রিমান্ড শেষে কারাগারে ছাত্রদল নেতার ‍মৃত্যু

সময়বাংলা, ঢাকা: কারাগারে অসুস্থ হয়ে ঢাকার তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি জাকির হোসেন মিলন (৩২) মারা গেছেন। সোমবার কারাগার থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. আলাউদ্দীন জানান, তিনি মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে এসেছেন। তিনি হৃদরোগে মারা গেছেন।

হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া বলেন, কারারক্ষীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক জাকিরকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানেতার মরদেহ ঢামেক মর্গে রয়েছে।

মিলনের দুলাভাই রাশেদুল হক জানান, মিলনের বাড়ি শরীয়তপুরের সফিপুর উপজেলার বাহাউদ্দিন মুন্সিকান্দি গ্রামে। গাজীপুরে টঙ্গি এলাকায় স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকতেন মিলন।

মিলনের স্বজনরা জানান, গত ৬ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধন থেকে ফেরার পথে শাহবাগ থানা পুলিশ মিলনকে গ্রেফতার করে। তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। শনিবার রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর একদিন পরই মারা যান মিলন।

কারারক্ষী মো. হানিফ বলেন, ভোরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কারা কর্মকর্তা বলেন, ৬ মার্চে গ্রেফতার হওয়া মিলনকে গতকাল কারাগারে পাঠানো হয়। গতকাল রাত থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। ভোরেই তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, পুলিশি রিমান্ডে নির্যাতনে কারাগারে ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, রিমান্ডে পুলিশের নির্যাতনেই মিলনের মৃত্যু হয়েছে।

শাহবাগ থানার ওসি অাবুল হাসান বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর সুস্থ অবস্থায় তাকে অাদালতে পাঠানো হয়েছে। তার ওপর কোনো নির্যাতন চালানো হয়নি।

ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপ‌তি মামুনুর র‌শিদ মামুন বলেন, পু‌লি‌শি নির্যাত‌নে মিল‌নের মৃত্যু হ‌য়ে‌ছে। এ হত্য‌ার সুষ্ঠু বিচার চাই।

পরে গণমাধ্যম পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, এ সরকার এখন জেলেও ছাত্রদল নেতাকর্মীদেরকে হত্যার উল্লাসে মেতে উঠেছে। ছাত্রদল নেতা মিলনকে রিমান্ডে নিয়ে যেভাবে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হলো- তা কোনো সভ্য দেশের সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না। আইনকে এখন বিরোধী নেতাকর্মীদেরকে হত্যার জন্য ব‌্যবহার করা হচ্ছে।

তারা আরো বলেন, এসব ঘটনার বিচার একদিন নিশ্চয়ই হবে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।

নেতারা অবিলম্বে জাকির হোসেন মিলনকে যারা হত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান। এছাড়া নিহত জাকির হোসেন মিলনের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তারা।

সময় বাংলা/আইসা

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর