অস্ট্রেলিয়ায় মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচি

12216 astriliaসময় বাংলা, অস্ট্রেলিয়া: বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও পৃথিবীর সকল মাতৃভাষা সংরক্ষণের বার্তা নিয়ে ২০০৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সিডনির অ্যাসফিল্ড হেরিটেজ পার্কে প্রতিষ্ঠিত হয় পৃথিবীর প্রথম ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধ’। 
 
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ পৃথিবীর প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধের ১০ বছর পূর্তি। এ উপলক্ষে একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া, সিডনি বাঙালি কমিউনিটি ইনক্, অ্যাসফিল্ড কাউন্সিল এবং মাদার ল্যাংগুয়েজেস কনসারভেশন মুভমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্মৃতিসৌধের দশম বর্ষপূর্তি উদযাপনের ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
 
১৯ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) অনুষ্ঠানের প্রথম দিবসের শুরুতে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বিকেল ৩টায় অ্যাসফিল্ড সিটি কাউন্সিলের মেয়র লুসিলে ম্যাককেন্না আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন। বিকেল ৪টায় অ্যাসফিল্ড টাউন হলে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন অস্ট্রেলিয়া সরকারের মাল্টিকালচারালমন্ত্রী জন আজাকা এমএলসি এবং সভাপতিত্ব করবেন অ্যাসফিল্ড সিটি কাউন্সিলের মেয়র লুসিলে ম্যাককেন্না। 
 
উক্ত সেমিনারে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, মাতৃভাষা বিষয়ক গবেষক, ফেডারেল ও স্টেট মন্ত্রীরা, বিশিষ্ট সংসদ সদস্যরা, এবং বিভিন্ন ভাষাভাষী সমাজকর্মীরা। তারা ‘কনসারভ ইউর মাদার ল্যাংগুয়েজ’ কে সকল মাতৃভাষা সংরক্ষণের মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণের যথার্থতা নিয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং মূল্যবান মতামত প্রদান করবেন বলে মাদার ল্যাংগুয়েজেস কনসারভেশন মুভমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের আমন্ত্রণপত্রে জানানো হয়েছে।
 
এই সেমিনারে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার কাজী ইমতিয়াজ হোসেন, প্রফেসর গিলাড যুকারম্যান, প্রফেসর মিথাইল ওয়ালস, ড. রেইনার কারজ, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন সচিব মো. এনআই খান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ. মান্নান, আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশিক রহমানসহ বিশিষ্টব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। 
 
২০ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) এই আয়োজনের দ্বিতীয় দিবসে সকাল ১০টা থেকে অ্যাসফিল্ড টাউন হলে ১০২টি ভাষার বর্ণমালার প্রদর্শনী এবং সিভিক সেন্টারের সামনে বাংলা, ইতালি, টোংগা, ল্যাতিন আমেরিকা, হিন্দি, ক্ষেমের, পাঞ্জাবি, নেপালি, মারাঠি, তামিল, ভিয়েতনামী, চাইনিজ, ইথিওপিয়ান, আরবি ইত্যাদিসহ ১৫টি ভাষা ও সংস্কৃতি ভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। 

ওইদিন দুপুর দেড়টার দিকে অ্যাসফিল্ড সিটি কাউন্সিলের মেয়র লুসিলে ম্যাককেন্না অ্যাসফিল্ড লাইব্রেরির দ্বিতীয় তালায় একুশে কর্ণারের শুভ উদ্বোধন করবেন। দীর্ঘ দশ বছর অপেক্ষার পর একুশে কর্ণারের এই উদ্বোধন সফলভাবে সম্পন্ন হলে মাতৃভাষা সংরক্ষণে নতুন এক ইতিহাসের সূচিত হবে, লাইব্রেরি প্রথায় সংযোজিত হবে নতুন এক অধ্যায়। 
 
একুশের প্রথম প্রহর ১২টা ১মিনিটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষাদিবস স্মৃতি সৌধের সংস্কার ও সাজসজ্জার কাজ এগিয়ে চলছে।
 
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধের উদ্যোক্তা ও উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক নির্মল পাল, সদস্য এনাম হক এবং এহসান আহমেদ ‘মহান একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বপরিবারে অংশগ্রহণ করে এই মহতী উদ্যোগকে সফল করার জন্য সকলের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ জানিয়েছেন। 
 
এছাড়াও একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া ও সিডনি বাঙালি কমিউনিটি ইনক্ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের পৃথক পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।  

সিডনি বাঙালি কমিউনিটি ইনক্ আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি’ ২০১৬ বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে গ্রেগ পারছিভাল হল (ইঙ্গেলবার্ন লাইব্রেরি সংলগ্ন), অক্সফোর্ড রোড ও কাম্বারলেন্ড রোডের কর্ণার, ইঙ্গেলবার্নে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করবে।
 
একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত অ্যাসফিল্ড বয়েস হাইস্কুলে ( ১৭৭ লিভারপুল রোড, অ্যাসফিল্ড ) সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এছাড়াও প্রতি বছরের মতো ২১ শে ফেব্রয়ারি বই মেলার আয়োজন করেছে একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া।

একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ডা: আবদুল ওয়াহাব ও সিডনি বাঙালি কমিউনিটি ইনক্ এর পক্ষ থেকে আবু তারিক দল-মত নির্বিশেষে সকলকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। 

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন