানায়নি দেশী-বিদেশী কোনো সংস্থাই। ভোটারবিহীন সেই নির্বাচনের পর থেকেই বিরোধী জোট দ্রুত সবার অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।

সূত্র মতে, ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’ কন্ঠটি এখনো কোটি মানুষের হৃদয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করছে। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার পরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তার ঘোষণা যেমন মুক্তিযুদ্ধে জাপিয়ে পড়তে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিল, তেমনি ৭৫ সালে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যখন হুমকির মুখে, তখন সিপাহী-জনতার যে অভ্যুত্থান হয় তারই ধারাবাহিকতায় তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসীন হন।

তিনি একদলীয় বাকশালের পরিবর্তে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর মাত্র চারটি দৈনিক পত্রিকা রেখে অন্য সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। হরণ করা হয়েছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও ফিরিয়ে দেন। পররাষ্ট্র নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন করে জিয়াউর রহমান চীনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের সূচনা করেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৭টি দেশকে নিয়ে ‘সার্ক’ গঠনের উদ্যোগ জিয়াউর রহমানেরই। ওআইসিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর সংহতি জোরদার করার জন্য তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

১৯৮১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মর্মান্তিকভাবে নিহত হন।

মহাসচিবের বাণী : মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনের দিশারী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া বাণীতে তার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বাণী দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর। বাণীতে তিনি বলেন, এদেশের এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় উদ্ভাসিত হন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। মাতৃভূমির মুক্তির জন্য নেতৃত্বহীন জাতির দিশারী হয়ে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন। স্বাধীনতাত্তোর দুঃসহ স্বৈরাচারী দূঃশাসনে চরম হতাশায় দেশ যখন নিপতিত, জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়া যখন বাধাগ্রস্থ ঠিক তখনই জিয়াউর রহমান জনগণের নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন। মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অপরাজনীতি দ্বারা জনগণকে প্রতারিত করে স্বাধীনতাত্তোর ক্ষমতাসীন মহল যখন মানুষের বাক-ব্যক্তি-স্বাধীনতাকে হরণ করে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিলো, দেশকে ঠেলে দিয়েছিলো দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে জাতির এরকম এক চরম সংকটময় মূহুর্তে সৈনিক জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে শহীদ জিয়া ক্ষমতার হাল ধরেন। ক্ষমতায় এসেই মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পূনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, নিশ্চিত করেন মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা। উৎপাদনের রাজনীতি প্রবর্তন করে তিনি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তার ‘বহুমত ও পথের লালন ও পরিচর্যা’ এবং দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদার আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। শহীদ জিয়া ছিলেন আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক আপোষহীন দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক। তাই দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা নিজেদের নীলনক্শা বাস্তবায়নের কাঁটা ভেবে জিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কিন্তু তার এই আত্মত্যাগ জনগণের মধ্যে গড়ে উঠেছে দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে এক ইস্পাতকঠিন গণঐক্য। শহীদ জিয়ার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শনেই আমাদের জাতিসত্ত্বার সঠিক স্বরূপটি আবিস্কৃত হয়-যা আমাদের ভৌগলিক জাতিসত্ত্বার সুনির্দিষ্ট পরিচয় দান করে। বিশ্ব মানচিত্রে আমাদের আত্মপরিচয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠে। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখারও সাহসী অঙ্গীকার। শহীদ জিয়ার জন্মদিনে তার প্রদর্শিত পথেই আধিপত্যবাদের ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করে জনগণের ঘাড়ে চেপে বসা বর্তমান ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাভূত করতে হবে। আমি এই মহান রাষ্ট্রনায়কের জন্মবার্ষিকীতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, ন্যায়-বিচার এবং মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীসহ সকলের প্রতি আহবান জানাই।

(বানান রীতি লেখকের নিজস্ব )
এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।সূত্র:a1

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন