সিডনিতে কণ্ঠশিল্পী রাহুল হাসানের একক সঙ্গীত সন্ধ্যা

সময় বাংলা, অস্ট্রেলিয়া:

22 raholগত ৩০ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় ওয়াইলি পার্কস্থ হরিজন থিয়েটারে সারগাম সিডনি ও হরিজন থিয়েটার প্রবাসী বাংলাদেশি কণ্ঠশিল্পী রাহুল হাসানের একক সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে রাহুল বিখ্যাত নজরুল সঙ্গীত ‘খেলিছো এই বিশ্বলয়ে বিরাট শিশু আনমনে…’ দিয়ে শুরুর পর বেশ কয়েকটি রবীন্দ্র, নজরুল ও লোক সঙ্গীত পরিবেশন করেন। শিল্পীর দরদে গাওয়া বিখ্যাত পুরাতন গানগুলির মধ্যে ছিল ‘ধন্য ধন্য ও বলি তারে’, ‘মাটিরও পিঞ্জিরার মাঝে বন্দী’, ‘শুয়াচান পাখী আমার’ ইত্যাদি।

চা বিরতির পর গায়ক রাহুল তার নিজের সুরে জচিন্ত সান্তামারিয়ার পিয়ানো ও তবলায় তিনটি গান পরিবেশন করেন। এই সময় উপস্থিত দর্শক শ্রোতারা মুর্হমুহ করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। তারপর নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর ‘আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে’ শোনার পর একে একে সুবীর নন্দী, এন্ডু কিশোর, রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, ভূপেন হাজারিকার ‘মানুষ মানুষের জন্য’ সহ বেশ কিছু গান পরিবেশন করেন। সবশেষে মান্না দের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে শিল্পী রাহুল তার বেশ কিছু বিখ্যাত গান গেয়ে শোনান।

 

কণ্ঠশিল্পী রাহুল হাসানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। মাত্র ছয় বছর বয়সেই তার মা প্রখ্যাত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী আফরোজা আলমের কাছে বাংলাদেশি ও ইন্ডিয়ান উচ্চাঙ্গ ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের হাতে খড়ি হয়। ওই ছোট্ট বয়েসেই তিনি তার মা এবং প্রয়াত নানা আফসার আলী মহলদারের কাছ থেকে সঙ্গীতের বিষয়ে সব ধরের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। তার নানা ছিলেন একাধারে সঙ্গীত শিক্ষক, অভিনেতা, গায়ক, সুরকার ও গীতিকার।

১৯৮৯-২০০৩ সালে রাহুল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিক্ষার পাশাপাশি সুজিত মুস্তাফা, নিলুফার ইয়াসমিন, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, ওস্তাদ ওমর ফারুক, ওস্তাদ মুশকুর আলী খানের কাছে রবীন্দ্র, নজরুল ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম নেন। রাহুল ১৯৯৮-২০০২ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও মিউজিক ডিপার্টমেণ্টের বিএ অনার্সের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন।  

১৯৯৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত বিষয়ে পড়াশুনার সময়েই তিনি টিএসসিতে ‘সারগাম’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলেন এবং বেশ কয়েকটি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের পর তিনি ২০০৫ সালে সিডনি রেডিওতে লাইভ মিউজিক পরিবেশন করেন। ২০১৩ সালে তিনি টাফে (TAFE) চারু ও কারুকলা এবং অভিনয়ে অধ্যয়নের পাশাপাশি ৩ দিনের লাইফ স্টেজ থিয়েটার শো’ ‘দ্য উইন্ড অফ দ্য উইলো’তে অভিনয় করেন।

দশ বছর বিরতির পর সারগাম এ ফিরে এসে রাহুল পুনরায় বাংলাদেশি, ইন্ডিয়ান উচ্চাঙ্গ ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীত চর্চার পাশাপাশি শিক্ষাদান করছেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন