জলবায়ু জীব বৈচিত্র সংরক্ষন ও ঝড়েপড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উন্নয়নে ঝিনাইদহে ব্যতিক্রমী নানা আয়োজন

16216 jhinaidoh
জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহ:ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রামনগর-কুমড়াবাড়িয়া সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয় মাঠে জলবায়ু, জীববৈচিত্র সংরক্ষন ও ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উন্নয়নে ব্যতিক্রমী নানা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে এ আয়োজন করেন এলাকার গাছপ্রেমী নামে পরিচিত জহির রায়হান নামের এক যুবক। অনুষ্ঠানে কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হায়দার আলী এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ্যাড, আব্দুল ওয়াহেদ জোয়ার্দ্দার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকার নায়ন, ঝিনাইদহ জজ কোর্টের বিশেষ পি পি (নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল) এ্যাডঃ আঃ রশিদ, স্বাধীন জীবনের নির্বাহী পরিচালক আঃ রাজ্জাক নাছিমসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শিক্ষানুরাগী আমজাদ হোসেন। প্রতিযোগীতার মধ্যে ছিল, তৈলাক্ত কলাগাছ বেয়ে উপরে ওঠা, গলায় লাউ বেধে ফুটবল খেলা, বাই-সাইকেল রেসসহ নানা প্রতিযোগীতা। আলোচনা সভা শেষে খেলায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, জহির রায়হান এর মতো সাদা মনের মানুষ দেশের প্রতিটি এলাকায় থাকা খুবই প্রয়োজন। তার মতো দেশ প্রেমিক মানুষ আজ এলাকার ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়ণ, পাখিদের আবাস স্থল তৈরি রাস্তায় গাছ লাগানোসহ নানা ধরণের কর্মসূচী হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমি আজ থেকে তার পাশে থেকে সকল প্রকার সহযোগীতা করতে চাইপাশাপাশি তিনি জহির রায়হানের এ কাজে সহযোগীতার জন্য এলাকা বাসীর সু-দৃষ্টি কামনা করেন।

16216 jhinaidoh ক
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগর বাথান বাজারে ঢুকে জানা গেল জীববৈচিত্র রক্ষায় পাখির নিরাপদ আবাস সৃষ্টির লক্ষ্যে জহির রায়হান-ই গাছে-গাছে মাটির কলস বেঁধেছেন। শুধু জীব বৈচিত্র রক্ষা-ই নয়, তিনি অসহায় দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার খরচ বহন করেন রাস্তার দু’ধারে সবুজ গাছের সারি, ক্লান্ত পথিকের একটু স্বস্তির জন্য রাস্তার পাশে বেশ কয়েকটি ইটের তৈরী বসার স্থান, এলাকার বিভিন্ন স্কুল মাদরাসা ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষের বাড়ির আঙিনায় গাছের চারা রোপন, চাষিদের তৃষ্ণা লাঘবে মাঠের মধ্যে টিউবওয়েল স্থাপন, দরিদ্র শ্রেণির আমিষের চাহিদা মেটাতে বিলে মাছ অবমূক্ত করাসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত তিনি। জহির পেশায় একজন রঙ মিস্ত্রি। এ পেশায় তার যা আয় হয় তার অর্ধেক ব্যয় করেন সামাজিক কাজে। আর্থিক অনঠনে প্রাইমারীতে দুই তিন মাসের বেশি পড়াশুনা তার কপালে জোটেনি। তবে নৈশ বিদ্যালয়ে কিছুটা পড়ালেখা শিখেছেন। জহিরের স্ত্রী তার সকল ভালো কাজে সাহায্য করেন এবং উৎসাহ দেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন