‘স্পেশাল ইকোনোমিক জোন’ করার সিন্ধান্ত বাতিল না করায় সিপিবি’র উদ্বেগও ক্ষোভ

cpbসময় বাংলা ঢাকা : গতকাল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমদ এক বিবৃতিতে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটে চাঁন্দপুর-বেগমখান চা বাগানের ফসলি কৃষি জমি থেকে চা শ্রমিকদের উচ্ছেদ করে ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ করার সিন্ধান্ত বাতিল না করায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ চাঁন্দপুর-বেগমখান চা বাগানের কৃষি জমিতে ইকোনোমিক জোন করে চা শ্রমিকদের উচ্ছেদ করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ১৫০ বছর ধরে চা শ্রমিকেরা ঝোপ-ঝাড় পরিষ্কার করে যে আবাদি জমি তৈরি করেছে তা কোনমতেই  সরকার কেড়ে নিতে পারে না। এটা চা শ্রমিকদের অধিকার। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বাগানের কৃষি জমিকে অকৃষি দেখিয়ে সেখানে ইকোনোমিক জোন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে যে জোন করতে চাইছে তাতে কোন দিনই চা শ্রমিকসহ জনগণ তথা দেশবাসীর লাভ হবে না।

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে জাতিসংঘের চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ পুরষ্কারে ভূষিত হয়ে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কৃষি জমিতে কলকারখানা স্থাপন না করার ঘোষণা দেন। এছাড়াও কৃষি জমিতে শিল্প কারখানা স্থাপন দেশের বিদ্যমান কৃষি জমি ব্যবহার আইনের পরিপন্থী।
নেতৃবৃন্দ বলেন, চা বাগানের এ জমিগুলো দো-ফসলী অর্থাৎ বছরে দুইবার ধান হয়। এ ধানের উপর নির্ভরশীল চা শ্রমিক পরিবারগুলো।

সিপিবি নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন রেখে বলেন, আশেপাশে প্রচুর অনাবাদী জমি থাকলেও সেখানে ইকোনমিক জোন না করে কৃষি জমিতে এ জোন কেন করতে হবে?
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, গত ২১ জানুয়ারি রাজধানীতে সিপিবিসহ বিভিন্ন সংগঠন বেজা কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ জনবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছিল। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, অবিলম্বে চান্দপুর-বেগমখান চা বাগানের কৃষি জমিতে ইকোনমিক জোন করার এ অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বাতিল করা না হলে কঠোর কর্মসূচী দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন