“৭ই মার্চে আমার বাবা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নাই” শেখ হাসিনা

জাহিদ এফ সরদার সাদী: “৭ই মার্চে আমার বাবা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নাই” আর “২৫ মার্চের কালরাতেও শেখ মুজিব ‘স্বাধীনতার ঘোষনা’ দেওয়ার সুযোগ পায়নি” বললেন শেখ হাসিনা।

শেখ মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা তার এই খোলা মেলা গল্পের মধ্য দিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। ইতিহাস কিছুটা হলেও নতুন করে লেখার সময় এসেছে। ৭ মার্চ, শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষনা যে দেননি, সেটাও তিনি কার্যত বলেছেন, কেন দেননি, সেটার ও প্রেক্ষাপট বলেছেন।

সাতই মার্চের ভাষণ ঘিরে তখনকার ছাত্রলীগ নেতা সিরাজুল আলম খানের কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “ওই সময়ে আমাদের কিছু কিছু ছাত্র নেতা… তার মধ্যে অন্যতম সিরাজুল আলম খান আর তার সাথে তার কিছু সাঙ্গপাঙ্গ… তারা দোতলায় দাঁড়িয়ে আব্বাকে খুব বোঝাচ্ছেন যে, লিডার আজকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হবে। স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মানুষ নিরাশ হয়ে চলে যাবে।

“আব্বা শুধু একটা কথাই বলেছিলেন, ‘সিরাজ কী করতে হবে আমি খুব ভালো জানি। লিডার শ্যুড লিড দ্যা ল্যাড। ল্যাড শ্যুড নট… তোমরা প্রস্তুত থাক। তোমাদের কিছু করতে হবে না। কী করতে হবে সেটা আমি জানি।”

সাতই মার্চের ভাষণে শেখ মুজিব স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলে কূটনৈতিকভাবে বিশ্বে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসাবে পরিচিতি পেতেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি জানি না, তার (সিরাজুল আলম খান) এই কথাটা বলার পিছনে কী ছিল… এটা তো ঠিক, পাকিস্তানিরা হেলিকপ্টারে বোমা নিয়ে তৈরি।

“যখনই ঘোষণা দেবে, তারা বোমা মেরে ব্রাশ ফায়ার করবে। জালিয়ানওয়ালাবাগে (ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগের সমাবেশে ব্রিটিশ বাহিনীর হত্যাকাণ্ড) যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি পাকিস্তানি সেনাবাহিনী করত। আর কোনোদিন যেন আন্দোলন মাথাচাড়া দিতে না পারে।”

সাতই মার্চের ভাষণের পর রেসকোর্স থেকে বাসায় ফিরে সিরাজুল আলম খানের দেখা পান বলে জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠছি। তখনই দেখি সিরাজুল আলম খানসহ আমাদের কয়েকজন ছাত্র নেতা… সিরাজুল আলম খান বলছেন, ‘লিডার কী করলেন? আপনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে আসলেন না? মানুষ সব ফ্রাস্টেটেড হয়ে চলে গেছে’।

“আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। আমি বললাম, আপনি মিথ্যে কথা বলছেন কেন? আমি নিজেই তো সাক্ষী। আমার সাথে রেহানা আছে, ওয়াজেদ সাহেব আছে। কেউ তো ফ্রাস্টেটেড না। মানুষ তো মনে হল যেন খইয়ের মত ফুটছে।”

“সেদিনই স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে দলের ভেতরে ওই চাপের উদ্দেশ্য কী ছিল- সেই প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কিছু লোক বক্তৃতার আগে পরামর্শ, বক্তৃতার পরে এই কথা বলার পেছনে কী রহস্যটা থাকতে পারে, সেটা ৭৫ এর পরে বা পরবর্তীতে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখলে এখন মনে হয়। তারা যে সব সময় একটা ষড়যন্ত্রের সাথে ছিল; সেটা কিন্তু বোঝা যায়।”

জাহিদ এফ সরদার সাদী ভিডিওটি তার ফেসবুক পেইজে আপলোড করে স্ট্যাটাসটিতে প্রশ্ন করেন, “তাহলে বুবু ‘স্বাধীনতার ঘোষনা’ দিলেন কে??? তবে সেই প্রশ্নের উত্তর ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ের বন্ধনে আবদ্ধ।”

“আমি আশা করবো, হাসিনার পোষা নব্য ইতিহাসবিদরা এখন নতুন করে ভাববেন। পুরোনো কাসুন্দি ঘাটবেন ~ জাহিদ এফ সরদার সাদী।”

“জাতীয়তাবাদী বিশ্বাসী ভাই বোনরা হাসিনার নিজের মুখে বলা ঐতিহাসিক এই ভিডিওটি অবশ্যই সবাই দেখবেন আর শেয়ার করবেন।”

বাংলাদেশের তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক বৈদেশিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির বিশেষ দূত জাহিদ এফ সরদার সাদীর ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া পোষ্টটি হুবহু তুলে ধরা হল।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও :

 

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই সংবাদটি সময়বাংলা সম্পাদকীয় নীতিমালার আওতাভূক্ত নয়। সময়বাংলা এর কোন দায়ভার বহন করবেনা)

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর