যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ীর সম্মাননা অর্জন

16216 Aziz_Ahmadসময় বাংলা ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী আজিজ আহমদকে সম্মাননা দিয়েছে স্থানীয় সরকারি সংস্থা স্মল বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এসবিএ। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও অর্থনৈতিক খাতে অনন্য অবদানের জন্য তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

আজিজ আহমদ তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে পদ্ধতি সমন্বয় ও পরামর্শক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান ইউটিসি অ্যাসোসিয়েটস’র প্রধান নির্বাহী (সিইও)। আর এসবিএ সেখানকার উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তা প্রদানকারী সরকারি সংস্থা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের বছর শেষের ঐতিহ্যবাহী ‘রিংগিং দ্য ক্লোজিং বেল’ অনুষ্ঠানে এবার অতিথি করে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। প্রতিদিন ৫০ বিলিয়ন ডলার লেনদেনের এই শেয়ারমার্কেটের এটিই সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজন। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন এসবিএ’র প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য মারিয়া কনট্রেরাস-সুইট। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্ধশতাধিক উদ্যোক্তা, নাসদাক ও এসবিএ’র শীর্ষ নেতা এবং ব্যবসায়ী নেতারা। যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যক্তিরা দেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে অবদান রাখেন তাদেরই আমন্ত্রণ জানানো হয় নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের এই আয়োজনে। বৃহৎ অর্থনীতির শিল্প ও প্রতিষ্ঠানের এই কর্তাব্যক্তিরা শেয়ারবাজারে বছরে আট ট্রিলিয়ন ডলারের ভোক্তাব্যয়ের ক্ষমতা রাখেন। এরা ন্যাশনাল বিজনেজ ইনক্লুশন কনসর্টিয়ামেরও সদস্য। এমন ব্যক্তিত্বদের ‘রিংগিং দ্য ক্লোজিং বেল’র পোডিয়ামে দাঁড় করিয়ে গর্বিত হয় নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ।
বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আজিজ আহমদ ইউনাইটেড স্টেটস প্যান-এশিয়ান আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স’র (ইউএসপিএএসসিসি) ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তাদেরই একজন হয়ে এ বিরল সম্মান পেলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে এশিয়ান-আমেরিকানদের এবং ব্যবসা, বিজ্ঞান, শিল্প-সংস্কৃতি, খেলাধুলা, শিক্ষা ও জনসেবামূলক সব খাতে এশিয়ান আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বকারী সকল পক্ষেরই প্রতিষ্ঠান ইউএসপিএএসসিসি।
সম্মাননাপ্রাপ্তিতে আজিজ আহমদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এটি কেবল আমার নয়, বাংলাদেশের জন্যও সম্মানের। আজিজ আহমদ টোয়েন্টিফার্স্ট সেঞ্চুরি নেটওয়ার্কের এটি অ্যান্ড টি এর প্রধান স্থপতি ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। তিনি নিউইয়র্ক-নিউজার্সিতে ডেমোক্র্যাট দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। তার হাতেই গঠিত হয়েছে ইউএস বাংলাদেশ পার্টনার্স নামে শক্তিশালী ব্যবসায়ী ফোরাম। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে ভূমিকা রাখে এই ফোরাম। ২০০৯ সালে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন, ২০১০ সালে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে রোড শো এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ প্রযুক্তি শীর্ষ সম্মেলনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন আজিজ আহমদ। তিনি নিউইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে প্রথম এশিয়ান আমেরিকান হিসেবে সম্মানসূচক অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ড পান। ২০১০ সালে নিউইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটি, সিটি কলেজ ও গ্রোভ স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওয়াল অব অনারে স্থান পায় তার নাম। নিউইয়র্ক স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যবসায়ে নেতৃত্ব বিষয়ে চালু করা হয়েছে ‘আজিজ আহমদ ধারাবাহিক বক্তৃতামালা’।
নিউইয়র্ক সিটি কলেজ থেকে ত্বরিৎ প্রকৌশল বিষয়ে বিই এবং এমই ডিগ্রিধারী আজিজ আহমদ বছর কয়েক ধরে সিটি টেকনিক্যাল কলেজে এবং পেস ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনায়ও সময় দিচ্ছেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন