স্বপ্নের দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ

12216 b mail picসময় বাংলা ডেস্ক, ঢাকা: দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানোয় আগ্রহ আছে কমবেশি সব মানুষের। ঘুরে বেড়ানোর ঠিকানা যদি হয় স্বপ্নের কোনো দেশ তাহলে তো আর কথা নেই। স্থায়ীভাবে পছন্দের সেদেশে বসবাস কিংবা ভ্রমণের সুযোগ পেতে উদগ্রিব হয়ে উঠে মন। পরিবার-পরিজন নিয়ে; সঙ্গে যদি থাকে আয়-রোজগারের সম্ভাবনা; তাহলে স্বপ্নের ষোলআনাই পূর্ণতা পায়।

একটা সময় ধারণা ছিল বিদেশ ভ্রমণ মানে উচ্চবিত্তের হিসাব-নিকাশ। তারপর এ যাত্রায় যুক্ত হল সাধারণ মানুষ। সাধারণের এ বিদেশযাত্রা ‘কামলা খাটা’র জন্যে। সময় অনেকটা পাল্টেছে। এখন যে কেউ চাইলে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে সহজে হয়ে যেতে পারে কল্পনার রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা। এমনকি সেখানে গড়ে তোলা সম্ভব নিজস্ব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও।

স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য বর্তমানে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং মালয়েশিয়া। জীবনযাত্রার মান, সহনীয় জীবনযাপন ব্যয়, নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যসহ নানা কারণে স্থায়ী আভাস হিসেবে মানুষের পছন্দের তালিকায় আছে এ দেশগুলো। 

অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলামেইলের সঙ্গে কথা বলেন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড মাইগ্রেশন কনসালন্ট্যান্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট ড. শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ রাজু।

তিনি জানান, স্বপ্নের বসতি খুঁজে পেতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আগ্রহ এখন এ কয়েক দেশকে ঘিরে। তবে অভিবাসনের এ প্রক্রিয়ায় দালাদের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন অনেকে। এতে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন তারা। মাইগ্রেশন বিশেষজ্ঞ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ড. শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ রাজু মনে করেন, ‌নীতি মেনে অভিবাসনপ্রত্যাশিরা অভিজ্ঞ মাইগ্রেশন কনসালন্ট্যান্টের পরমর্শে আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেক্ষেত্রে প্রতারিত হবার সম্ভাবনা কম যায়।

অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের কাছে অভিজ্ঞ মাইগ্রেশন পরামর্শক হিসেবে পরিচিত ড. রাজু আহমেদ বলেন, ‘বিজনেস এবং ইনভেস্টমেন্ট মাইগ্রেশন করে স্বল্প সময়ে সহজে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যন্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে আবেদন করতে নূন্যতম গ্রাজুয়েশন থাকতে হবে। তবে উচ্চ শিক্ষার সনদে পাওয়া যাবে বাড়তি সুবিধা।’

অন্যদিকে বিজনেস রেসিডেন্স ভিসায় ৫ বছরের মধ্যেই মালয়েশিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করার অনুমতি মেলে। অস্ট্রেলিয়ায় সপরিবারে বিজনেস মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে বয়স ৫৫ এর নিচে থাকতে হবে। অন্যদিকে নিউজিল্যন্ডে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সসীমা হতে হবে ৬৫ বছরের নিচে।

অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে বিজনেস মাইগ্রেশনের জন্য একক মালিকানা অথবা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আবেদন করা যায়।

অস্ট্রেলিয়ায় বছরে ৪শ’র বেশি প্রফেশনাল স্কিলড মাইগ্রেশনের সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে অনার্স, মাস্টার্স এবং পিএইচডি ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারবেন। আইটি, অ্যাকাউন্টিং, ফিনান্স, বিজনেস, ডেভেলপমেন্ট, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, মার্কিটিং এবং সেলস সেক্টরে কাজ করার সুযোগ রয়েছে এসব আবেদনকারীর।

ড. রাজু আহমেদ বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় বিজনেস মাইগ্রেশনের জন্য প্রয়োজন নূন্যতম ৮ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। ইনভেস্টমেন্ট মাইগ্রেশনের জন্য ২ দশমিক ২৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার এবং নিউজিরল্যান্ডের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ১ দশমিক ৫ লাখ ডলার।’

অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে আবেদনের ক্ষেত্রে অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি আইইএলটিএস স্কোর নূন্যতম ৬ থাকতে হবে। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং আইইএলটিএস স্কোর শিথিলযোগ্য।

বিজনেস রেসিডেন্স ভিসায় ৫ বছরে মিলবে মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব। বিজনেস এবং প্রফেশনাল সিডেন্স প্রোগ্রামের অবেদন করতে কমপক্ষে ডিগ্রি পাস এবং বয়স ২৫ বছরের বেশি হতে হবে। এক্ষেত্রে একসঙ্গে ২ বছরের ভিসা স্টিকার বিজনেস এবং প্রফেশনাল রেসিডেন্স দেয়া হয়।

এ বিষয়ে ড. রাজু আহমেদ বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় এসডিএন এবং বিএইচডি কোম্পানির অধীনে বিজনেস রেসিডেন্স ভিসা নিলে নাগরিকত্ব পাওয়া বেশ কঠিন। বরং আন্তর্জাতিক কোম্পানির অধীনে বিজনেস রেসিডেন্স ভিসা করলে ৫ বছর পরে মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব (পিআর) পাওয়া সহজ।’

তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে বড় সুবিধা হলো কোনো মালয় নাগরিকের সুপারিশ লাগে না। এমনকি অন্য কোনো সংস্থা থেকে কোনো প্রত্যয়নপত্রের (রিকগনিশন লেটার) প্রয়োজন হয় না। ব্যবসায়ী ভিসার মাধ্যমে মালয়েশিয়া থেকে বিশ্বের ৭৩টি দেশে তিন শতাংশ ব্যাট দিয়ে রি-এক্সপোর্ট বিজনেস করা যায়।’

এ সংক্রান্ত যবিতীয় তথ্যসেবা www.wwbmc.com ঠিকানায় দেয়া আছে। আরো তথ্যের জন্য ই-মেইলে (advahmed@outlook.com এবং raju.advocate2014@gmail.com) যেগাযোগ করে জানা যাবে।
এছাড়া ফেসবুকে (advocate raju ahmed advocate) স্কাইপিতে (rajuh ahmed phd) তে যোগাযোগ করে বিশেষজ্ঞ মতামত জানা যাবে।

মোবাইল ফোনে সরাসরি তথ্য পেতে +60143300639 ফোন করে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, ড. রাজু আহমেদ জনস্বার্থে assessment সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা বিনামূল্যে দিয়ে থাকেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন