ভাষা ও জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হতে হবে: সিপিবি-বাসদ এর আলোচনা সভায় কমরেড সেলিম

19216 basodসময় বাংলা,ঢাকা : বাংলাদেশেল সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে সিপিবি-বাসদের প্রাক একুশে আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে সিপিবি সভাপতি কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, ভাষা আন্দোলন ছিল বাংলা ভাষাসহ সকল ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জনগণের জাতীয় মুক্তির সংগ্রামের জন্য লড়াই। উগ্র জাতি বিদ্বেষ ও সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের ধারায় এই আন্দোলন পরিচালিত হয়নি। কিন্তু এখন বর্তমান শাসকশ্রেণী দেশের অন্য জাতি ও ভাষার ওপর বাঙালির যে আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে, সেই আধিপত্যবাদী তৎপরতা একুশের চেতনার সাথে সংঘাতপূর্ণ, তাই একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সকল ভাষা ও জাতির অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হতে হবে। 

আজ ১৯ ফেব্রুয়ারী বিকেলে মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ-এর উদ্যোগে বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. শাহ আলম, বাসদ-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ আলোচনা করেন। আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লাবলু।

কমরেড সেলিম আরো বলেন, কমিউনিস্ট-বামপন্থীরাই ভাষা আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিয়ে সঠিকপথে অগ্রসর করেছেন এবং পূর্ণতার দিকে নিয়ে গেছেন। ভাষা আন্দোলন যাতে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের ধারায় পরিচালিত না হয়ে প্রগতিশীল ধারায় পরিচালিত হয় তার জন্য বামপন্থীরা সবসময় সক্রিয় ছিলেন। সব ধরনের আপসকামীতা, পিছুটান ও দ্যোদুল্যমানতার বিরুদ্ধে বামপন্থীরা সোচ্চার ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের সঠিক দাবি নির্ধারণে, মেহনতি মানুষকে আন্দোলনে সমবেত করতে বামপন্থীরা দৃঢ়ভাবে ভূমিকা পালন করেছেন। কমিউনিস্ট-বামপন্থীদের ভূমিকা বাদ দিয়ে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নির্মাণ একেবারেই অসম্ভব। কমরেড সেলিম বলেন, জাতীয় মুক্তি, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদির জন্য সংগ্রামে বিজয় অর্জন করতে হলে একই সঙ্গে রুটি-রুজির দাবিতে শ্রেণি সংগ্রাম এগিয়ে নিতে হবে। তিনি একুশের চেতনার প্রতি সম্মানের প্রমাণ হিসেবে বিএনপিকে জামাত সংসর্গ ত্যাগ করতে ও আওয়ামী লীগকে জামাত নিষিদ্ধ করার জন্য আহবান জানান।

কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, আমাদের সকল লড়াই-সংগ্রামে ভাষা আন্দোলন প্রেরণা জোগায়। ভাষার জন্য লড়াই করে ২১ শে ফেব্রুয়ারি এখন ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু সর্বস্তরে এখনো বাংলা ভাষা চালু হয়নি। সকলের শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একদিকে বাংলা এখনো অন্য ভাষা ও সংস্কৃতির আধিপত্যের শিকার। আবার একই সাথে বাংলার আধিপত্যের শিকার হচ্ছে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভাষা ও সংস্কৃতি। 

কমরেড শাহ আলম বলেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপি গণতন্ত্র দেবে না। বামপন্থীদেরই গণতন্ত্রের লড়াইকে অগ্রসর করতে হবে। জাতীয় ও শ্রেণি কর্তব্যের যোগসূত্র ঘটাতে হবে। 
কমরেড ফিরোজ বলেন, ভাষা আন্দোলন ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ, প্রতিক্রিয়াশীলতাকে নাকচ করে দিয়েছিল। এখন হয়ে উঠেছে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
কমরেড লাবলু বলেন, আমাদের মুক্তি অর্জনের কাজ এখনো পূর্ণ হয়নি। একুশ এখনো আমাদের পথ দেখায়।
আলোচনা সভার শুরুতে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন