বাংলাদেশের স্বাস্থখাতে কতটুকু সেবা পাচ্ছে সাধারন জনগন?

18216 arifমোঃ আরিফুল ইসলাম : স্বল্পোন্নত দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের চিকিৎসা খাত বরাবরই ব্যার্থ এবং নিচের দিকে পড়ে থেকেছে। দেশের গ্রামাঞ্চলে এখনো জনসংখ্যার একটা বিশাল সংখ্যা আছেন যারা সঠিক এবং বৈঙ্গানিক উপায়ে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত বা বলা যায় চিকিৎসাটা তাদের ঘরে পৌছায় না। এতে করে একদিকে মানুষ বিপদ আপদ অসুখে কবিরাজ হেকিম হুজুর ফকিরদের কাছে পানি পড়া তাবিজ কবজে অটল বিশ্বাস করছে এবং একেই সর্বোৎম চিকিৎসা হিসেবে ধরে নিচ্ছে।

বেশ কয়েকটা গ্রামে দেখেছি ব্রেন স্ট্রোক হার্ট স্ট্রোক হয়ে যখন রোগী নিজের শারীরিক মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে গ্রামের মানুষ সেটাকে হাতে পায়ো বাতাস লাগা মুখের বাকা হওয়াকে জ্বীনের বদ আছর বলে ধরে নেয়া এবং অস্বাভাবিক ভাবে আক্রান্ত জায়গায় ঝাড় ফুক করতে। তারা জানেই না স্ট্রোক বলেও কিছু আছে।

এক সময় ডায়রিয়া কলেরা তেও মানুষ মারা যেতো। অথচ বাংলাদেশে সরকারী আওতাধীন ২২ টি সরকারী মেডিকেল কলেজ থেকে ২ হাজার এবং বেসরকারী ৫৩ টি কলেজ থেকে ৪ হাজার নতুন ডাক্তার পাশ করে বেরুচ্ছেন।এছাড়া ৯ টি পাবলিক ডেন্টাল কলেজ থেকে ৫৫০ জন ডেন্টিস্ট বের হচ্ছেন(সূত্রঃইন্টারনেট)।

সরকারী জেনারেল হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল,উপজেলা, ইউনিয়ন স্বাস্থ কমপ্লেক্স গুলোতে বরাবরই ডাক্তার সংকট প্রকোপ। আর প্রত্যেকটা হাসপাতাল ঘিরেই এখন তৈরি হচ্ছে অগনিত ডায়গনস্টিক সেন্টারে।সরকারী হাসপাতাল গুলোর ডাক্তাররাই এগুলো পরিচালনা করে থাকে। এরা অপারেশন, নাস্তার নাম করে সরকারী বেতনের সময়গুলো ব্যায় করেন মুনাফাখোর ডায়গনস্টিক সেন্টার গুলোতে। এক্সরে মেশিন ছোট খাটো ল্যাব নিয়ে এই ডায়গনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠে। রাজধানী ঢাকাতেও এর সংখ্যা কম নয়। চরম বাস্তবতা হলো সরকারী চিকিৎসালয় ঢাকা মেডিকেল,সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল সহ সরকারী বড় হাসপাতাল গুলোতে হয় সেবার মান খারাপ নাহয় অযথা রাজ্যের হয়রানি।যার কারনে যদের কাছে মোটামুটি পরিমান অর্থ আছে তারা এ্যাপোলো, স্কোয়ারে না যেতে পরলেও এসব মানহীন ডায়গনস্টিক সেন্টারে যান।

গত মাসে একটা রিপোর্টে দেখছিলাম বেশিরভাগ সরকারী মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা পাশ করে উক্ত মেডিকেলেই চাকরি করেন সেখানে বেসরকারী হতে পাশ করা কম সংখ্যক চিকিৎসকই চাকরি করতে পারেন। বলা হয়েছে বেসরকারী বেশিরভাগ কলেজের শিক্ষার মান খুব খারাপ। এরা আবার অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হবার কারনে চাকরি না পেয়ে প্রাইভেট ডায়গনস্টিক সেন্টার দিয়ে ফার্মেসি এবং প্রাকটিস দুটোই চালিয়ে যান। আবার সরকারী চাকুরেদের নিজের বিলাসিতা ভবিষ্যৎ চিন্তা সহ বিভীন্ন কারনে এরা গ্রামের হাসপাতাল গুলোতে যেতে চান না। ফলে হাজার ডাক্তার পাশ করে বের হলেও দেশের জনগনের বড় একটা অংশ চিকিৎসাহীন থেকে যান।

যারা টাকা খরচ করতে পারেনা তারা শেষ ভরষা হিসেবে ঝাড়ফুক পানিপড়ার উপর আস্থা রাখেন। অথচ এরকম রোগেরই চিকিৎসা বড় লোকেরা দোর গোড়ায় পাচ্ছে খুব সহজেই। ডাক্তারি পেশাটা বর্তমানে একরকম টাকা কামানোর পেশা হয়ে গেছে। মানব সেবার লক্ষে চিকিৎসার ব্রত এখন আর ডাক্তারদের মাঝে নেই। অথচ সকল মানুষকে স্বাস্থ সচেতন করে তোলাই এদের কাজ হওয়া উচিৎ ছিলো।

অদূর ভবিষ্যতে চিকিৎসা শুধু বড়লোকের হবেনা এটা সকলের জন্য হবে বলে আশা রাখছি। সরকার বারবার উদ্যোগ নিয়েছে এসব মুনাফালোভী ডায়গনস্টিক রুপী কসাইখনা বন্ধ করার জন্য তবে সেটা আসলে কতটুকু করা গেছে সেটাও দেখা উচিৎ। স্বাস্থ সচেতনতায় গন আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবী। শিক্ষা প্রযুক্তির সাথে সাথে চিকিৎসা এবং স্বাস্থ সচেতন এবং একে উন্নত করার উদ্যোগ সবাইকে নিতে হবে আর এটার মূল উদ্দোগটা ডাক্তারদের থেকেই শুরু করতে হবে।চিকিৎসা হোক সেবার লক্ষে, ঠকানো মুনাফার জন্য নয়।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন