বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অনেকে এখন আইএসে: ব্রিটিশ মন্ত্রী

15216 british ministerসময় বাংলা, ঢাকা: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণ-তরুণীদের অনেকে ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিয়েছে বলে বাংলাদেশকে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

দেশটির আশঙ্কা, আইএসে যোগ দেওয়া ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে বাংলাদেশের কারো না কারো যোগাযোগ আছে। এই প্রবণতা ঠেকাতে দেশটি বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতাও চেয়েছে।

যুক্তরাজ্যের অভিবাসনমন্ত্রী জেমস ব্রোকেনশায়ার দুই দিনের সফরে রোববার ঢাকায় এসে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দিনভর বৈঠক করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের আইএসে যোগদানের তথ্য জানিয়ে তাঁর সরকারের পক্ষে ওই সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের আইএসে যোগদান বা নিরুদ্দেশ হওয়া নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের খবর এবং বাংলাদেশে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ সতর্কবার্তা দেওয়ার ঘটনার মধ্যে ব্রিটিশ ওই মন্ত্রী ঢাকায় এসে বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছেন।

জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে ব্রিটিশমন্ত্রীর আলাদা বৈঠকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীদের আইএসে যোগ দেওয়ার বিষয়টি স্থান পায়। ব্রিটিশ অভিবাসনমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রসচিবকে জানান, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীদের অনেকে আইএসে যোগ দিয়েছে। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের একই মতাদর্শের অনুসারী ব্যক্তিদের যোগাযোগ থাকতে পারে। তাই এ বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে তিনি বাংলাদেশকে অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ কোনো ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয় না। বাংলাদেশি বা বংশোদ্ভূত তরুণরা যদি যুক্তরাজ্য থেকে আইএসে যোগ দেয় তাহলে বুঝতে হবে সেখান থেকে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এটি রোধ করতে যুক্তরাজ্যেরই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বলেছেন, আইএসে যোগ দেওয়া ব্যক্তিরা বাংলাদেশের কারো সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে কি না বা ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের জঙ্গি তৎপরতায় বাংলাদেশের কারো যোগসাজশ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্রিটিশ সরকারকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে। বৈঠকে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদবিরোধী বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের জন্যও জঙ্গিবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন