মানবাধিকার, পোষাক শিল্প, বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন নির্যাতন নিয়ে আলোচনা হয়েছে: মঈন খান

খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন সফরত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদল (পুরো সংবাদ)

11216 mr. moinসময় বাংলা ডেস্ক, ঢাকা: দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিকালে বৈঠক করেছেন সফরত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের(ইপি) প্রতিনিধিদল। গুলশানে তার কার্যালয়ে বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে ঘন্টাব্যাপী এই বৈঠক হয়।

ইপি‘র সদস্য ও দক্ষিন এশিয়া বিষয়ক ডেলিগেশনের চেয়ারপারসন জিন ল্যাম্বার্ট (JEAN LAMBERT)এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

বৈঠকে ব্রাসেলস থেকে আসা তিনজন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দক্ষিন এশিয়া বিষয়ক ডেলিগেশনের ভাইস চেয়ার রিচার্ড হাওইট (RICHARD HOWITT), ইন্টারনাল মার্কেট এন্ড কনজ্যুমার প্রটেকশন কমিটির সদস্য ইভান স্টিফেন্স (EVAN STEPANS), ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিটির সদস্য সাজ্জাদ করিম (SAJJAD KARIM) ছাড়াও ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরো মায়াদনও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, ‘‘ আজকে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ নিয়ে যে উদ্বেগ তার ওপরে আলোচনা হয়েছে। আমরা এদেশের বর্তমান রাজনৈতিক-সামাজিক-অর্থনৈতিক-আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে চিত্র রয়েছে। সেই চিত্রগুলো তারা উপলব্ধি করার জন্য আমাদের প্রশ্ন করেছেন, আমরাও তাদের প্রশ্ন করেছি এবং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে মোটামুটি দেশের আজকের এই ক্রান্তি লগ্নে যে গণতন্ত্র নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন সেই বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।”

গত মঙ্গলবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই প্রতিনিধিদলটি তিনদিনের সফরে ঢাকায় আসেন।

দেড় ঘন্টার বৈঠকে দেশের রাজণৈতিক, মানবাধিকার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, বিচারবর্হিভুত হত্যাকান্ড, পোষাক শিল্পের কর্মপরিবেশ, বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন নির্যাতন, গুম-হত্যাকান্ড প্রভৃতি বিষয়ে নিয়ে বিম্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কিছু বলা হয়নি।

তবে বৈঠকে থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান সাংবাদিকদের ব্রিফিঙে বলেন, ‘‘ বৈঠকে বাংলাদেশে মানবাধিকার ও সুশাসনের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দেশে যদি গণতন্ত্র না থাকে তাহলে সুশাসন থাকতে পারে না। দেশের আজকের যে সরকার তার যদি জগনের প্রতিনিধিত্ব না থাকে, তাহলে সেই সরকার কখনো জনগনের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। এ বিষয়গুলো আমরা তাদের কাছে তুলে ধরেছি।”

বৈঠকে উন্নয়নের বিষয়গুলো উঠে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘ এটা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, দেশে কোনো টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না যদি গণতন্ত্র না থাকে। পাশাপাশি ট্রেড এবং কমার্স অর্থা ইউরোপের সাথে আমাদের পোষাক শিল্পের যে সম্পর্ক রয়েছে, তা যদি শক্তিশালী করতে হয়, তাহলে সরকারের যেমন ভুমিকা থাকে, তেমনি বেসরকারি খাতও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন্ করে থাকে। তারপরও নীতিগত বিষয়ে সরকারের যে ভুমিকা রয়েছে, তা তখনই জোরদার হতে পারে যদি এখানে একটি জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার থাকে।”

‘‘ যদি এদেশের সরকার জনগনকে প্রতিনিধিত্ব না করে এদেশের ব্যসায়িক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব না করে, এদেশের অর্থনৈতিক যে সমৃদ্ধির বিষয় প্রতিনিধিত্ব না করে তাহলে সেই সরকার কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে কখনো ব্যবসা বানিজ্যকে জোরদার করতে পারবে না- এটা আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি।”

এক প্রশ্রের জবাবে আবদুল মঈন খান বলেন, ‘‘ যে প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপরে সরকার রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেবার হুমকি দিচ্ছে-এসব তো স্বাভাবিক ভাবে আলোচনার বিষয়। দেশে যদি গণতন্ত্র রাখতে হয়, তাহলে এভাবে তো এভাবে হুমকি দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করা যায় না। ”

‘‘ বিগত কয়েক বছরে এদেশে কত মানুষ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে, কত মানুষ পুলিশের গুলিতে নিহত-আহত হয়েছে। কত হাজার হাজার লোক কারারুদ্ধ হয়েছে। কেবল মাত্র তাদের একটি অপরাধ তারা বিরোধী দল করে। এগুলো আলোচনা এসেছে।”

তিনি বলেন, ‘‘ বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক উদার রাজনৈতিক দল। আমরা তাদের বলেছি, আমরা দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাসী করি। এই পরিপ্রেক্ষিতে সেই শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া ক্ষমতা হস্তান্তর করতে গেলে যেটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটি সুষ্ঠু, অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান। এই নির্বাচন যদি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ না হয় তাহলে কিন্তু সঠিক ক্ষমতা হস্তান্তর হতে পারে না। যার প্রমাণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোট বিহীন নির্বাচন।”

বৈঠকে আবদুল মইন খান ছাড়াও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই প্রতিনিধিদলটি ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরিন শারমীন চৌধুরী,  পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বানিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, পোষক শিল্প সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের সঙ্গে বৈঠক করেন।

২০১৪ সালের মার্চে জিন ল্যাম্বার্টের নেতৃত্বে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এর এই প্রতিনিধিদলটি ঢাকা সফর করেছিলেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন