কমেছে শীতের দাপট, বইছে ফাল্গুনি হাওয়া

32 b1সময় বাংলা ডেস্ক :  ক্যালেন্ডারের পাতায় এখনো মাঘ মাস। কদিন আগেও শীতের দাপটে জুবুথুবু ছিলো সারা দেশ। তবে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে আস্তে আস্তে শীতের রিক্ততা ভুলিয়ে আবহমান বাংলার প্রকৃতিতে আসতে শুরু করেছে ফাগুনের ছোঁয়া। ঝলমলে রোদের দেখাও মিলছে, বইছে ফাল্গুনি হাওয়া।

শীতের শেষ ও বসন্ত শুরুর মাঝামাঝি সময়ই প্রকৃতি নিজেকে পাল্টে নেওয়ার প্রস্তুতি নেয়। এসময় থেকেই গাছে ফুলের মুকুল দেখা দেয়। ধূসর কুয়াশা সরে গিয়ে বাগানজুড়ে খেলা করে সোনারোদ। আর ঋতুরাজের রাজসভায় আগমন ঘটে রঙিন সব ফুলের। এইতো আর মাত্র দিন কয়েক বাদেই প্রকৃতি পাবে বসন্তের ছোঁয়া। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সবাই সাদরে বরণ করবে ঋতুরাজ বসন্তকে।

সেই খুশিতে গাছের শাখে শাখে ফুটছে হরেক রকম ফুল। নগরীর সিডিএ ভবন চত্বর, বিপ্লব উদ্যান, ওয়ার সিমেট্রি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে শোভা পাচ্ছে গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, কসমসসহ নানান ফুল। বন্দরনগরীর অনেক আমগাছেই এসেছে মুকুল। পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া সহ ফাগুনের নানান ফুলের কলিরও দেখা মিলছে। শীতে ঝরে পড়া পাতার ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে গাছে গাছে আবার গজাতে শুরু করেছে নতুন পাতা।42 b2
চট্টগ্রামের আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রের সহকারি আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম বাংলামেইলকে বলেন, মূলত গত সপ্তাহের শেষ থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হতে শুরু করেছে। এ সপ্তাহে তা আরো দ্রুতলয়ে হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে তাপমাত্রা বেড়েছে ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সামনে যা আরো বাড়বে। সাধারনত মাঘের শেষ দিকে শীতের তীব্রতা কমলেও রেশটা থেকে যায়। তবে এবার তা আরো তারাতারি উন্নতি ঘটছে।

চট্টগ্রামের আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র সূত্র জানায়, আজ দুপুরে (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রামের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে মঙ্গলবার বন্দরনগরীর তাপমাত্রা ছিলো আরো উষ্ণ। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

যদিও গত ২৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) বন্দরনগরীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিলো ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ২৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।42 b3
এদিকে এক সপ্তাহ আগেও নগরীর জহুর হকার্সসহ বিভিন্ন স্থানে শীত বস্ত্রের দোকান গুলো সরগরম থাকলেও, এখন তা নেই। রাস্তার পাশে গরম কাপড় নিয়ে হকারদের হাঁকডাকও কমে গেছে। বড় বড় শপিংমলে দেয়া হচ্ছে শীতের পোশাকের ওপর বিশেষ মূল্যছাড়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিউমার্কেটি এলাকার শীত বস্ত্র বিক্রেতা নজরুল ইসলাম জানান, শীতকে সামনে রেখে জ্যাকেট, ব্লেজার, মাফলারসহ নানা ধরনের গরম পোশাক এনেছিলেন। এসবের বেশ কিছু এখনো বিক্রি হয়নি। নতুন পোশাক আনার আগে যাতে এগুলো শেষ হয়ে যায়, তাই এই মূল্য ছাড় দেওয়া হয়েছে।

তবে শহরে শীতের তীব্রতা কমলেও গ্রামে এখনো বেশ অনুভব হচ্ছে। কর্ণফুলি নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ছে।

ছবি সৌজন্য বাংলামেইল২৪

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন