জামিন পেলেও মাহমুদুর রহমানকে আটকে রেখেছে সরকার: বিএনপি

>20216 rizviসময় বাংলা ডেস্ক : সবগুলো মামলা থেকে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান জামিন পেলেও সরকার তাকে সম্পূর্ন ‘অন্যায়’ এবং ‘অবৈধভাবে’আটক রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
 
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে বিএনপি। একইসঙ্গে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না’র মুক্তি দাবি করেছে দলটি।
 
বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী দলের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানান।
 
বিবৃতিতে রিজভী বলেন, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বিনা অপরাধে জেলে বন্দি থাকার আজ ১০৩৫ দিন অর্থাৎ প্রায় ৩ বছর হয়ে গেছে। উচ্চ আদালত থেকে তার সবগুলো মামলার জামিন হয়েছে এবং কোর্ট থেকে বেইলবন্ড বা জামিননামাও যথারীতি কারাগারে পৌঁছেছে। কিন্তু তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। তার সর্বশেষ মামলার জামিননামা গত বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬) সন্ধ্যায় কাশিমপুর কারাগারে পৌছে। নিয়ম অনুযায়ী পরদিন শুক্রবার সকালেই তাকে ছেড়ে দেয়ার কথা। কিন্তু সরকার একটি মানহানির মামলায় পিডব্লিউ বা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার না করার অজুহাত দেখিয়ে তাকে সম্পূর্ণ অন্যায় এবং অবৈধভাবে আটকে রেখেছে। পিডব্লিউ প্রত্যাহার একটি মামুলি ব্যাপার। নিয়ম হলো মামলায় আসামির জামিন হয়ে গেলে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে পিডব্লিউ প্রত্যাহারের আবেদন করলেই তা প্রত্যাহার হয়ে যায়। কিন্তু মাহমুদুর রহমানের ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানা হয়নি। তার কয়েকটি পিডব্লিউ প্রত্যাহার করা হলেও বিটিআরসির একটি মানহানির মামলায় পিডব্লিউ প্রত্যাহার না করে আটকে রাখা হয়েছে। তার আইনজীবীরা এ পিডব্লিউ প্রত্যাহারের আবেদন করলে গত ৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে শুনানি হয়। শুনানি করেন মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী ঢাকা বারএর সভাপতি এডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার। শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক পরে আদেশ দেবেন বলে কোর্টে উল্লেখ করেন। আজ ৮ দিনেও আমরা আদেশ পাইনি। এতে আমরা হতাশ হয়েছি। তবে বিজ্ঞ আদালত দ্রুত আদেশ দিবেন বলে আমরা আশা করি।
 
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সরকার পক্ষ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা আইসিটি মামলায় মহামান্য হাইকোর্টের দেয়া জামিন বাতিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ মামলার জামিনের বিরুদ্ধে সরকারের এটর্নি জেনারেল- এর অফিস মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে স্থগিতাদেশ চেয়েছে। গতকাল মহামান্য চেম্বার জজ আদালত মামলাটি না শুনে আগামীকাল ১১ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন।  আমরা আশঙ্কা করছি, মাহমুদুর রহমান যাতে জেল থেকে বের হতে না পারেন সেজন্য সরকার নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং তাকে আরও মিথ্যা, হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানোর পাঁয়তারা করছে। আমরা কালক্ষেপন না করে অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করছি।
 
বিবৃতিতে রিজভী আরও বলেন, মাহমুদুর রহমান বিডিআর হত্যাকা-, বিচারপতির স্ক্যাইপ কেলেঙ্কারী, শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারি, পদ্মা সেতু-হলমার্ক-বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি নিয়ে তার পত্রিকায় অনুসন্ধানী রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। সরকার তার প্রতি বিরাগভাজন হওয়ার এটাই কারণ। এ জন্যই সরকার মাহমুদুর রহমানকে সহ্য করতে না পেরে অন্যায়ভাবে, আইন কানুনের কোনো তোয়াক্কা না করে ২০১৩ সালের ১১ এপ্রিল অত্যন্ত বর্বর কায়দায় গ্রেফতার করে। এরপর ১৯দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালায়। তার বিরুদ্ধে একের পর এক ৭০টি মামলা দেয়া হয়। তার বৃদ্ধা অধ্যাপিকা মাতা ও স্ত্রীকেও মামলায় জড়ানো হয়। শুধু মামলাই নয়, তার পত্রিকা দৈনিক আমার দেশের ছাপাখানা তালাবদ্ধ করে এবং বিকল্প প্রেস থেকেও পত্রিকা প্রকাশ করতে না দিয়ে দেশের লক্ষ লক্ষ পাঠককে আমারদেশ পড়া থেকে বঞ্চিত করে।
 
বিবৃতিতে রিজভী আরও বলেন, আমরা এই মূহুর্তে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, শওকত মাহমুদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাঁদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।
সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন