দেশের সুসংবাদে যেমন শান্তি পাই আবার দুঃসংবাদের শিরনাম দেখে খুবি কষ্ট পাই

এম এইচ জুয়েল, বাহরাইন: জীবন জীবিকার প্রয়োজনে বাংলাদেশ ছেড়ে দূর প্রবাসে । প্রবাসী আছি ঠিকই,কিন্ত মন থাকে দেশে আর দেহটা আছে প্রবাসে। শত কর্ম ব্যস্ততা, এর মাঝেও দেশের সংবাদ জানার জন্য বেশি ব্যস্ত থাকি। সংবাদ জানার জন্য প্রবাসীদের এক মাত্রবাহক বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল । যখন কোন দুঃসংবাদ এর শিরোনাম দেখি খুব কষ্ট পাই।

গত কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া দুঃসংবাদ ছিলো, গজারিয়ার মেধাবী কলেজ ছাত্রী ছনিয়াকে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় দুর্বৃত্তরা দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যা করে।
গজারিয়ার ডিস ব্যবসায়ী এক যুবক কে হাতুড়ি দিয়ে পিটায়ে হত্যা করে।

নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জে মসজিদের ভেতর নামাজ পড়া অবস্থায় ইমাম আবদুল মজিদ মুন্সীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

এরকম অসংখ্য ভয়াবহ নৃশংসতা সংবাদ গুলো সামাজিক গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফেসবুকে অনেকে স্ট্যাটাস দিয়েছে মানুষের মানবতা হারিয়ে গেছে। মানুষ আজ জানোয়ারে পরিনিত হয়ে গেছে।

যখন চারদিকে মানুষের মানবতা লুন্ঠিত হচ্ছে, ঠিক এই সময়ে মানবতার দূত হয়ে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে কিছু মহা মানব। তাদের মতো মহা মানব আছে বলেই পৃথিবী আজও টিকে আছে।

মুল ঘটনায় আসি:
অনাথ হাবিবা ৬ বছর বয়সে ঠাঁই হয় ব্রাহ্মণবাড়ি সরকারী শিশু পরিবারে। মা বাবা কেউ নেই হাবিবার, এক যুগ কেটেছে শিশু পরিবারে। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ১৮ বছরের পর আর শিশু পরিবারে থাকা যাবে না। তা হলে কোথায় যাবে হাবিবা?

এই সময় দেবদুতের মতো হাত বাড়িয়ে দিলেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। অনাথ হাবিবার অভিভাবকত্ব গ্রহন করে, হাবিবার বরকে পুলিশের চাকরি দিয়ে ধুমধামে বিয়ে দিয়ে দিলেন।

আরেক দেব দুত গজারিয়ার সন্তান পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ হোসেন জীবন বাজি রেখে মৃত্যুর মুখ থেকে অর্ধশত বাস যাত্রীদের উদ্ধার করে দেখিয়ে দিয়েছে মানবতা মরে যায়নি।

মানুষের বিবেক মানুষকে এখনও নাড়া দেয়। ধন্য মানবতা। জয় হোক মানবতার। বাংলার ঘরে ঘরে যেন জম্ম নেয় তোমাদের মতো মানবতার দুত। হাজারো সালাম তোমাদের।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন