বাংলাদেশ ব্যাংকের হঠাৎ বিপুল লোকসান

bd bank picসময় বাংলা ডেস্ক, ঢাকা:  বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে লোকসান হয়েছে ৪,১৫১ কোটি টাকা।

এছাড়া দীর্ঘদিন লাভে থাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সময়ে নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ২,৬২২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৪-১৫ এর বার্ষিক  প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্লথগতি ও ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার কারণে এমনটি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বিপুল অর্থ লোকসানের খবর এমন সময় প্রকাশ হলো যখন নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ডলারের বেশি অর্থ লোপাটের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাংক হ্যাকিংয়ের ওই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা/দের যোগসাজশ থাকতে পারে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফরেক্স রিজার্ভ হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিদেশি মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে বেচাকেনা থেকে লোকসান হয়েছে ৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। বিদেশি মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে অর্থবছর শেষে লোকসান হয়েছে ৩ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। স্বর্ণ ও রৌপ্যের পুনর্মূল্যায়নের ফলে লোকসান হয়েছে যথাক্রমে ৪৮২ কোটি ও ৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ফলে রিজার্ভ থেকে লোকসান দাঁড়িয়েছে মোট ৪,১৫১ কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ কার্যালয়ের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, মুদ্রার অবমূল্যায়নে এমনটি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে ডলারের দাম তো সেভাবে কমেনি। বাংলাদেশের রিজার্ভ এখন অনেক হয়ে গেছে, অর্থনীতিও বড় হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের অফিস সময়ে ট্রেড করে তো ভালো কিছু করা যাবে না। সপ্তাহের সাতদিনই ২৪ ঘণ্টা ফরেক্স ট্রেড খোলা থাকা উচিত। এজন্য পৃথক প্রশিক্ষিত জনবলও থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে যে ধরনের  ব্যবস্থাপনা চলছে, তা দিয়ে তো ভালো কিছু আশা করা যায় না। ফলে লোকসান হবেই। তবে বাংলাদেশের মতো দেশের ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগে ঝুঁকি নিতেই হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফা হয় ৫৯৮ কোটি টাকা। ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে ৫৩০ কোটি, ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে ৬৩৪ কোটি, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে ৭৭০ কোটি, ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে ৭৮৬ কোটি ও ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে ৭৯৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়। ২০০০-০১ অর্থবছরে ৭১৫ কোটি, ২০০১-০২ অর্থবছরে ৯৪৯ কোটি, ২০০২-০৩ অর্থবছরে ৭৬০ কোটি, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ৯৩৯ কোটি, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১,৮৯১ কোটি, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ২ হাজার ৪০৪ কোটি, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ৩,৪৬০ কোটি, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৩,১৫২ কোটি, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ২, ৫০৫ কোটি, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১,২৮৭ কোটি, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৮,৮৪২ কোটি, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৭,০৩১ কোটি, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৩০৪ কোটি, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩, ৩৫১ কোটি টাকা নিট মুনাফা হয়।

তবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে নিট লোকসান দাঁড়ায় ২,৬২২ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নিট মুনাফা হিসাব করা হয় রিজার্ভের মুনাফা বা লোকসান ধরে। তবে চূড়ান্ত হিসাবে রিজার্ভের হিসাব থাকে না। ফলে সরকারকে মুনাফা ও কর্মকর্তাদের বোনাস দেয়া সম্ভব হয়। চূড়ান্ত হিসাবে রিজার্ভের হিসাব থাকলে মুনাফা বা বোনাস দেয়া সম্ভব হতো না।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে ফরেক্স ট্রেড হয় শুধু অফিস সময়ে। এ সময় পৃথিবীর বড় অর্থনীতির দেশগুলোয় ট্রেড বন্ধ থাকে। ফলে লোকসান আরো বেড়েছে।

ওই কর্মকর্তারা জানান, ২৪ ঘণ্টা ট্রেডিং চালু থাকলে রিজার্ভে হ্যাকিংয়ের ঘটনাও রোধ করা যেত। কারণ বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক থেকে আসা অ্যালার্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানতে পেরেছে রবিবার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন অবশ্য বলেন, যখন রিজার্ভ থেকে ভালো মুনাফা হয়েছিল, তখন তো ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার বিষয়টি আসেনি। কর্মকর্তাদের দক্ষতা নিয়েও কোনো প্রশ্ন নেই। বিশ্বব্যাপী সুদের হার কমছে, অনেক দেশে মাইনাসও হয়ে গেছে। স্বর্ণের দামও কমছে, বিনিয়োগে থাকা অন্যান্য মুদ্রার মানও কমছে। ফলে রিজার্ভ থেকে লোকসান হয়েছে। তবে বিশ্বের সঙ্গে সময় মিলিয়ে ফরেক্স ট্রেড অফিস সময়ের বাইরেও চালু থাকা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন