মালয়েশিয়ায় অপহৃত বাংলাদেশি কর্মী উদ্ধার; আটক ৫

সময় বাংলা ডেস্ক:

malayshiaমালয়েশিয়ায় অপহরণের আট দিন পর এক বাংলাদেশি কর্মীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত বাংলাদেশি দেশটির সুবাং জায়া শহরের একটি দোকানে কাজ করতেন। অপহরণচক্রের মূলহোতাসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে আটক করেছে মালয়েশিয়া পুলিশ। ৩৯ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশিকে অপহরণ করে চার লাখ রিঙ্গিত (৬৮ লাখ টাকা) মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। সুবাং জায়া পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার ইয়াহায়া রামলির বরাতে শনিবার মালয়েশিয়ার স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে এ তথ্য জানা যায়।

অপহরণের ঘটনায় মালয়েশিয়ায় অনেক প্রবাসী কর্মীর মাঝে আতংক বিরাজ করছে। ইয়াহায়া রামলি জানান, গত ২২ জানুয়ারি রাতে বাংলাদেশি ওই ব্যক্তিকে ইউএসজে-১৪ এলাকার একটি দোকান থেকে অপহরণ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, অপহৃতকে বহন করা নাম্বারবিহীন সাদা গাড়িতে দু’জন মালয়েশিয়ান নাগরিক ছিলেন। অপহরণকারীরা অপহৃতের মোবাইল ব্যবহার করে বাংলাদেশে পরিবারকে ফোন দেয়। চার লাখ রিঙ্গিত মুক্তিপণ না দেয়া হলে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় তারা। রামলি আরও জানান, অপহৃতের স্ত্রী বাংলাদেশ থেকে ফোন দিয়ে মালয়েশিয়া অবস্থানরত এক আত্মীয়কে বিষয়টি জানান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় পুলিশ রিপোর্ট দায়ের করলে সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশিকে উদ্ধারে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। এরই মধ্যে বাংলাদেশি ব্যক্তিকে নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে দেশ থেকে তার পরিবার অনলাইনের মাধ্যমে অপহরকারীদের কাছে ৩০ হাজার রিঙ্গিতও (৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা) পাঠায়।

এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত গত ২৫ জানুয়ারি সেমেনিয়াহর একটি রেস্টুরেন্ট থেকে ২৩ বছর এবং ৩৩ বছর বয়সী দুই মায়ানমার নাগরিককে আটক করেছে। তবে এই দুই ব্যক্তি তাদের পরিকল্পনার বিষয়ে মুখ খোলেনি। এছাড়া, বাতু কেভসের একটি হোটেল কক্ষ থেকে ৪২ বছর বয়সী এক মালয়েশিয়ানকেও আটক করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, এই ব্যক্তি ওই অপহরণ চক্রের প্রধান। এই লোকটির বিরুদ্ধে আরও ছয়টি বাণিজ্যিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ তাকে খুঁজছিলো বলেও জানান রামলি। তিনি বলেন, পুলিশ এ সময় তিনটি মোবাইল ফোন, অপহৃতের মানিব্যাগ, নগদ দুই হাজার রিঙ্গিত, একটি ভুয়া পরিচয়পত্র ও প্রধানমন্ত্রীর অফিসের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ভুয়া ব্যাজ জব্দ করে। পরিচয়পত্র এবং ব্যাজ আটক হওয়া মালয়েশিয়ান ব্যক্তিটি ব্যবহার করতেন।

গত ২৭ জানুয়ারি উলু ইয়ামে সুংগাই বাগানের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় অপহৃত বাংলাদেশিকে। এ সময় ১৯ বছর বয়সী এক মায়ানমারের নাগরিককেও আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে এক বাংলাদেশি ও মায়ানমারের দুষ্কৃতকারী পালিয়ে যায়। সুবাং পুলিশের এই সহকারী কমিশনার আরও জানান, অপরাধে জড়িত থাকায় পুলিশ শাহ-আলমের জালান তেরাতাই উতামা থেকে ২৭ বছর বয়সী একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারকেও আটক করেছে। দুষ্কৃতকারীদের কাছ থেকে মুক্তিপণের ৭ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, গত মাসে গেন্টিং হাইল্যান্ডের জঙ্গলে অপহরণের শিকার দুই বাংলাদেশির লাশ পাওয়া যায়। সেখানে একজনের পরিবার বাংলাদেশ থেকে ২৭ হাজার (৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা) রিঙ্গিত পাঠিয়েছিলেন মুক্তিপণের জন্য। তবে অপহরণকারীদের দাবি ছিল ৫০ হাজার রিঙ্গিত (নয় লাখ টাকা)। পরে ২০ ও ২৯ বছর বয়সী ওই দুই বাংলাদেশিকে মেরে জঙ্গলের গিরিখাতে ফেলে দেয়া হয়েছিল।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন