সেই পুলিশ কর্মকর্তা রতনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

16216 si pic_116872বিশেষ প্রতিনিধি,সময় বাংলা, ঢাকা: শ্যামলী আশা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ফারহানা আক্তারকে তল্লাশির নামে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রাজধানীর আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রতন কুমার হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক সালেহ উদ্দিন আহম্মেদ মঙ্গলবার সকালে এ পরোয়ানা জারি করেন।

এর আগে শ্লীলতাহানির অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে উল্লেখ্য করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এ বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম শেখ হাফিজুর রহমান।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বেসরকারি আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে উপ-পরিদর্শক রতন কুমার হালদার শ্লীলতাহানি করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ তদন্তে পাঁচজন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে দু’জনকে নিরপেক্ষ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি আাশা ইউনিভার্সিটির ছাত্রী ফারহানা আক্তার বিকেলে ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে বই কিনতে শিয়া মসজিদের দিকে রিকশাযোগে যাচ্ছিলেন। এসময় মসজিদের বিপরীতে থাকা আদাবর থানার এসআই রতন কুমারসহ পুলিশের তিন সদস্য তাকে জোর করে রিকশা থেকে নামান। এরপর তার কাছে ইয়াবা আছে কি না জানতে চান ওই দারোগা। এতে ফারহানা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। এক পর্যায়ে শিয়া মসজিদের বিপরীতে একটি ইলেকট্রিকের দোকানে নিয়ে যান তাকে। সেখানে নিয়ে নানা অনৈতিক প্রস্তাবও দেন এসআই রতন।

ফারহানা অভিযোগ করেছিলেন, ওই দারোগাকে তার পরিচয়পত্র দেখানোর পরও বারবার ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর চেষ্টা করেন রতন। পরে ফারহানা রতনকে বলেন, স্থানীয় লোকদের সামনে তার ব্যাগ তল্লাশি করতে হবে এবং প্রয়োজনে থানায় যাবার কথা বলেন তিনি। কিন্তু তার এ প্রস্তাবে রাজি হননি রতন। এসময় রতন গর্ব করে ফারহানাকে বলেছিলেন, ‘আমার কাছে ওসি, ডিসি কিছুইনা, কারও কাছে নালিশ করেও কোন লাভ নেই’। তবে কোনো মিডিয়াকে এ বিষয়টা না জানানোর অনুরোধ জানান ওই দারোগা।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন