ইউরোপে ডেভেলপার বা প্রোগ্রামারদের কাজের সুযোগ অনেক

>11216 razib hasanসময় বাংলা ডেস্ক :  আমাদের দেশে এখন ডেভেলপার কিংবা প্রোগ্রামারের সংখ্যা কম নয়। প্রযুক্তিনির্ভর কাজের মানুষগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেশের বাইরে বিশেষ করে যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের দিকে মুখিয়ে থাকে। কীভাবে একজন ডেভেলপার তার ক্যারিয়ারকে সুন্দর করতে পারে। বিদেশে কাজের চাহিদা, কাজ পাওয়াসহ আরও নানা বিষয়ে সংশয় থাকে। এসব সংশয়ের কথাই আজ তুলে ধরা হলো রাজিব হাসান-এর সঙ্গে এক আলোচনায়। তিনি ইউরোপে দীর্ঘদিন ধরেই ডেভেলপার এবং প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করছেন। নিজের একটি আইটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে তার। পাশপাশি এনটিভি ইউরোপের হেড অব নিউজ হিসেবেও তিনি কর্মরত রয়েছেন। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রবি হাসান।
 
ইউরোপে একজন ডেভেলপার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার পথচলাটা বলুন—
বাংলাদেশে বেশ কয়েক বছর সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে কাজ করার পর মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য ব্রিটেনে পাড়ি জমাই। লন্ডনে আসার পর পূর্ব লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় শুরু হয় নিজের বসবাস। এরই মাঝে নতুন নতুন অনেক কলেজের কতৃপক্ষ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে পরিচয় গড়ে উঠে। যাদের সুবাদে বিভিন্ন কলেজের ওয়েব সাইট থেকে শুরু করে কলেজ স্টুডেন্ট ম্যানেজম্যান্ট সফটওয়ার এর কাজ পেয়ে যাই। পুর্ব লন্ডনের অনেক ব্যক্তির রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা। বেশিরভাগ ব্যাক্তিদেরই রেস্টুরেন্টের ব্যবসা। ফলে অনলাইন অর্ডারসহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের ওয়েব পোর্টালের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করি। পাশাপাশি লন্ডনে অনেক ফ্রিল্যান্স অফিসও রয়েছে। যেসব অফিসে ডেস্ক হায়ারসহ কাজ হায়ার করার সুযোগ সুবিধা খুব বেশি।
ইউরোপে একজন ডেভেলপার বা প্রোগ্রামারের চাহিদা এবং মাসিক আয় কেমন?
ব্রিটেন মূলত ইউরোপের সফটওয়্যার ডেভেলপার কোম্পানিগুলো বড় হাব হিসেবে পরিচিত। যারা বেশির ভাগ কাজই ফ্রিলান্সারদের দিয়ে করিয়ে থাকে। তবে বড় ধরনের প্রজেক্ট হলে তার জন্য বছর চুক্তিতে প্রোগ্রামার হায়ার করে। বছরে ২৮ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকায় চুক্তিতে বড় ধরনের প্রজেক্টের সাথে ডেভেলপাররা নিয়মিতই যুক্ত হচ্ছে। তবে ছোট ছোট প্রজেক্টগুলো ফ্রিলান্সার দিয়ে করানো হয়। অনলাইনভিত্তিক পোর্টালগুলোর কাজ খুব বেশি এখানে।
আমাদের দেশের একজন ডেভেলপার বা প্রোগ্রামারের ইউরোপে কাজের সুযোগ সুবিধাগুলো কেমন?
এখানে ডেভেলপার বা প্রোগ্রামার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া একটু কষ্টকর। প্রথমত কাজের অনুমতি থাকতে হবে। একজন স্টুডেন্ট সপ্তাহে মাত্র ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারে। তাই ছাত্রদের ডেভেলপার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া কষ্টকর। তবে ফ্রিলান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যথায় সফটওয়্যার ফার্মের অধীনে কাজের অনুমতির ভিসা নিয়ে ফুলটাইম কাজ করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে টিয়ার-২ আওতায় সফটওয়্যার ফার্ম থেকে ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া একটু কঠিন হয়ে উঠে। সফটওয়্যার ফার্মগুলো ভারত, চায়না, জাপান থেকে বেশির ভাগ কর্মীদের ৫ বছরের জন্য ওয়ার্ক পারমিট দিয়ে নিয়ে আসে। আন্তজার্তিক বাজারে দক্ষ ডেভেলপার বা প্রোগ্রামার অথবা ব্যাংকার রিক্রুট করার জন্য ভারতে অনেক কোম্পানি রয়েছে। তাই পড়াশুনার শেষ করে এই পেশায় ভিসার দিকটা প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
আপনার নিজস্ব আইটি ফার্মটি সম্পর্কে বলুন—
আমি ‘টেক লজ’ নামে একটি আইটি ফার্ম চালাচ্ছি বেশ অনেক বছর ধরে। টেক লজের অধিকাংশ কাজ ফ্রিলান্সার দিয়ে করে থাকি। বাংলাদেশে ও ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচিতদের দিয়ে কাজ করে আসছি। তবে আমি সব সময় একটি প্রজেক্টের জন্য বেশ কয়েকজনকে মনোনীত করি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রজেক্ট শেষ করা কষ্টকর হয়ে উঠলে, তখন নিজেই কাজগুলো শেষ করার চেষ্টা করি। নিউজ সাইট, কলেজ, রেস্টুরেন্ট, অফিস, ব্যক্তিগত, অনলাইন টিভি,  মিডিয়া ওয়েব, মোবাইল অ্যাপস, সোস্যাল মিডিয়ার মার্কেটিংসহ ডিজাইন সার্ভিস। তবে মজার বিষয় হলো আমি লন্ডন থেকেও বাংলাদেশের অনেক কাজ পাচ্ছি।
ইউরোপের মতো বাজারে একটি আইটি ফার্মে কাজ পেতে প্রতিযোগিতা কেমন?
এখানে এসব কাজ পাওয়ার অপার সম্ভাবনা। সেক্ষেত্রে কোম্পানিতে কাজের অভিজ্ঞতা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ব্যাপ্তি ও দক্ষ কর্মীর উপর নির্ভর করে। প্রতিযোগিতা খুব বেশি তা কিন্তু নয়। তবে সীমাবদ্ধতা রয়েছে অনেক। যেহেতু কাজ বেশি, তাই এই সুযোগটা ফ্রিল্যান্সাররাই নিয়ে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং ও অ্যাপস ডেভেলপমেন্টের বাজারটা ব্রিটেনে সবচেয়ে বেশি। শুধুমাত্র এশিয়ান কমিউনিটিতেই রয়েছে প্রচুর কাজ। এ ছাড়া ইকমার্স সেক্টরেও কাজ অনেক। ব্রিটেনের অধিকাংশ জনগন অনলাইনে কেনাকাটা, খাবার, পড়াশোনা, তথ্য আদান-প্রদান বিভিন্ন দিকে বেশ নির্ভরশীল। তাই প্রতিটি ব্যবসা বাণিজ্য তাদের ব্যবসাকে অনলাইনভিত্তিক করতে সচেষ্ট।
ইউরোপে কম্পিউটার নির্ভর কী ধরনের কাজের চাহিদা বেশি?
এখানে অধিকাংশ কাজ ব্রিটেনে সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো করে থাকে। ফুলটাইম কাজের অনুমতি না থাকার ফলে অনেক ডেভেলপারের কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। আর ফুলটাইম কাজ করতে না পারলে নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা কঠিন। ব্রিটিশ পাসর্পোট অথবা ইউরোপীয়ান পাসপোর্টধারীদের জন্য কোম্পানি গড়ে তোলা অনেক সহজ। কাজের চাহিদার ক্ষেত্রে গ্রাফিক্স ডিজাইন, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং, অ্যানিমেশন, অ্যাপস ডেভেলপারের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।
সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন