রিজার্ভের টাকা চুরি: ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকে সুইফট প্রতিনিধিরা

it team swiftসময় বাংলা, ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় সুইফট প্রতিনিধিরা ঢাকায় তাদের সিস্টেম পরীক্ষার কাজ করছেন।

সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশনের (সুইফট) দু’জন এই কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা।

আজ শনিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই মুখপাত্র বলেন, “উনারা সুইফটের সিস্টেম পরীক্ষা করে দেখবেন। সেখানে কোনো ত্রুটি আছে কি না বা কোনো আপগ্রেডেশন দরকার আছে কি না।

“এছাড়া রিজার্ভের অর্থ কীভাবে সরানো হয়েছে বা এই অর্থ সরাতে সুফইট মেসেজ কীভাবে ব্যবহার হয়েছে, সে বিষয়টিও তারা দেখবেন।”

গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসা এই দুজনে নাম ও পদবী বা তারা সুইফটের কোন অফিসের কর্মকর্তা, তা প্রকাশ করতে চাননি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র।

সুইফট হচ্ছে আন্তর্জাতিক লেনদেনের মাধ্যম। সারা বিশ্বের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এর সদস্য।

এক দেশ থেকে আরেক দেশে সুইফটের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর হয়ে থাকে। এজন্য সুইফট প্রত্যেকটি সদস্যকে একটি নির্দিষ্ট কোড ও সিস্টেম ব্যবহারের জন্য গোপন নম্বর (পিন) দিয়ে থাকে।

গত মাসে সুইফট মেসেজ পাঠিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ফিলিফিন্স ও শ্রীলঙ্কায় ১০ কোটি ডলার সরানো হয়।

তবে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে অর্থ স্থানান্তরের ওই বার্তা পাঠানো হয়েছিল।

আলোচিত এই ঘটনার ৪০ দিন পর মামলা হলে তার তদন্তে নেমেছে পুলিশের সিআইডি। পুরো ঘটনা তদন্তে সরকারের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সুইফটের প্রতিনিধিরা নিজেদের সিস্টেম পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার গঠিত তদন্ত দলের সঙ্গেও বৈঠক করবে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের অর্থ চুরির এই ঘটনা দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইও তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

সিআইডি ইতোমধ্যে জানিয়েছিল, তারা রোববার ঢাকায় এফবিআই প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করবেন।

তদন্তে সহযোগিতা করতে ওয়াশিংটন তৈরি বলে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসও জানিয়েছিল।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন